০২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ বেবিমনস্টারের ‘চুম’ ভিডিওতে ১০ কোটির মাইলফলক, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তা স্টারবাকসের ‘ট্যাংক ডে’ বিতর্কে ক্ষোভ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমা চাইল মার্কিন সদর দপ্তর আল সুপাঙ্গানের সোনালি জন্মদিনে জমকালো আয়োজন, ডেনিম থিমে মুখর সন্ধ্যা জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে নতুন ভরসা তরুণ বডিবিল্ডার ও কুস্তিগিররা ডাবলিনে গান, গল্প আর শিল্পের শহুরে জাদু ইরাকের মরুভূমিতে গোপন ইসরায়েলি ঘাঁটি, এক রাখালের মৃত্যুর পর ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা দামযুদ্ধের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন আশার বার্তা ভারতের আমদানি বিল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সতর্কবার্তা দিলেন মোদি

মিডিয়া প্রিন্স যিনি রাজা হতে চলেছেন

উত্তরাধিকার নির্ধারিত

ল্যাকলান মারডক সারা জীবন ধরে উত্তরাধিকার প্রশ্নের মুখোমুখি ছিলেন। অবশেষে সেই প্রশ্নের সমাধান হয়েছে। তাঁর বাবা রুপার্ট মারডক গড়ে তোলা ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর হাতে। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির ফলে অন্তত ২০৫০ সাল পর্যন্ত পরিবারের মিডিয়া ব্যবসা তিনিই পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে ৫৪ বছর বয়সী ল্যাকলান বিশ্বে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হলেন।

রক্ষণশীল ঝোঁক বজায় থাকবে

ফক্স নিউজ, নিউ ইয়র্ক পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এখন ল্যাকলানের হাতে। রুপার্ট মারডকের অগ্রাধিকার ছিল তাঁর বড় ছেলে যেন ব্যবসার রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন। ফলে সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক রং একই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিজিটাল আগ্রহী নেতা

ল্যাকলান একজন সাবেক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্র, যিনি নিউ ইয়র্ক থেকে পরিবার নিয়ে সিডনিতে চলে গিয়েছেন। তিনি পডকাস্ট ও স্ট্রিমিংয়ের দিকে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ফক্স অধিগ্রহণ করেছে রেড সিট ভেঞ্চার্স, চালু করেছে ফক্স ওয়ান অ্যাপ এবং পেনস্কে এন্টারটেইনমেন্টে অংশীদারিত্ব নিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ থেকে ফক্সের শেয়ারের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

আইনি চাপ ও বিতর্ক

২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে ভুয়া ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারে ফক্স নিউজের ভূমিকার কারণে এখনও আইনি মামলা চলছে। ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমের সঙ্গে ২০২৩ সালে ৭৮৭.৫ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা হলেও স্মার্টম্যাটিকের মামলা এখনো ঝুলে আছে। আদালতের নথি দেখিয়েছে, বাবার মৃত্যুর পরও নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারিবারিক ট্রাস্ট বদলাতে ল্যাকলান ও রুপার্ট দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়।

পরিবারের ভেতর দ্বন্দ্ব

ল্যাকলান ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। ১৯৭১ সালে লন্ডনে জন্ম, নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে পড়াশোনা। ব্যবসায়িক জীবনে কিছু ব্যর্থতা (যেমন টেলিকম কোম্পানি ওয়ান.টেল) থাকলেও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আরইএ গ্রুপে বিনিয়োগ তাঁকে সাফল্য এনে দেয়।

২০০৫ সালে ফক্স নিউজের প্রধান রজার আয়লসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। এক দশক সেখানে ব্যবসা চালানোর পর ২০১৪ সালে আবার পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। ২০১৯ সালে ২১ শতকের ফক্সের সম্পদ ডিজনির কাছে ৭২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এরপর তিনি নতুন ফক্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী হন।

ভাইদের মধ্যে বিভাজন

জেমস মারডক ফক্স নিউজের সম্পাদকীয় অবস্থানে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০২০ সালে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ল্যাকলান ট্রাম্পের প্রতি নরম ছিলেন এবং ফক্স নিউজকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারে ছাড় দিয়েছেন। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, ল্যাকলান নিজে ফক্সের সম্প্রচারের ওপর নজর রাখতেন এবং ট্রাম্প-বিরোধী কণ্ঠস্বরকে “অহংকারী” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

রক্ষণশীল বিশ্বাস ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতি টান

ছাত্রজীবন থেকেই ল্যাকলান রক্ষণশীল ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সালে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমেরিকার মূল মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ দেশটির মানসিক কাঠামোতে গভীর ক্ষতি করছে। ২০২১ সালে স্ত্রী সারা মারডক ও তিন সন্তানকে নিয়ে সিডনিতে চলে যান তিনি। সেখান থেকেই এখন তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনা করেন।

“আমি একজন অস্ট্রেলিয়ান, সেভাবেই নিজেকে দেখি,” গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেন ল্যাকলান মারডক।


এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু উত্তরাধিকার সংকটই মিটল না, বরং বিশ্ব মিডিয়ায় রক্ষণশীল দিকের প্রভাব আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিশ্চিত হয়েছে?

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ

মিডিয়া প্রিন্স যিনি রাজা হতে চলেছেন

০২:০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উত্তরাধিকার নির্ধারিত

ল্যাকলান মারডক সারা জীবন ধরে উত্তরাধিকার প্রশ্নের মুখোমুখি ছিলেন। অবশেষে সেই প্রশ্নের সমাধান হয়েছে। তাঁর বাবা রুপার্ট মারডক গড়ে তোলা ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর হাতে। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির ফলে অন্তত ২০৫০ সাল পর্যন্ত পরিবারের মিডিয়া ব্যবসা তিনিই পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে ৫৪ বছর বয়সী ল্যাকলান বিশ্বে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হলেন।

রক্ষণশীল ঝোঁক বজায় থাকবে

ফক্স নিউজ, নিউ ইয়র্ক পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এখন ল্যাকলানের হাতে। রুপার্ট মারডকের অগ্রাধিকার ছিল তাঁর বড় ছেলে যেন ব্যবসার রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন। ফলে সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক রং একই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিজিটাল আগ্রহী নেতা

ল্যাকলান একজন সাবেক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্র, যিনি নিউ ইয়র্ক থেকে পরিবার নিয়ে সিডনিতে চলে গিয়েছেন। তিনি পডকাস্ট ও স্ট্রিমিংয়ের দিকে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ফক্স অধিগ্রহণ করেছে রেড সিট ভেঞ্চার্স, চালু করেছে ফক্স ওয়ান অ্যাপ এবং পেনস্কে এন্টারটেইনমেন্টে অংশীদারিত্ব নিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ থেকে ফক্সের শেয়ারের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

আইনি চাপ ও বিতর্ক

২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে ভুয়া ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারে ফক্স নিউজের ভূমিকার কারণে এখনও আইনি মামলা চলছে। ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমের সঙ্গে ২০২৩ সালে ৭৮৭.৫ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা হলেও স্মার্টম্যাটিকের মামলা এখনো ঝুলে আছে। আদালতের নথি দেখিয়েছে, বাবার মৃত্যুর পরও নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারিবারিক ট্রাস্ট বদলাতে ল্যাকলান ও রুপার্ট দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়।

পরিবারের ভেতর দ্বন্দ্ব

ল্যাকলান ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। ১৯৭১ সালে লন্ডনে জন্ম, নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে পড়াশোনা। ব্যবসায়িক জীবনে কিছু ব্যর্থতা (যেমন টেলিকম কোম্পানি ওয়ান.টেল) থাকলেও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আরইএ গ্রুপে বিনিয়োগ তাঁকে সাফল্য এনে দেয়।

২০০৫ সালে ফক্স নিউজের প্রধান রজার আয়লসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। এক দশক সেখানে ব্যবসা চালানোর পর ২০১৪ সালে আবার পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। ২০১৯ সালে ২১ শতকের ফক্সের সম্পদ ডিজনির কাছে ৭২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এরপর তিনি নতুন ফক্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী হন।

ভাইদের মধ্যে বিভাজন

জেমস মারডক ফক্স নিউজের সম্পাদকীয় অবস্থানে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০২০ সালে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ল্যাকলান ট্রাম্পের প্রতি নরম ছিলেন এবং ফক্স নিউজকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারে ছাড় দিয়েছেন। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, ল্যাকলান নিজে ফক্সের সম্প্রচারের ওপর নজর রাখতেন এবং ট্রাম্প-বিরোধী কণ্ঠস্বরকে “অহংকারী” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

রক্ষণশীল বিশ্বাস ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতি টান

ছাত্রজীবন থেকেই ল্যাকলান রক্ষণশীল ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত। ২০২২ সালে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমেরিকার মূল মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ দেশটির মানসিক কাঠামোতে গভীর ক্ষতি করছে। ২০২১ সালে স্ত্রী সারা মারডক ও তিন সন্তানকে নিয়ে সিডনিতে চলে যান তিনি। সেখান থেকেই এখন তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনা করেন।

“আমি একজন অস্ট্রেলিয়ান, সেভাবেই নিজেকে দেখি,” গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেন ল্যাকলান মারডক।


এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু উত্তরাধিকার সংকটই মিটল না, বরং বিশ্ব মিডিয়ায় রক্ষণশীল দিকের প্রভাব আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিশ্চিত হয়েছে?