১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
মানসিক যন্ত্রণার অবসান চান কানাডার নারী, ‘নিরাপদ মৃত্যু’ নিয়ে নতুন বিতর্ক ইউরোভিশন ফাইনালে চমক, বিতর্ক আর উন্মাদনা: ভিয়েনায় জমে উঠেছে সংগীতের মহারণ মোদির কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক, সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণ কমাতে বলছে ভারত সরকার আদানি ও ভাতিজার বিরুদ্ধে মার্কিন জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তি, জরিমানা ১৮ মিলিয়ন ডলার ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে আবারও রক্তপাত, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও থামছে না হামলা মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ভারতীয় হিপহপে ঝড় তুলছেন রেবল ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বাড়তে পারে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা হিজাব নিয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে বৈষম্যবিরোধী লড়াইয়ে হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করছে না ইরান, আলোচনায় শর্ত দিল তেহরান রাউল কাস্ত্রোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে কিউবায় নতুন উত্তেজনা

জাতিসংঘ কর্মীদের চাপ: গাজায় গণহত্যা ঘোষণা করার আহ্বান

কর্মীদের যৌথ চিঠি
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভল্কার ট্যুর্ককে লেখা এক চিঠিতে জাতিসংঘের শত শত কর্মী গাজায় চলমান যুদ্ধকে স্পষ্টভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্সের হাতে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে আইনগতভাবে গণহত্যার শর্ত পূরণ হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে গাজার হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতার দিকগুলো উল্লেখ করা হয়।

চিঠিটি ৫০০ জনের বেশি কর্মীর পক্ষে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের স্টাফ কমিটি পাঠায়। এতে বলা হয়, “গণহত্যা চলতে থাকা অবস্থায় তা নিন্দা করতে ব্যর্থ হওয়া জাতিসংঘ ও গোটা মানবাধিকার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দেবে।”

রুয়ান্ডা অভিজ্ঞতার উল্লেখ
চিঠিতে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যায় জাতিসংঘের ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, সেই সময় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় লাখো মানুষ প্রাণ হারায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নীরব থাকা একই ধরনের নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে।

জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হাইকমিশনার ট্যুর্কের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, কোনো ঘটনার আইনি স্বীকৃতি হিসেবে ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র যথাযথ আইনি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে শুধু জানায়, জাতিসংঘ কর্মীদের অভ্যন্তরীণ চিঠির জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।

ইসরায়েল আগেও গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা আত্মরক্ষার জন্য সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

গাজার পরিস্থিতি
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজার কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আগেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। এমনকি জাতিসংঘের এক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ-ও ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তবে জাতিসংঘ নিজে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে। তবে মামলাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শোনা শুরু হয়নি, যা সম্পূর্ণ হতে কয়েক বছর লাগতে পারে।

ভেতরের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রবিনা শমদাসানি বলেছেন, “গাজার পরিস্থিতি আমাদের ভেতর থেকে আলোড়িত করেছে। আমরা জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

হাইকমিশনার ট্যুর্কও কর্মীদের চিঠিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই একই ধরনের নৈতিক ক্ষোভ ও হতাশা অনুভব করছি। কিন্তু আমাদের একসঙ্গে থেকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

মানসিক যন্ত্রণার অবসান চান কানাডার নারী, ‘নিরাপদ মৃত্যু’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

জাতিসংঘ কর্মীদের চাপ: গাজায় গণহত্যা ঘোষণা করার আহ্বান

০৩:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

কর্মীদের যৌথ চিঠি
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভল্কার ট্যুর্ককে লেখা এক চিঠিতে জাতিসংঘের শত শত কর্মী গাজায় চলমান যুদ্ধকে স্পষ্টভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। রয়টার্সের হাতে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে আইনগতভাবে গণহত্যার শর্ত পূরণ হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে গাজার হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতার দিকগুলো উল্লেখ করা হয়।

চিঠিটি ৫০০ জনের বেশি কর্মীর পক্ষে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের স্টাফ কমিটি পাঠায়। এতে বলা হয়, “গণহত্যা চলতে থাকা অবস্থায় তা নিন্দা করতে ব্যর্থ হওয়া জাতিসংঘ ও গোটা মানবাধিকার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দেবে।”

রুয়ান্ডা অভিজ্ঞতার উল্লেখ
চিঠিতে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যায় জাতিসংঘের ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, সেই সময় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় লাখো মানুষ প্রাণ হারায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নীরব থাকা একই ধরনের নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে।

জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হাইকমিশনার ট্যুর্কের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, কোনো ঘটনার আইনি স্বীকৃতি হিসেবে ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র যথাযথ আইনি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে শুধু জানায়, জাতিসংঘ কর্মীদের অভ্যন্তরীণ চিঠির জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।

ইসরায়েল আগেও গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা আত্মরক্ষার জন্য সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

গাজার পরিস্থিতি
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজার কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আগেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। এমনকি জাতিসংঘের এক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা আলবানিজ-ও ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তবে জাতিসংঘ নিজে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করেছে। তবে মামলাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শোনা শুরু হয়নি, যা সম্পূর্ণ হতে কয়েক বছর লাগতে পারে।

ভেতরের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রবিনা শমদাসানি বলেছেন, “গাজার পরিস্থিতি আমাদের ভেতর থেকে আলোড়িত করেছে। আমরা জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সতর্কবার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

হাইকমিশনার ট্যুর্কও কর্মীদের চিঠিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই একই ধরনের নৈতিক ক্ষোভ ও হতাশা অনুভব করছি। কিন্তু আমাদের একসঙ্গে থেকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।”