০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

বিশ্ব এআই প্রতিযোগিতায় নতুন দৌড়

৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

সফটব্যাংক গ্রুপ জানিয়েছে যে তাদের ‘স্টারগেট’ অংশীদারিত্ব প্রকল্প অবকাঠামোতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেনএআই ও ওরাকলের সঙ্গে মিলে সফটব্যাংক দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবে। সফটব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মাসায়োশি সন আশা করছেন, আগামী দশ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি ৬০০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার) শিল্পে পরিণত হবে।

এই বিনিয়োগের বরাদ্দ প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১২৫ বিলিয়ন ডলার। এটি অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বার্ষিক বিনিয়োগের চেয়েও বেশি।

নতুন ডেটা সেন্টার ঘোষণা

প্রকল্পের প্রথম নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা এসেছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাবিলিন শহরে। এখানে ওরাকলের নেতৃত্বে একটি বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। ওপেনএআই প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, শুধু অ্যাবিলিন এলাকায় পাঁচটি সুবিধা নির্মাণ করা হবে।

সফটব্যাংক আরও দুটি নতুন কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ওহাইওর লর্ডসটাউনে একটি ডেটা সেন্টারের নকশা কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালে চালু হবে। এছাড়া সফটব্যাংক তাদের বিদ্যুৎ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এসবি এনার্জি’র সঙ্গে টেক্সাসের মিলাম কাউন্টিতে আরেকটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ করবে।

এআই-এর জন্য বিপুল কম্পিউটিং চাহিদা

জেনারেটিভ এআই পরিচালনার জন্য ব্যাপক কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। এই শক্তি সরবরাহের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর, সার্ভার এবং ক্লাউড অবকাঠামো দরকার, যা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রদান করে।

এখন পর্যন্ত ওপেনএআই তাদের জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটির জন্য মাইক্রোসফটের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণে এবং মাইক্রোসফটের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে তারা বিকল্প ডেটা সেন্টার অংশীদার খুঁজতে শুরু করেছে।

অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ওপেনএআই একা এত বড় বিনিয়োগ করতে অক্ষম। তাই তারা সফটব্যাংক ও ওরাকলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। এ দুই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং বড় প্রযুক্তি কোম্পানির আধিপত্য মোকাবিলায় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

স্যাম অল্টম্যান মনে করেন, সীমিত কম্পিউটিং ক্ষমতাই বর্তমানে এআই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ না করে তবে বৈশ্বিক এআই দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, সফটব্যাংক প্রধান সন-ও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জুন মাসে এক শেয়ারহোল্ডার সভায় বলেন, আগামী দশ বছরে এআই সুপারইন্টেলিজেন্স (ASI) যুগে মোট ৬০০ ট্রিলিয়ন ইয়েন আয় মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাদের একজন হতে চাই।’

চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা

তবে এত বিপুল বিনিয়োগ থেকে আয় নিশ্চিত করা সহজ নয়। বেইন অ্যান্ড কোম্পানি’র হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের আয় প্রয়োজন হবে এই খাতে বিনিয়োগ ফেরাতে। বর্তমান প্রবণতা অনুসারে অন্তত ৮০০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আরও একটি জটিলতা হলো, একই সঙ্গে অনেক ডেটা সেন্টার নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। পর্যাপ্ত নির্মাণ সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের পথ এখনো অনিশ্চিত ও কঠিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত

বিশ্ব এআই প্রতিযোগিতায় নতুন দৌড়

০২:৫২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

সফটব্যাংক গ্রুপ জানিয়েছে যে তাদের ‘স্টারগেট’ অংশীদারিত্ব প্রকল্প অবকাঠামোতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেনএআই ও ওরাকলের সঙ্গে মিলে সফটব্যাংক দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবে। সফটব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মাসায়োশি সন আশা করছেন, আগামী দশ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি ৬০০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার) শিল্পে পরিণত হবে।

এই বিনিয়োগের বরাদ্দ প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে মোট বিনিয়োগ হবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১২৫ বিলিয়ন ডলার। এটি অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বার্ষিক বিনিয়োগের চেয়েও বেশি।

নতুন ডেটা সেন্টার ঘোষণা

প্রকল্পের প্রথম নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা এসেছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাবিলিন শহরে। এখানে ওরাকলের নেতৃত্বে একটি বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। ওপেনএআই প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, শুধু অ্যাবিলিন এলাকায় পাঁচটি সুবিধা নির্মাণ করা হবে।

সফটব্যাংক আরও দুটি নতুন কেন্দ্রের অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ওহাইওর লর্ডসটাউনে একটি ডেটা সেন্টারের নকশা কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালে চালু হবে। এছাড়া সফটব্যাংক তাদের বিদ্যুৎ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এসবি এনার্জি’র সঙ্গে টেক্সাসের মিলাম কাউন্টিতে আরেকটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ করবে।

এআই-এর জন্য বিপুল কম্পিউটিং চাহিদা

জেনারেটিভ এআই পরিচালনার জন্য ব্যাপক কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন। এই শক্তি সরবরাহের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর, সার্ভার এবং ক্লাউড অবকাঠামো দরকার, যা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রদান করে।

এখন পর্যন্ত ওপেনএআই তাদের জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটির জন্য মাইক্রোসফটের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার কারণে এবং মাইক্রোসফটের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে তারা বিকল্প ডেটা সেন্টার অংশীদার খুঁজতে শুরু করেছে।

অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ওপেনএআই একা এত বড় বিনিয়োগ করতে অক্ষম। তাই তারা সফটব্যাংক ও ওরাকলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। এ দুই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং বড় প্রযুক্তি কোম্পানির আধিপত্য মোকাবিলায় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।

স্যাম অল্টম্যান মনে করেন, সীমিত কম্পিউটিং ক্ষমতাই বর্তমানে এআই অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণ না করে তবে বৈশ্বিক এআই দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, সফটব্যাংক প্রধান সন-ও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জুন মাসে এক শেয়ারহোল্ডার সভায় বলেন, আগামী দশ বছরে এআই সুপারইন্টেলিজেন্স (ASI) যুগে মোট ৬০০ ট্রিলিয়ন ইয়েন আয় মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাদের একজন হতে চাই।’

চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা

তবে এত বিপুল বিনিয়োগ থেকে আয় নিশ্চিত করা সহজ নয়। বেইন অ্যান্ড কোম্পানি’র হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের আয় প্রয়োজন হবে এই খাতে বিনিয়োগ ফেরাতে। বর্তমান প্রবণতা অনুসারে অন্তত ৮০০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আরও একটি জটিলতা হলো, একই সঙ্গে অনেক ডেটা সেন্টার নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। পর্যাপ্ত নির্মাণ সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের পথ এখনো অনিশ্চিত ও কঠিন।