১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা জ্বালানি তেল নিয়ে মজুতদারির অভিযোগ, কিন্তু দায় কার তেলের দামে উল্লম্ফন, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: যুদ্ধের লাভে শঙ্কিত পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলো লন্ডনে একা থাকা এখন বিলাসিতা: ভাড়া বাঁচাতে ৩৫ পেরিয়েও বাড়ছে রুমমেট সংস্কৃতি ইউরোপের প্রবৃদ্ধি সংকট: ঐক্যহীনতা ও সংস্কার জটিলতায় ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কেন ইরানের পক্ষে লাভজনক পিঁপড়াদের থ্রিডি জগত উন্মোচন, বিজ্ঞানীদের চোখে অবাক করা জীববৈচিত্র্যের মিছিল হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত

সিউলকে স্থানীয়দের মতো ঘুরে দেখা

সিউল শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি সাংস্কৃতিক শক্তিকেন্দ্র। বিটিএস, ব্ল্যাকপিঙ্ক কিংবা জনপ্রিয় সিরিজ “স্কুইড গেম”-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই শহর সমানভাবে বিখ্যাত তাদের খাবার, সৌন্দর্যপণ্য এবং ঐতিহ্য–প্রযুক্তির মিশ্রণের জন্য।

ঐতিহাসিক জংনো এলাকা থেকে শুরু করে তরুণদের প্রাণবন্ত হংদে কিংবা সাইয়ের বিখ্যাত গান “গ্যাংনাম স্টাইল”-এ অনুপ্রাণিত গ্যাংনাম—সিউল এক অনিদ্র শহর। এখানে সুউচ্চ ভবন, নীয়ন আলো আর ব্যস্ত রাস্তাঘাটের মাঝেই রয়েছে অসংখ্য পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

যাতায়াত ব্যবস্থা: মেট্রো, বাস ও ট্যাক্সি
সিউলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যাতায়াত হলো মেট্রো রেল। ৩০০–এর বেশি স্টেশন নিয়ে এই সিস্টেম অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। যেমন, নীল লাইন ১ ব্যবহার করে ইনচন বা সুয়নের মতো শহরে যাওয়া যায় মাত্র ২ ডলারেরও কম খরচে।

বাস ও মেট্রোতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্রি ট্রান্সফার সুবিধা পাওয়া যায়। এজন্য স্থানীয় দোকান থেকে কিনে নেওয়া যায় টি–মানি কার্ড। এছাড়া, কাকাও টি অ্যাপ দিয়ে ট্যাক্সি ডাকাও বেশ জনপ্রিয়, কারণ অন্য অনেক দেশের তুলনায় কোরিয়ায় ট্যাক্সি ভাড়া কম।

খাবার ও পানীয়: বিবিম্বাপ, মাকগোলি ও কোরিয়ান বারবিকিউ
কোরিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো বিবিম্বাপ—ভাতের সঙ্গে ভাজা সবজি ও মশলাদার গোচুজাং সস। এর সেরা রূপ হলো “দলসট বিবিম্বাপ”, যেটি গরম পাথরের পাত্রে পরিবেশন করা হয়। দাম প্রায় ১০,০০০ উওন (প্রায় ৭ ডলার)।

এই খাবারের সঙ্গে মানিয়ে যায় মাকগোলি—কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী চালের তৈরি পানীয়। একসময় এটি বৃদ্ধদের পানীয় হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে তরুণদের মাঝেও সমান জনপ্রিয়। আধুনিক ঝলমলে সংস্করণ “বকসুন্ডোগা” স্পার্কলিং মাকগোলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উত্তর কোরিয়ার স্বাদ পেতে চাইলে উ লে ওক রেস্টুরেন্টে বুলগোগি (গ্রিল করা গরুর মাংস) ও ন্যাংমিয়ন (ঠান্ডা নুডলস) পাওয়া যায়।

এ ছাড়া কোরিয়ান বারবিকিউ একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা। গরুর মাংস ছাড়াও জনপ্রিয় হলো স্যামগ্যপসাল (শূকরের পেটের মাংস), যা কিমচি, সবজি, ভাত ও সসের সঙ্গে লেটুস পাতায় মুড়ে খাওয়া হয়। সাধারণত এর সঙ্গে থাকে সোজু ও বিয়ার।

দর্শনীয় স্থান: প্রাসাদ, মন্দির ও আধুনিক ক্যাফে
ঐতিহাসিক জংনো জেলা ঘুরে দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। এর মধ্যে চাংদেয়কগুং প্রাসাদ বিশেষভাবে মনোরম। কাছেই রয়েছে ক্যাফে অনিয়ন, যেটি একটি ঐতিহ্যবাহী হানক বাড়ি সংস্কার করে তৈরি।

শান্ত পরিবেশে হাঁটার জন্য জংমিয়ো মন্দির আদর্শ স্থান। চাইলে জোগইসা মন্দিরও ঘোরা যায়, যা বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে লণ্ঠনে সজ্জিত থাকে।

রাত হলে ইকসন–দং এলাকায় জমে ওঠে নাইটলাইফ। এখানে খাবারের দোকান, জ্যাজ ক্লাব, সমকামী বার ও ঐতিহ্যবাহী ঘর থেকে রূপান্তরিত ক্যাফে–পাব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়।

বন্ধুদের নিয়ে শহর ঘুরতে চাইলে গওয়াংজাং মার্কেট বা মাংগওয়ান মার্কেটের স্ট্রিট ফুড উপভোগ করে চংগেয়চন নদীর পাশ দিয়ে হাঁটা যায়, এরপর ইকসন–দং–এর বারে গিয়ে দিন শেষ করা যায়।

প্রকৃতির ছোঁয়া: পাহাড় ও কফির দোকান
সিউলের ভেতরেই একাধিক পাহাড় রয়েছে। বুকহানসান ন্যাশনাল পার্ক হাঁটাহাঁটির জন্য উপযুক্ত জায়গা। এখান থেকে পুরো শহরের দৃশ্য দেখা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার না চাইলে সানমোটুংগি ক্যাফেতে বসে পাহাড় দেখা ও কফি খাওয়ার অভিজ্ঞতাও অনন্য।

কেনাকাটা: কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্য থেকে সস্তা সুভেনির
কোরিয়ানরা ত্বকের যত্নে খুবই যত্নবান। এজন্য অলিভ ইয়ং স্টোরে পাওয়া যায় নানা ধরনের বিউটি প্রোডাক্ট।

রাতভর খোলা থাকে অটোমেটিক দোকানগুলো, যেখানে সেলফ–চেকআউটে স্ন্যাকস ও আইসক্রিম কেনা যায়।

সস্তায় উপহার কিনতে চাইলে ডাইসোতে ঢুঁ মারুন। হংদে এলাকার সাততলা শাখাটি বিশেষ জনপ্রিয়।

ভুল ধারণা: শুধু ফ্যাশন নয়, আরামও
কে–পপ তারকাদের প্রভাবে সিউলের মানুষদের নিয়ে অনেক সময় মনে হয় সবাই ফ্যাশনেবল। কিন্তু বাস্তবে অনেকে আরামকেই প্রাধান্য দেন। তাই বারকেনস্টক বা ক্রক্স–এর মতো স্যান্ডেলও মোজা পরে পরা এখানে ট্রেন্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসংক্ষেপ
জনসংখ্যা: ৯.৩ মিলিয়ন

কফির দাম: এডিয়া কফি শপে একটি আইসড আমেরিকানো ৩,২০০ উওন (প্রায় ২.৩ ডলার)

সূর্যাস্ত দেখার সেরা স্থান: হান নদীর তীরে বানপো ব্রিজ, যেখানে বসন্ত থেকে শরৎ পর্যন্ত রেইনবো ফোয়ারা শো হয়

সুভেনির: ডাইসো থেকে ২,০০০ উওনে ধাতব চপস্টিক্স

পানির দাম: সিজিইউ দোকানে জেজু সামদাসু পানির বোতল ১,১০০ উওন (প্রায় ০.৮০ ডলার)

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতায় পাকিস্তানের উত্থান: কূটনীতি থেকে ব্যবসায় নতুন শক্তির বার্তা

সিউলকে স্থানীয়দের মতো ঘুরে দেখা

০১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

সিউল শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি সাংস্কৃতিক শক্তিকেন্দ্র। বিটিএস, ব্ল্যাকপিঙ্ক কিংবা জনপ্রিয় সিরিজ “স্কুইড গেম”-এর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই শহর সমানভাবে বিখ্যাত তাদের খাবার, সৌন্দর্যপণ্য এবং ঐতিহ্য–প্রযুক্তির মিশ্রণের জন্য।

ঐতিহাসিক জংনো এলাকা থেকে শুরু করে তরুণদের প্রাণবন্ত হংদে কিংবা সাইয়ের বিখ্যাত গান “গ্যাংনাম স্টাইল”-এ অনুপ্রাণিত গ্যাংনাম—সিউল এক অনিদ্র শহর। এখানে সুউচ্চ ভবন, নীয়ন আলো আর ব্যস্ত রাস্তাঘাটের মাঝেই রয়েছে অসংখ্য পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

যাতায়াত ব্যবস্থা: মেট্রো, বাস ও ট্যাক্সি
সিউলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যাতায়াত হলো মেট্রো রেল। ৩০০–এর বেশি স্টেশন নিয়ে এই সিস্টেম অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। যেমন, নীল লাইন ১ ব্যবহার করে ইনচন বা সুয়নের মতো শহরে যাওয়া যায় মাত্র ২ ডলারেরও কম খরচে।

বাস ও মেট্রোতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্রি ট্রান্সফার সুবিধা পাওয়া যায়। এজন্য স্থানীয় দোকান থেকে কিনে নেওয়া যায় টি–মানি কার্ড। এছাড়া, কাকাও টি অ্যাপ দিয়ে ট্যাক্সি ডাকাও বেশ জনপ্রিয়, কারণ অন্য অনেক দেশের তুলনায় কোরিয়ায় ট্যাক্সি ভাড়া কম।

খাবার ও পানীয়: বিবিম্বাপ, মাকগোলি ও কোরিয়ান বারবিকিউ
কোরিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো বিবিম্বাপ—ভাতের সঙ্গে ভাজা সবজি ও মশলাদার গোচুজাং সস। এর সেরা রূপ হলো “দলসট বিবিম্বাপ”, যেটি গরম পাথরের পাত্রে পরিবেশন করা হয়। দাম প্রায় ১০,০০০ উওন (প্রায় ৭ ডলার)।

এই খাবারের সঙ্গে মানিয়ে যায় মাকগোলি—কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী চালের তৈরি পানীয়। একসময় এটি বৃদ্ধদের পানীয় হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে তরুণদের মাঝেও সমান জনপ্রিয়। আধুনিক ঝলমলে সংস্করণ “বকসুন্ডোগা” স্পার্কলিং মাকগোলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উত্তর কোরিয়ার স্বাদ পেতে চাইলে উ লে ওক রেস্টুরেন্টে বুলগোগি (গ্রিল করা গরুর মাংস) ও ন্যাংমিয়ন (ঠান্ডা নুডলস) পাওয়া যায়।

এ ছাড়া কোরিয়ান বারবিকিউ একটি সামাজিক অভিজ্ঞতা। গরুর মাংস ছাড়াও জনপ্রিয় হলো স্যামগ্যপসাল (শূকরের পেটের মাংস), যা কিমচি, সবজি, ভাত ও সসের সঙ্গে লেটুস পাতায় মুড়ে খাওয়া হয়। সাধারণত এর সঙ্গে থাকে সোজু ও বিয়ার।

দর্শনীয় স্থান: প্রাসাদ, মন্দির ও আধুনিক ক্যাফে
ঐতিহাসিক জংনো জেলা ঘুরে দেখার মতো জায়গায় ভরপুর। এর মধ্যে চাংদেয়কগুং প্রাসাদ বিশেষভাবে মনোরম। কাছেই রয়েছে ক্যাফে অনিয়ন, যেটি একটি ঐতিহ্যবাহী হানক বাড়ি সংস্কার করে তৈরি।

শান্ত পরিবেশে হাঁটার জন্য জংমিয়ো মন্দির আদর্শ স্থান। চাইলে জোগইসা মন্দিরও ঘোরা যায়, যা বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে লণ্ঠনে সজ্জিত থাকে।

রাত হলে ইকসন–দং এলাকায় জমে ওঠে নাইটলাইফ। এখানে খাবারের দোকান, জ্যাজ ক্লাব, সমকামী বার ও ঐতিহ্যবাহী ঘর থেকে রূপান্তরিত ক্যাফে–পাব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়।

বন্ধুদের নিয়ে শহর ঘুরতে চাইলে গওয়াংজাং মার্কেট বা মাংগওয়ান মার্কেটের স্ট্রিট ফুড উপভোগ করে চংগেয়চন নদীর পাশ দিয়ে হাঁটা যায়, এরপর ইকসন–দং–এর বারে গিয়ে দিন শেষ করা যায়।

প্রকৃতির ছোঁয়া: পাহাড় ও কফির দোকান
সিউলের ভেতরেই একাধিক পাহাড় রয়েছে। বুকহানসান ন্যাশনাল পার্ক হাঁটাহাঁটির জন্য উপযুক্ত জায়গা। এখান থেকে পুরো শহরের দৃশ্য দেখা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার না চাইলে সানমোটুংগি ক্যাফেতে বসে পাহাড় দেখা ও কফি খাওয়ার অভিজ্ঞতাও অনন্য।

কেনাকাটা: কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্য থেকে সস্তা সুভেনির
কোরিয়ানরা ত্বকের যত্নে খুবই যত্নবান। এজন্য অলিভ ইয়ং স্টোরে পাওয়া যায় নানা ধরনের বিউটি প্রোডাক্ট।

রাতভর খোলা থাকে অটোমেটিক দোকানগুলো, যেখানে সেলফ–চেকআউটে স্ন্যাকস ও আইসক্রিম কেনা যায়।

সস্তায় উপহার কিনতে চাইলে ডাইসোতে ঢুঁ মারুন। হংদে এলাকার সাততলা শাখাটি বিশেষ জনপ্রিয়।

ভুল ধারণা: শুধু ফ্যাশন নয়, আরামও
কে–পপ তারকাদের প্রভাবে সিউলের মানুষদের নিয়ে অনেক সময় মনে হয় সবাই ফ্যাশনেবল। কিন্তু বাস্তবে অনেকে আরামকেই প্রাধান্য দেন। তাই বারকেনস্টক বা ক্রক্স–এর মতো স্যান্ডেলও মোজা পরে পরা এখানে ট্রেন্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসংক্ষেপ
জনসংখ্যা: ৯.৩ মিলিয়ন

কফির দাম: এডিয়া কফি শপে একটি আইসড আমেরিকানো ৩,২০০ উওন (প্রায় ২.৩ ডলার)

সূর্যাস্ত দেখার সেরা স্থান: হান নদীর তীরে বানপো ব্রিজ, যেখানে বসন্ত থেকে শরৎ পর্যন্ত রেইনবো ফোয়ারা শো হয়

সুভেনির: ডাইসো থেকে ২,০০০ উওনে ধাতব চপস্টিক্স

পানির দাম: সিজিইউ দোকানে জেজু সামদাসু পানির বোতল ১,১০০ উওন (প্রায় ০.৮০ ডলার)