ফিলিপাইনের আর্কিপেলাগো জিন: স্থানীয় স্বাদের সংমিশ্রণ
ফিলিপাইনের আর্কিপেলাগো জিনকে আলাদা করে তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশীয় ফল ও ভেষজ উপাদান। ম্যাথিউ ওয়েস্টফল ও তার দল জিন তৈরির সময় আম, কালামানসি, ট্রপিক্যাল ফুল এবং অর্গানিক কালো বাঁশসহ নানা স্থানীয় উপাদান মিশিয়ে থাকেন। ডিস্টিলেশন শেষে ম্যানিলা নগরীর দক্ষিণে মাকিলিং পর্বতের আগ্নেয়গিরির স্তর থেকে সংগ্রহ করা পানি ব্যবহার করা হয়। এরপর ওক কাঠের পিপায় কয়েক মাস সংরক্ষণে রাখা হয়, যাতে স্বাদে পরিপক্বতা আসে, আবার সাইট্রাসের ঝাঁজও বজায় থাকে।
ওয়েস্টফল বলেন, এটি ফিলিপাইনের প্রথম প্রকৃত ক্র্যাফট ডিস্টিলারি, যা পরিবারিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বছরে তারা মাত্র ৫ হাজার কেস তৈরি করে, যার অর্ধেক রপ্তানি করা হয়। বিপরীতে শিল্পকারখানা পর্যায়ের উৎপাদকরা যেমন ‘গিনেব্রা সান মিগুয়েল’ কেবল ২০২৪ সালেই ৫০ মিলিয়ন কেস বিক্রি করেছে।
জিন শিল্পে প্রতিযোগিতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ
ফিলিপাইনসহ এশিয়ার দেশগুলোতে বড় উৎপাদকদের দাপট থাকলেও নতুন প্রজন্মের ছোট ডিস্টিলারিরা ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। জিনের বহুমুখী স্বাদই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ওয়েস্টফল বলেন, কোনো শর্টকাট নয়, কোনো ভেল্কিবাজি নয়—এটাই তাদের মূলনীতি। তার মতে, দেশে এখনও এক ধরনের উপনিবেশিক মানসিকতা কাজ করে, যেখানে মানুষ বিদেশি পণ্যকে শ্রেষ্ঠ মনে করে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জিনের চাহিদা বাড়ছে। মর্ডর ইন্টেলিজেন্স জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী বাজারের আকার ছিল ২৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালে পৌঁছাবে ২৯.৪৮ বিলিয়নে। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেই চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ব্রায়ান ডো ও থ্রি সোসাইটিস ডিস্টিলারি
দক্ষিণ কোরিয়ার ব্রায়ান ডো জিন উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। সিউলের উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি এলাকায় তার থ্রি সোসাইটিস ডিস্টিলারিতে মূলত হুইস্কি উৎপাদন হলেও তিনি জিনকেও যুক্ত করেছেন। হুইস্কি বছরের পর বছর কাঠের পিপায় পরিপক্ব করতে হয়, কিন্তু জিন দ্রুত বাজারজাত করা যায়।
তার তৈরি জিনের নাম “জুং ওয়ান”, যার অর্থ বাগান। এতে জুনিপার ও সাইট্রাস ছাড়াও স্থানীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পেরিলা পাতা, সানশো গোলমরিচ, জিনসেং ও পাইনগাছের পাতা। ডো বলেন, কোরিয়ান সমাজে এখন শুধু মাতাল হওয়ার জন্য মদ্যপান নয়, বরং মানসম্পন্ন ও অভিজ্ঞতামূলক পানীয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
বাজার ও নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা
প্রিমিয়াম জিনের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও নানা চ্যালেঞ্জ আছে। ডো বলেন, ট্যাক্স এত বেশি যে এটি বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি একই উপাদান দিয়ে সোজু তৈরি করতেন তবে কর ছাড় পাওয়া যেত এবং অনলাইনে বিক্রিও সম্ভব হতো। আরেকটি সমস্যা হলো ভোক্তার মানসিকতা। অধিকাংশ মানুষ এখনও বাড়তি দাম দিয়ে ক্র্যাফট জিন কিনতে চান না। জিন এখনও মূলত মার্টিনি, নেগ্রোনি কিংবা জিন-টনিকের মতো ককটেলের বেস হিসেবেই জনপ্রিয়।
ভবিষ্যৎ: ককটেল থেকে সিপিং লিকার
সিউলের বার মালিক ঋষি রামাচন্দ্রন বলেন, যদি জিনকে হুইস্কির মতো প্রিমিয়াম সিপিং লিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে এর ইমেজ পাল্টাতে হবে। নইলে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ভোগের ধারা ও এশিয়ার বাজার
বিশ্বের অনেক স্থানে অ্যালকোহল ভোগ কমছে, তবে এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ২০২৪ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ২ শতাংশ কমলেও ভারতে ৬ শতাংশ এবং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে ২ শতাংশ করে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি অ্যালকোহল ভোগ বৃদ্ধির বড় পূর্বাভাস। তবে জাপান, কোরিয়া ও চীনের মতো বার্ধক্যপ্রবণ সমাজে ভোগ কমতে পারে।
মান, স্বকীয়তা ও ক্র্যাফট জিনের উত্থান
মর্ডর ইন্টেলিজেন্স মনে করছে, ক্র্যাফট ডিস্টিলারদের জন্য এটি একটি সুযোগ। ভোক্তারা এখন গুণগত মান, স্বকীয়তা এবং সীমিত সংস্করণের গল্পকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রিমিয়াম জিনের বাজার ৫.৭৬ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়েস্টফলও আশাবাদী। তার মতে, ফিলিপাইনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি স্থানীয় ও মানসম্মত পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজন ছিল এবং এখন সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে
এশিয়ায় ক্র্যাফট জিন: স্বাদে নতুন সম্ভাবনা
-
সারাক্ষণ রিপোর্ট - ০২:২২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- 66
জনপ্রিয় সংবাদ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















