০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর? পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপন, অপহরণের দাবিও ভুয়া: শিবির নেতার বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস, বিনিয়োগ টানতে নতুন রোডম্যাপের ইঙ্গিত ইরানঘেঁষা তেলবাহী জাহাজে হামলা ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ ভারতের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?  ভারতে  খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশে, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ন্যাটোর দিকে ঝুঁকছে তুরস্ক, বদলে যাচ্ছে আঙ্কারার কৌশল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্কের ছায়া, কেলেঙ্কারি পেরিয়েই ফুটবলের মহোৎসব বিশ্বকাপ জিততে কী লাগে: অর্থ আর উচ্চতার চেয়েও বড় শক্তি অভিবাসন ও উন্মুক্ত সমাজ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯৪)

নবম পরিচ্ছেদ

শরীরটাকে টানটান করে তুলে হাসবার চেষ্টা করলুম। কিন্তু কখনও কখনও হাসিখুশি ভাব দেখানোও কত কষ্টকর হয়ে ওঠে, ঠোঁটের কাঁপুনি থামিয়ে রবারের মতো মুখটা মচকে চেষ্টাকৃত হাসি ফোটানো সময়ে সময়ে কী যন্ত্রণাদায়ক হয়!

সদরঘাঁটির সিড়ি বেয়ে ক্যাপ্টেনের পদের নির্দেশক কাঁধে-পট্টি-লাগানো পোশাক-পরা এক লম্বামতো বয়স্ক অফিসারকে নেমে আসতে দেখা গেল। তার পাশে-পাশে লাথি-খাওয়া কুকুরের ভঙ্গিতে হে’টে আসছিল গাঁয়ের সেই মোড়ল লোকটা। আমার দিকে চোখ পড়তে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দুই হাত ছড়িয়ে দিল মোড়ল, যেন বলতে চাইল, ‘ভুলের জন্যে বিশেষ দুঃখিত’।

অফিসার মোড়লকে ধমক দিয়ে এই সময় কী যেন বলল। মোড়লও চাকরের মতো মাথা ঝুঁকিয়ে, সেলাম ঠুকে দৌড়ে রাস্তা দিয়ে কোথায় যেন চলে গেল।

কিছুটা মজা করে কিন্তু বেশ বন্ধুত্বের সুরে ক্যাপ্টেন বলল, ‘কী খবর, যুদ্ধবন্দী!’

‘সুপ্রভাত, স্যার, আমি জবাব দিলুম।

আমার সঙ্গের রক্ষীটিকে চলে যেতে বলে অফিসার এবার আমার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিলে। তারপর সিগারেট বের করতে-করতে ধূর্ত হাসি হেসে বললে, ‘এ-তল্লাটে কাঁ করছিলে? রাজা আর দেশের জন্যে লড়াই করতে আসছিলে নাকি? কর্নেল কোরেন্‌কভকে লেখা চিঠিখানা পড়লুম। কিন্তু ওতে তো এখন তোমার কোনো কাজ হবে না। মাসখানেক আগে কর্নেল মারা পড়েছেন।’

মনে মনে বললুম, ‘এজন্যে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’

‘এস, আমার ঘরে এস। তুমি কে তা মোড়লকে বল নি কেন? বন্ধুদের মধ্যে এসে পড়েই হাজত-বাস করতে হল, কী কাণ্ড!’

‘লোকটা কোন দলের আমি ঠিক বুঝতে পারি নি। দেখতে ঠিক চাষীর মতো লাগল কাঁধে পট্টি ছিল না, কিছু না। ভেবেছিলুম লোকটা লালও তো হতে পারে। লোকের মুখে শুনেছি, লালগুলো নাকি এ-অঞ্চলে সর্বত্ত ঘুরঘুর করে বেড়াচ্ছে, চেষ্টা করে কোনোরকমে কথাগুলো বললুম। অফিসারটিকে লোক ভালো বলেই মনে হল, আর খুব একটা সজাগ দৃষ্টির লোক বলেও ঠাহর হল না। কারণ, তা হলে আমার অতিরিক্ত আত্মসচেতন ভাব দেখে লোকটি আন্দাজ করতে পারত সে আমাকে যা ভেবেছিল আমি সে-লোক ছিলুম না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯৪)

০৮:০০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নবম পরিচ্ছেদ

শরীরটাকে টানটান করে তুলে হাসবার চেষ্টা করলুম। কিন্তু কখনও কখনও হাসিখুশি ভাব দেখানোও কত কষ্টকর হয়ে ওঠে, ঠোঁটের কাঁপুনি থামিয়ে রবারের মতো মুখটা মচকে চেষ্টাকৃত হাসি ফোটানো সময়ে সময়ে কী যন্ত্রণাদায়ক হয়!

সদরঘাঁটির সিড়ি বেয়ে ক্যাপ্টেনের পদের নির্দেশক কাঁধে-পট্টি-লাগানো পোশাক-পরা এক লম্বামতো বয়স্ক অফিসারকে নেমে আসতে দেখা গেল। তার পাশে-পাশে লাথি-খাওয়া কুকুরের ভঙ্গিতে হে’টে আসছিল গাঁয়ের সেই মোড়ল লোকটা। আমার দিকে চোখ পড়তে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দুই হাত ছড়িয়ে দিল মোড়ল, যেন বলতে চাইল, ‘ভুলের জন্যে বিশেষ দুঃখিত’।

অফিসার মোড়লকে ধমক দিয়ে এই সময় কী যেন বলল। মোড়লও চাকরের মতো মাথা ঝুঁকিয়ে, সেলাম ঠুকে দৌড়ে রাস্তা দিয়ে কোথায় যেন চলে গেল।

কিছুটা মজা করে কিন্তু বেশ বন্ধুত্বের সুরে ক্যাপ্টেন বলল, ‘কী খবর, যুদ্ধবন্দী!’

‘সুপ্রভাত, স্যার, আমি জবাব দিলুম।

আমার সঙ্গের রক্ষীটিকে চলে যেতে বলে অফিসার এবার আমার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিলে। তারপর সিগারেট বের করতে-করতে ধূর্ত হাসি হেসে বললে, ‘এ-তল্লাটে কাঁ করছিলে? রাজা আর দেশের জন্যে লড়াই করতে আসছিলে নাকি? কর্নেল কোরেন্‌কভকে লেখা চিঠিখানা পড়লুম। কিন্তু ওতে তো এখন তোমার কোনো কাজ হবে না। মাসখানেক আগে কর্নেল মারা পড়েছেন।’

মনে মনে বললুম, ‘এজন্যে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’

‘এস, আমার ঘরে এস। তুমি কে তা মোড়লকে বল নি কেন? বন্ধুদের মধ্যে এসে পড়েই হাজত-বাস করতে হল, কী কাণ্ড!’

‘লোকটা কোন দলের আমি ঠিক বুঝতে পারি নি। দেখতে ঠিক চাষীর মতো লাগল কাঁধে পট্টি ছিল না, কিছু না। ভেবেছিলুম লোকটা লালও তো হতে পারে। লোকের মুখে শুনেছি, লালগুলো নাকি এ-অঞ্চলে সর্বত্ত ঘুরঘুর করে বেড়াচ্ছে, চেষ্টা করে কোনোরকমে কথাগুলো বললুম। অফিসারটিকে লোক ভালো বলেই মনে হল, আর খুব একটা সজাগ দৃষ্টির লোক বলেও ঠাহর হল না। কারণ, তা হলে আমার অতিরিক্ত আত্মসচেতন ভাব দেখে লোকটি আন্দাজ করতে পারত সে আমাকে যা ভেবেছিল আমি সে-লোক ছিলুম না।