০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি ‘ফেডএক্স পার্সেলে মাদক’-ফোনকলেই ফাঁদে পড়লেন ভারতীয় কৌতুকশিল্পী চীন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র: নতুন এক ত্রিভুজ রাজনীতির সূচনা? গাজার নীরব কারাগার আর বিশ্বের বিবেকহীনতা রুপির সংকট শুধু মুদ্রার নয়, আস্থারও পরীক্ষা ঢাকার পশুর হাট ইজারায় বিএনপির প্রাধান্য, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে জামায়াত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা শান্তিনগরের শপিং মলে আগুন, দগ্ধ চারজন হাসপাতালে ভারতে ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অচল বান্দা, সকাল ১০টার পরই থেমে যায় জনজীবন তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে বড় শঙ্কা

মিয়ানমার সংকট

মিয়ানমারে সেনা শাসনের নতুন রূপ

মিয়ানমারের সামরিক সরকার বৃহস্পতিবার টালমাটাল দেশটির চার বছরের জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছে। একইসঙ্গে বিলুপ্ত করেছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে (এসএসি) এবং গঠন করেছে নতুন শক্তিশালী সংস্থা—স্টেট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশন। আগামী ডিসেম্বর বা  জানুয়ারিতে  সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য এই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্বে পরিবর্তন

ঘোষণা অনুযায়ী, সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এখনো দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট থাকছেন। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইউ মিয়ান্ট স্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি এই পদে বসেন। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিয়ো সও।

নতুন কমিশনের গঠন

এসএসি বিলুপ্ত হলেও তার স্থলে গঠিত হয়েছে ১০ সদস্যের স্টেট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশন। এতে সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই মূলত স্থান পেয়েছেন। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকছেন মিন অং হ্লাইং। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের কার্যত সব দায়িত্ব এখন এই কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে।

সমালোচনা ও সন্দেহ

সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন কেবল নাম বদলের খেলা, বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সংবিধান লঙ্ঘন এড়ানো এবং জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর মিয়ানমার বেসড ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্টসের সম্পাদক নে মিও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে আইনগুলো আনা হয়েছে, যেমন সাইবার আইন, সেগুলো স্পষ্টভাবে জনগণ ও গণমাধ্যমকে দমন করার জন্য তৈরি। তিনি যোগ করেন, সামরিকপন্থী প্রচারণাকারীরা বিদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, অথচ সেনাশাসকরা এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর ফলে স্পষ্ট যে, দমননীতি অব্যাহতই আছে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টি

আন্তর্জাতিক মহল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এটাই ছিল সামরিক শাসনের হাতিয়ার। এখন কমিশন গঠনের মাধ্যমে পরিষ্কার যে মিন অং হ্লাইং সরাসরি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

তাম্পাডিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খিন জাও উইন বলেন, নতুন কমিশন কার্যত মন্ত্রিসভার সমান্তরাল একটি অবস্থানে বসেছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এটি বহাল থাকবে বলে মনে হয়। তার মতে, এসব পরিবর্তন মূলত আগামী সরকার কেমন হবে তা ইঙ্গিত করে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে সামরিক জান্তা একই রকম কাজ করেছে। এটি অনেকটা বাচ্চাদের লেগো ব্লক নিয়ে খেলার মতো। যারা বাস্তব পরিবর্তনের আশা করছে, তারা হতাশ হবে।


জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি

মিয়ানমার সংকট

১০:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মিয়ানমারে সেনা শাসনের নতুন রূপ

মিয়ানমারের সামরিক সরকার বৃহস্পতিবার টালমাটাল দেশটির চার বছরের জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছে। একইসঙ্গে বিলুপ্ত করেছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলকে (এসএসি) এবং গঠন করেছে নতুন শক্তিশালী সংস্থা—স্টেট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশন। আগামী ডিসেম্বর বা  জানুয়ারিতে  সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য এই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নেতৃত্বে পরিবর্তন

ঘোষণা অনুযায়ী, সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এখনো দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট থাকছেন। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ইউ মিয়ান্ট স্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি এই পদে বসেন। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিয়ো সও।

নতুন কমিশনের গঠন

এসএসি বিলুপ্ত হলেও তার স্থলে গঠিত হয়েছে ১০ সদস্যের স্টেট পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশন। এতে সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই মূলত স্থান পেয়েছেন। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকছেন মিন অং হ্লাইং। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের কার্যত সব দায়িত্ব এখন এই কমিশনের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে।

সমালোচনা ও সন্দেহ

সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তন কেবল নাম বদলের খেলা, বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সংবিধান লঙ্ঘন এড়ানো এবং জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর মিয়ানমার বেসড ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্টসের সম্পাদক নে মিও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে আইনগুলো আনা হয়েছে, যেমন সাইবার আইন, সেগুলো স্পষ্টভাবে জনগণ ও গণমাধ্যমকে দমন করার জন্য তৈরি। তিনি যোগ করেন, সামরিকপন্থী প্রচারণাকারীরা বিদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, অথচ সেনাশাসকরা এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর ফলে স্পষ্ট যে, দমননীতি অব্যাহতই আছে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টি

আন্তর্জাতিক মহল জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এটাই ছিল সামরিক শাসনের হাতিয়ার। এখন কমিশন গঠনের মাধ্যমে পরিষ্কার যে মিন অং হ্লাইং সরাসরি দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

তাম্পাডিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খিন জাও উইন বলেন, নতুন কমিশন কার্যত মন্ত্রিসভার সমান্তরাল একটি অবস্থানে বসেছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এটি বহাল থাকবে বলে মনে হয়। তার মতে, এসব পরিবর্তন মূলত আগামী সরকার কেমন হবে তা ইঙ্গিত করে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে সামরিক জান্তা একই রকম কাজ করেছে। এটি অনেকটা বাচ্চাদের লেগো ব্লক নিয়ে খেলার মতো। যারা বাস্তব পরিবর্তনের আশা করছে, তারা হতাশ হবে।