১০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয় জেসি জ্যাকসনের মৃত্যু: নাগরিক অধিকার আন্দোলনের বজ্রকণ্ঠের অবসান রমজানে ৯০ হাজার কোরআন বিতরণ ঘোষণা, ধর্মচেতনা ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে উদ্যোগ রমজান উদযাপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল উদ্যোগ: ৬৬ নতুন মসজিদ, ২০ জন পণ্ডিত ও ১২,৫০০ গাছের চারা ইরানে নিহতদের ৪০ দিনের স্মরণে সরকারিভাবে দমনতন্ত্র, জনআন্দোলনে উত্তেজনা নেতানিয়াহুর নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কি ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে দক্ষিণ এশিয়ানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের উত্থান

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৬৪)

সহস্র অত্যাচারময় হইলেও, হতভাগ্য সিরাজকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা হয়। সিরাজ মুসল্যান হইয়া কখনও হিন্দুর গুণ অস্বীকার করিত না। সিরাজ বলিয়া কেন, যে দাম্ভিক সম্রাট্ আরঙ্গজেবের মত হিন্দুবিদ্বেষী কেহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিরূঢ় হন নাই, সেই আরঙ্গজেবই হিন্দুদিগকে উচ্চপদ প্রদান করিতে কুষ্টিত হইতেন না।

আর সিরাজ, তাঁহার সময়, দুল্লভরাম প্রধান মন্ত্রী, মোহনলাল সেনাপতি, জগৎশেঠ রাজস্ববিষয়ে সর্ব্বেসর্ব্বা, মন্দকুমার হুগলীর ফৌজদার, আর কত নাম করিব! ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ সিরাজের প্রিয়পাত্র ও বিশ্বাসী ছিলেন।

সিরাজ তাঁহাদের পরামর্শ লইয়া অনেক কার্য্য করিতেন। তাই’ বলিতেছি, সিরাজের অশেষ দোষ থাকিলেও তাঁহার যে সামান্য গুণ ছিল, তাহাও কেন আমরা বিস্তৃত হই, বুঝিতে পারি না। পাপীর জন্য করুণা প্রকাশই পুণ্যধৰ্ম্ম।

বিশেষতঃ তাহার অন্ধকারময় জীবনের মধ্যে যদি একটু সামান্য আলোকও দেখা যায়, তাহা হইলে সে আলোক-টুকু স্বীকার করিয়া তাহার প্রতি সহানুভূতি দেখান কি উচিত নহে? হতভাগ্য সিরাজের হিন্দু মুসলমানের প্রতি সমভাব স্মরণ করিয়া তাহার অন্ধকারময় জীবনের মধ্যে একটু আলোক দেখিতে পাই বলিয়া, তাহার প্রতি করুণার উদ্রেক হয়।

সিরাজের রাজত্বের সময় হিন্দু মুসলমানের সমান আধিপত্য ছিল; কিন্তু আজিও আমাদের শাদা কাল ঘুচিল না! তাহার পর সে সময় হিন্দু মুসল মানে এরূপ প্রতিনিয়ত বিবাদ হইত না। পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও স্নেহ প্রকাশ করিত। আর এক্ষণে তাহাদের মধ্যে যে ঘোর বিবাদ হইতেছে, তাহার কারণ কি করিয়া বুঝিব? রাজকর্মচারীকে বিবাদ মীমাংসা করিতে দেখি না।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৬৪)

১১:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

সহস্র অত্যাচারময় হইলেও, হতভাগ্য সিরাজকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা হয়। সিরাজ মুসল্যান হইয়া কখনও হিন্দুর গুণ অস্বীকার করিত না। সিরাজ বলিয়া কেন, যে দাম্ভিক সম্রাট্ আরঙ্গজেবের মত হিন্দুবিদ্বেষী কেহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিরূঢ় হন নাই, সেই আরঙ্গজেবই হিন্দুদিগকে উচ্চপদ প্রদান করিতে কুষ্টিত হইতেন না।

আর সিরাজ, তাঁহার সময়, দুল্লভরাম প্রধান মন্ত্রী, মোহনলাল সেনাপতি, জগৎশেঠ রাজস্ববিষয়ে সর্ব্বেসর্ব্বা, মন্দকুমার হুগলীর ফৌজদার, আর কত নাম করিব! ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ সিরাজের প্রিয়পাত্র ও বিশ্বাসী ছিলেন।

সিরাজ তাঁহাদের পরামর্শ লইয়া অনেক কার্য্য করিতেন। তাই’ বলিতেছি, সিরাজের অশেষ দোষ থাকিলেও তাঁহার যে সামান্য গুণ ছিল, তাহাও কেন আমরা বিস্তৃত হই, বুঝিতে পারি না। পাপীর জন্য করুণা প্রকাশই পুণ্যধৰ্ম্ম।

বিশেষতঃ তাহার অন্ধকারময় জীবনের মধ্যে যদি একটু সামান্য আলোকও দেখা যায়, তাহা হইলে সে আলোক-টুকু স্বীকার করিয়া তাহার প্রতি সহানুভূতি দেখান কি উচিত নহে? হতভাগ্য সিরাজের হিন্দু মুসলমানের প্রতি সমভাব স্মরণ করিয়া তাহার অন্ধকারময় জীবনের মধ্যে একটু আলোক দেখিতে পাই বলিয়া, তাহার প্রতি করুণার উদ্রেক হয়।

সিরাজের রাজত্বের সময় হিন্দু মুসলমানের সমান আধিপত্য ছিল; কিন্তু আজিও আমাদের শাদা কাল ঘুচিল না! তাহার পর সে সময় হিন্দু মুসল মানে এরূপ প্রতিনিয়ত বিবাদ হইত না। পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও স্নেহ প্রকাশ করিত। আর এক্ষণে তাহাদের মধ্যে যে ঘোর বিবাদ হইতেছে, তাহার কারণ কি করিয়া বুঝিব? রাজকর্মচারীকে বিবাদ মীমাংসা করিতে দেখি না।