২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইউক্রেইন বহু ড্রোন হামলা চালিয়ে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি স্থান লক্ষ্য করে – কর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইউস্ট-লুগা তেল/জ্বালানি টার্মিনাল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসে অন্তত ৯৫টি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে।
কোর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক ড্রোন প্ল্যান্টের অক্সিলিয়ারি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে তৃতীয় রিয়্যাক্টরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫০% কমে যায়। তবে বিকিরণ বেড়ে যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
একই সময়ে, ফিনল্যান্ড উপসাগরে অবস্থিত ইউস্ট-লুগা টার্মিনালেও ড্রোন হামলার ঘটনায় বিশাল আগুন লাগে। এখানে গ্যাস কনডেন্সেট থেকে ন্যাফথা, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন তেলজাত দ্রব্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা হয়।
জানুয়ারি ২০২৫-এ ইউক্রেইনের আরেকটি ড্রোন হামলায় সিজরান শহরের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হলে এক শিশু আহত হয়েছিল। স্থানীয় গভর্নর এ তথ্য দিয়েছিলেন, যদিও বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (আইএইএ) এই হামলার খবর অবহিত হয়ে আবারও নিশ্চিত করেছে যে প্রতিটি পারমাণবিক স্থাপনাকে সুরক্ষিত রাখা আবশ্যক।
হামলার পর তেলের বাজারে উদ্বেগ দেখা দেয়: ব্রেন্ট ক্রুড ৬৭.৭৬ ডলার ও ডব্লিউটিআই ৬৩.৭৩ ডলার-এ পৌঁছায়।
কর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
উজ্জীবনের মাত্রা স্বাভাবিক ছিল এবং আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রিয়্যাক্টর নং ৩-এর উৎপাদন অর্ধেক কমে গেলেও, পারমাণবিক নিরাপত্তা অব্যাহত ছিল।
আইএইএ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—যেকোনো সময় পারমাণবিক স্থাপনা সুরক্ষায় থাকা বাঞ্ছনীয়।
ইউস্ট-লুগা টার্মিনালে আগুন
১০-এর কম ইউক্রেনীয় ড্রোন শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করলেও, তার অবশিষ্টাংশে তেল মজুত অবকাঠামোয় আগুন ধরে যায়।
নোভাটেক যেসব জ্বালানি তৈরি করে—যেমন লাইট ও হেভি ন্যাফথা, জেট ফুয়েল, ফুয়েল অয়েল—সেগুলোর উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়; ফলে এ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ে।
গভর্নরের রিপোর্ট এবং সামাজিক মাধ্যমে ফুটেজে দেখা যায় আগুনের ভয়াবহতা: অগ্নিকুণ্ড ও কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
সিজরান (স্যামারা অঞ্চল) হামলা
শিল্প স্থানে ড্রোন হামলায় এক শিশুর আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে ঘটনা ঘটেছে তা বলা হয়নি।
ইউক্রেইন জানিয়েছে—এই ধরণের হামলা প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ, যা রাশিয়ার অব্যাহত হামলা মোকাবেলায় মুখ্য অবকাঠামো নষ্ট করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়।
তেল বাজারে প্রভাব
হামলার প্রভাবে ক্রুড অয়েলের বাজার মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং সাপ্লাই ঝুঁকি বেড়ে যায়, কারণ প্রধান রুশ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি চাপ পড়ে, আর ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইউক্রেইনের ড্রোন হামলা কর্স্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইউস্ট-লুগা টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষতির ঘটনা ঘটায়। যদিও কোনো তীব্র বিস্ফোরণ বা বিকিরণ ঝুঁকি দেখা যায়নি, তবুও নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
উক্রেইনের ড্রোন হামলায় রুশ পারমাণবিক প্ল্যান্ট ও ইউস্ট-লুগা জ্বালানি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড
-
সারাক্ষণ রিপোর্ট - ১২:১৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- 134
জনপ্রিয় সংবাদ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















