০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের আলোচনা ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন দিল্লিতে গ্রেপ্তার ‘দ্য স্কিন ডক্টর’, কপুর পরিবারের বিরুদ্ধে পোস্ট ঘিরে বিতর্ক নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তোলপাড় ভারত, অনিশ্চয়তায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ দিল্লিতে চলন্ত বাসে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার চালক-সহকারী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০০)

দশম পরিচ্ছেদ

‘যাই, এখুনি উঠে বাইরে যাই,’ বলতে-বলতে খড়ের বিছানায় উঠে বসলুম আমি। ‘কিন্তু বাইরে গিয়ে কী বলব?’

সেই মুহূর্তে আমার মনটা চোখ-ধাঁধানো, জমকালো সব ভাবনার ঘূর্ণিতে ঘুরপাক খেতে শুরু করল আর নানা ধরনের পাগলের মতো সব কথাবার্তা মাথার মধ্যে ছুটোছুটি করে বেড়াতে লাগল।

আর মারা যাবার সময় বলার মতো উপযুক্ত কোনো কথা না-ভেবে কেন জানি না আমার তখন হঠাৎ মনে হল আজামাসের সেই বুড়ো বেদের কথা, যে বিয়ে উপলক্ষে সর্বত্র বাঁশি বাজিয়ে বেড়াত। এইরকম আরও বহু ঘটনার কথা মনে পড়ে যেতে লাগল আমার, যাদের সঙ্গে আমার তখনকার মনের অবস্থার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক’ ছিল না।

‘উঠে পড়া যাক…’ নিজের মনে বললুম আমি। কিন্তু বিছানার খড় আর কম্বল আমার পা দুটো যেন কড়া সিমেন্টমাটির মতো আঁকড়ে রইল।

আর তখন আমি বুঝতে পারলুম, কেন উঠতে পারছি না। আসলে আমি উঠতেই চাইছিলুম না। মৃত্যুর আগে শেষ ঘোষণা আর সেই বেদের কথা নিয়ে জল্পনাকল্পনা আসলে সেই চরম মুহূর্তটাকে ঠেকিয়ে রাখার অজুহাত ছাড়া কিছু ছিল না।

তখন যে-কথাই আমি বলি না কেন আর নিজেকে যতই তাতিয়ে তুলি না কেন, আপনা থেকে ধরা দিয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইচ্ছেই যে আমার ছিল না, এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটা যখন নিজেই বুঝতে পারলুম তখন হাল ছেড়ে দিয়ে ফের তাকিয়াটায় মাথা রেখে শুয়ে পড়লুম, আর সেই সুদূর ফরাসী বিপ্লবের বিখ্যাত ছেলেটির সঙ্গে নিজের তুলনা করে, নিজের তুচ্ছতা উপলব্ধি করে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে লাগলুম।

একটা ধাক্কায় কুড়েঘরের দেয়ালটা কে’পে উঠল। মনে হল, ঘরের সংলগ্ন দেয়ালটার ওধারে, তার মানে ওই কু’ড়ের পাশে বাড়ির একটা ঘরে, কেউ শক্ত কিছু দিয়ে দেয়ালে ঘা দিয়েছে। তা সে শক্ত জিনিস রাইফেলের কু’দোও হতো পারে, আবার বেঞ্চির একটা কোণও হওয়া বিচিত্র নয়। এরপর দেয়ালের ওধার থেকে লোকের গলার আওয়াজও পাওয়া গেল।

টিকটিকির মতো পিছলে দেয়ালের কাছে চলে গিয়ে দেয়ালের কাঠের তক্তার ফাঁকে কান পাতলুম। কান পাতার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাটেনের কথার একটা অংশ শুনতে পেলুম, ‘…বাজে কথা বলে লাভ নেই, বুঝেছ তো? এতে তোমার নিজের আখেরই আরও খারাপ হচ্ছে। বল, তোমাদের বাহিনীতে কটা মেশিনগান আছে?’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০০)

০৮:০০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দশম পরিচ্ছেদ

‘যাই, এখুনি উঠে বাইরে যাই,’ বলতে-বলতে খড়ের বিছানায় উঠে বসলুম আমি। ‘কিন্তু বাইরে গিয়ে কী বলব?’

সেই মুহূর্তে আমার মনটা চোখ-ধাঁধানো, জমকালো সব ভাবনার ঘূর্ণিতে ঘুরপাক খেতে শুরু করল আর নানা ধরনের পাগলের মতো সব কথাবার্তা মাথার মধ্যে ছুটোছুটি করে বেড়াতে লাগল।

আর মারা যাবার সময় বলার মতো উপযুক্ত কোনো কথা না-ভেবে কেন জানি না আমার তখন হঠাৎ মনে হল আজামাসের সেই বুড়ো বেদের কথা, যে বিয়ে উপলক্ষে সর্বত্র বাঁশি বাজিয়ে বেড়াত। এইরকম আরও বহু ঘটনার কথা মনে পড়ে যেতে লাগল আমার, যাদের সঙ্গে আমার তখনকার মনের অবস্থার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক’ ছিল না।

‘উঠে পড়া যাক…’ নিজের মনে বললুম আমি। কিন্তু বিছানার খড় আর কম্বল আমার পা দুটো যেন কড়া সিমেন্টমাটির মতো আঁকড়ে রইল।

আর তখন আমি বুঝতে পারলুম, কেন উঠতে পারছি না। আসলে আমি উঠতেই চাইছিলুম না। মৃত্যুর আগে শেষ ঘোষণা আর সেই বেদের কথা নিয়ে জল্পনাকল্পনা আসলে সেই চরম মুহূর্তটাকে ঠেকিয়ে রাখার অজুহাত ছাড়া কিছু ছিল না।

তখন যে-কথাই আমি বলি না কেন আর নিজেকে যতই তাতিয়ে তুলি না কেন, আপনা থেকে ধরা দিয়ে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইচ্ছেই যে আমার ছিল না, এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটা যখন নিজেই বুঝতে পারলুম তখন হাল ছেড়ে দিয়ে ফের তাকিয়াটায় মাথা রেখে শুয়ে পড়লুম, আর সেই সুদূর ফরাসী বিপ্লবের বিখ্যাত ছেলেটির সঙ্গে নিজের তুলনা করে, নিজের তুচ্ছতা উপলব্ধি করে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে লাগলুম।

একটা ধাক্কায় কুড়েঘরের দেয়ালটা কে’পে উঠল। মনে হল, ঘরের সংলগ্ন দেয়ালটার ওধারে, তার মানে ওই কু’ড়ের পাশে বাড়ির একটা ঘরে, কেউ শক্ত কিছু দিয়ে দেয়ালে ঘা দিয়েছে। তা সে শক্ত জিনিস রাইফেলের কু’দোও হতো পারে, আবার বেঞ্চির একটা কোণও হওয়া বিচিত্র নয়। এরপর দেয়ালের ওধার থেকে লোকের গলার আওয়াজও পাওয়া গেল।

টিকটিকির মতো পিছলে দেয়ালের কাছে চলে গিয়ে দেয়ালের কাঠের তক্তার ফাঁকে কান পাতলুম। কান পাতার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাটেনের কথার একটা অংশ শুনতে পেলুম, ‘…বাজে কথা বলে লাভ নেই, বুঝেছ তো? এতে তোমার নিজের আখেরই আরও খারাপ হচ্ছে। বল, তোমাদের বাহিনীতে কটা মেশিনগান আছে?’