সাভারে বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাতভর চলা এই সহিংসতায় এক শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, ভাঙচুর হয় দুটি প্রতিষ্ঠানের ভবন ও গাড়ি। এলাকায় এখনো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাতভর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সাভার
রবিবার রাত থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত টানা সংঘর্ষে সাভারের খাগান এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু স্থাপনা ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত আট থেকে দশটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
সোমবার সকাল দশটা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থী ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামের একটি আবাসনের সামনে হাঁটছিলেন। সেই সময় সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী রাস্তায় থুথু ফেললে তা দুর্ঘটনাক্রমে তার গায়ে লাগে।
এতে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা আবার ছড়িয়ে পড়ে।
ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের আবাসনে হামলা
অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিটি ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ আবাসনে হামলা চালায়, যেখানে ড্যাফোডিলের বহু শিক্ষার্থী থাকেন। হামলায় আবাসনের বিভিন্ন কক্ষের জানালা-দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়।

আলোচনায় সমাধান না আসায় সহিংসতা বেড়ে যায়
ঘটনার পরপরই উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা রাতে একাধিক জরুরি বৈঠক করেন, কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
রাত ১২টার দিকে ড্যাফোডিলের কিছু শিক্ষার্থী হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। তারা মূল ফটক ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দপ্তরসহ সম্মেলন কক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, হিসাব দপ্তর এবং আরও কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করে।
এই সময় আট থেকে দশটি গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়।

শতাধিক আহত, হাসপাতালে ভর্তি বহুজন
রাতভর চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় আশেপাশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজ সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি
সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ জুয়েল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাভারের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে শিক্ষাঙ্গণ পরিণত হয়েছে সহিংসতায়। প্রশাসনের আশঙ্কা, উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে এই ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে, যা দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করবে।
#সাভার #ড্যাফোডিল_ইউনিভার্সিটি #সিটি_ইউনিভার্সিটি #শিক্ষার্থী_সংঘর্ষ #সহিংসতা #বাংলাদেশ #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















