১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা জ্বালানি তেল নিয়ে মজুতদারির অভিযোগ, কিন্তু দায় কার তেলের দামে উল্লম্ফন, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: যুদ্ধের লাভে শঙ্কিত পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলো লন্ডনে একা থাকা এখন বিলাসিতা: ভাড়া বাঁচাতে ৩৫ পেরিয়েও বাড়ছে রুমমেট সংস্কৃতি ইউরোপের প্রবৃদ্ধি সংকট: ঐক্যহীনতা ও সংস্কার জটিলতায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কেন ইরানের পক্ষে লাভজনক পিঁপড়াদের থ্রিডি জগত উন্মোচন, বিজ্ঞানীদের চোখে অবাক করা জীববৈচিত্র্যের মিছিল হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত

বিদেশি শ্রমিকেই ভরসা ইউরোজোন অর্থনীতি

ইউরোপীয় অর্থনীতির সামনে এক জটিল বাস্তবতা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে—কোভিড-১৯ মহামারি, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও ভোক্তা আস্থার পতন। এর সঙ্গে শ্রমবাজারেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মানুষ কম সময় কাজ করতে চাইছে, বাস্তব মজুরি কমেছে এবং জন্মহারও কমে যাওয়ায় স্থানীয় কর্মশক্তি সংকুচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)-এর সভাপতি ক্রিস্টিন লাগার্ড এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন—বিদেশি শ্রমিকদের প্রবাহই ইউরোজোন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে এবং নতুন গতি দিচ্ছে।

জ্যাকসন হোল সম্মেলনে লাগার্ডের বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আয়োজিত বিখ্যাত জ্যাকসন হোল অর্থনৈতিক নীতি সম্মেলনে শনিবার (২৩ আগস্ট) ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেন, গত কয়েক বছরে বিদেশি শ্রমিকরা ইউরোজোনে প্রবেশ করে শ্রমবাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন।
তাঁর ভাষায়, “যদিও তারা ২০২২ সালে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৯ শতাংশ ছিলেন, গত তিন বছরের শ্রমবাজার বৃদ্ধির অর্ধেকের কৃতিত্ব বিদেশি শ্রমিকদের।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই অবদান ছাড়া শ্রমবাজার আরও সংকুচিত হতো, উৎপাদন কমে যেত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

পরিসংখ্যান: বিদেশি শ্রমিকদের ভূমিকা
শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ: ইউরোজোনে ২০টি দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি শ্রমিকদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম হলেও তাদের অবদান প্রমাণ করেছে কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে অঞ্চলটি অভিবাসী শ্রমের ওপর।

জার্মানির চিত্র: লাগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, যদি বিদেশি শ্রমিকরা না থাকতেন তবে জার্মানির জিডিপি আজ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম হতো।

স্পেনের উন্নয়ন: স্পেনের মহামারি-পরবর্তী শক্তিশালী পুনরুদ্ধারেও বড় ভূমিকা রেখেছে বিদেশি শ্রমিকরা, যারা অর্থনীতির সেবা খাত ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখছেন।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: অভিবাসনের কারণে রেকর্ড জনসংখ্যা
২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫০.৪ মিলিয়নে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো নেট অভিবাসন। জন্মহার টানা চার বছর ধরে কমলেও অভিবাসীরা সেই ঘাটতি পূরণ করে ইউরোপের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখছে।
অন্যথায়, ইউরোপে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত হারে কমে যেত, যা অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিত।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: চাপে সরকারগুলো
অভিবাসন বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও এর ফলে ইউরোপীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক নাগরিক মনে করছেন, বিদেশি শ্রমিকরা স্থানীয় কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সাংস্কৃতিক পরিচয়ে প্রভাব ফেলছে এবং সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

জার্মানির উদাহরণ: নতুন জার্মান সরকার ভোটারদের চাপের মুখে পরিবার পুনর্মিলন ও শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এর মাধ্যমে তারা দক্ষিণপন্থী ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD) দলের বাড়তি জনপ্রিয়তার মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।

ডানপন্থী উত্থান: ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী দলগুলো অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে ভোটারদের আকর্ষণ করছে, যা মূলধারার দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তুলনামূলক প্রেক্ষাপট: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি
ইউরোপের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও অভিবাসন এখন তীব্র রাজনৈতিক ইস্যু। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বৃদ্ধি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং কয়েক লক্ষ অভিবাসীর বৈধ মর্যাদা বাতিল করেছেন।
এতে বোঝা যায়, শুধু ইউরোপ নয়, বরং বিশ্বের অনেক বড় অর্থনীতিতেই অভিবাসন একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা

বিদেশি শ্রমিকেই ভরসা ইউরোজোন অর্থনীতি

০১:৩২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ইউরোপীয় অর্থনীতির সামনে এক জটিল বাস্তবতা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে—কোভিড-১৯ মহামারি, জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও ভোক্তা আস্থার পতন। এর সঙ্গে শ্রমবাজারেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। মানুষ কম সময় কাজ করতে চাইছে, বাস্তব মজুরি কমেছে এবং জন্মহারও কমে যাওয়ায় স্থানীয় কর্মশক্তি সংকুচিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)-এর সভাপতি ক্রিস্টিন লাগার্ড এক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন—বিদেশি শ্রমিকদের প্রবাহই ইউরোজোন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে এবং নতুন গতি দিচ্ছে।

জ্যাকসন হোল সম্মেলনে লাগার্ডের বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আয়োজিত বিখ্যাত জ্যাকসন হোল অর্থনৈতিক নীতি সম্মেলনে শনিবার (২৩ আগস্ট) ক্রিস্টিন লাগার্ড বলেন, গত কয়েক বছরে বিদেশি শ্রমিকরা ইউরোজোনে প্রবেশ করে শ্রমবাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন।
তাঁর ভাষায়, “যদিও তারা ২০২২ সালে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৯ শতাংশ ছিলেন, গত তিন বছরের শ্রমবাজার বৃদ্ধির অর্ধেকের কৃতিত্ব বিদেশি শ্রমিকদের।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই অবদান ছাড়া শ্রমবাজার আরও সংকুচিত হতো, উৎপাদন কমে যেত এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

পরিসংখ্যান: বিদেশি শ্রমিকদের ভূমিকা
শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ: ইউরোজোনে ২০টি দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি শ্রমিকদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম হলেও তাদের অবদান প্রমাণ করেছে কতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে অঞ্চলটি অভিবাসী শ্রমের ওপর।

জার্মানির চিত্র: লাগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, যদি বিদেশি শ্রমিকরা না থাকতেন তবে জার্মানির জিডিপি আজ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম হতো।

স্পেনের উন্নয়ন: স্পেনের মহামারি-পরবর্তী শক্তিশালী পুনরুদ্ধারেও বড় ভূমিকা রেখেছে বিদেশি শ্রমিকরা, যারা অর্থনীতির সেবা খাত ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখছেন।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: অভিবাসনের কারণে রেকর্ড জনসংখ্যা
২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫০.৪ মিলিয়নে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এই বৃদ্ধির মূল কারণ হলো নেট অভিবাসন। জন্মহার টানা চার বছর ধরে কমলেও অভিবাসীরা সেই ঘাটতি পূরণ করে ইউরোপের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখছে।
অন্যথায়, ইউরোপে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত হারে কমে যেত, যা অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিত।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: চাপে সরকারগুলো
অভিবাসন বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও এর ফলে ইউরোপীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক নাগরিক মনে করছেন, বিদেশি শ্রমিকরা স্থানীয় কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সাংস্কৃতিক পরিচয়ে প্রভাব ফেলছে এবং সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

জার্মানির উদাহরণ: নতুন জার্মান সরকার ভোটারদের চাপের মুখে পরিবার পুনর্মিলন ও শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এর মাধ্যমে তারা দক্ষিণপন্থী ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD) দলের বাড়তি জনপ্রিয়তার মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।

ডানপন্থী উত্থান: ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী দলগুলো অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে ভোটারদের আকর্ষণ করছে, যা মূলধারার দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তুলনামূলক প্রেক্ষাপট: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি
ইউরোপের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও অভিবাসন এখন তীব্র রাজনৈতিক ইস্যু। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বৃদ্ধি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং কয়েক লক্ষ অভিবাসীর বৈধ মর্যাদা বাতিল করেছেন।
এতে বোঝা যায়, শুধু ইউরোপ নয়, বরং বিশ্বের অনেক বড় অর্থনীতিতেই অভিবাসন একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।