অস্ত্র সহায়তার নতুন সূচনা
ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য প্রথম মার্কিন অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করেছে। খুব শিগগির এই অস্ত্র পাঠানো হতে পারে। তবে এবার অর্থায়নের ধরন ভিন্ন—এই অস্ত্র সরবরাহ করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ থেকে, আর ব্যয় বহন করবে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো।
এটি একটি নতুন প্রক্রিয়ার প্রথম প্রয়োগ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা যৌথভাবে তৈরি করেছে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার জন্য।
নতুন তহবিল কাঠামো: পিইউআরএল (PURL)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি অনুমোদন দিয়েছেন সর্বোচ্চ দুটি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চালান পাঠানোর। এই প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে “Prioritized Ukraine Requirements List” বা সংক্ষেপে পিইউআরএল।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইউক্রেনকে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সহায়তা দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে ট্রান্সআটলান্টিক সহযোগিতা আবারও জোরদার হচ্ছে।
ট্রাম্পের অসন্তোষ ও যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন রাশিয়ার চলমান হামলা নিয়ে। তিনি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মস্কোর অবস্থান তার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন শুধু অস্ত্র বিক্রি করেছে অথবা পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুমোদিত সহায়তা পাঠিয়েছে। বাইডেন ইউক্রেনের দৃঢ় সমর্থক ছিলেন।
কোন কোন অস্ত্র পাঠানো হবে
সূত্ররা সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে। তবে নিশ্চিত করেছে যে অনুমোদিত তালিকায় আছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।
একজন সূত্র জানায়, পিইউআরএল তালিকা ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি বিভাগ অতিক্রম করে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতামত
একজন সূত্র বলেছে, “এগুলোই সেই অস্ত্র যেগুলো ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছিল। এ পর্যন্ত সীমান্ত স্থিতিশীল রাখতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের চাহিদা এখনও একই রকম—বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইন্টারসেপ্টর, রকেট ও আর্টিলারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন শক্তি দেবে। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও রাশিয়ার অব্যাহত আগ্রাসন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। নতুন এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করতে পারবে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















