০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ইতিহাসকে নতুন করে দেখার আহ্বান, বৌদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে সত্যের আলো ফেললেন শশাঙ্ক শেখর সিনহা শব্দে শব্দে বিভাজনের বিরুদ্ধে: সাহিত্য উৎসবে সহাবস্থানের সন্ধান পঞ্চান্নে স্বয়ম্বর, মধ্যবয়সে বিদ্রোহ: সোনোরা ঝা উপন্যাসে নারীর আকাঙ্ক্ষার নতুন ভাষা এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সকালে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন বাংলাদেশ ডেইরি বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, দুধ উৎপাদন ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের টালমাটাল ১৮ মাস, বদলে যাচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থার চিত্র

জামিন প্রশ্নে তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে

অবকাশকালীন ছুটির সময় অস্বাভাবিক সংখ্যক মামলায় জামিন মঞ্জুরের ঘটনায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একদিনে শত শত মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইন উপদেষ্টা পরিষদেও প্রশ্ন উঠেছে।


ব্যাখ্যা চাওয়া হলো তিন বিচারপতির কাছে

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন নিশ্চিত করেন যে প্রধান বিচারপতি তিন বিচারপতির কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এই বিচারপতিরা হলেন—বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি জাকির হোসেন।


একদিনে ৮০০ মামলায় জামিন—উঠল প্রশ্ন

গত ২৩ অক্টোবর আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দেশের উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ একদিনে প্রায় ৮০০ মামলায় জামিন দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—একটি বেঞ্চে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় এতগুলো মামলার শুনানি কীভাবে সম্ভব?
তার মতে, “জামিন দেওয়া বিচারকের এখতিয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৮০০ মামলা শুনে সিদ্ধান্ত দেওয়া কি বিচারিক বিবেচনার মধ্যে পড়ে?”


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও আলোচনা

এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের উপস্থিতিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও আলোচনা হয়।
আসিফ নজরুল বলেন, “আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আমরা কেউই বিষয়টি তদন্ত করিনি, কিন্তু করা উচিত। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা তদন্ত করুন—একটি বেঞ্চ কীভাবে এত অল্প সময়ে এতগুলো মামলায় জামিন মঞ্জুর করতে পারে।”


বিচার ব্যবস্থায় সততার প্রশ্নে গুরুত্ব

আইনজীবী ও আদালত পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের অস্বাভাবিক সংখ্যক জামিন মঞ্জুর বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রধান বিচারপতির এই ব্যাখ্যা চাওয়ার উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


একদিনে ৮০০ মামলায় জামিনের ঘটনা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এখন বিচারপতিদের ব্যাখ্যা ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে—ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং তা প্রশাসনিক সীমারেখার মধ্যে ছিল কি না, নাকি তা বিচারিক শৃঙ্খলার বাইরে চলে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাসকে নতুন করে দেখার আহ্বান, বৌদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে সত্যের আলো ফেললেন শশাঙ্ক শেখর সিনহা

জামিন প্রশ্নে তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে

০৬:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

অবকাশকালীন ছুটির সময় অস্বাভাবিক সংখ্যক মামলায় জামিন মঞ্জুরের ঘটনায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একদিনে শত শত মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইন উপদেষ্টা পরিষদেও প্রশ্ন উঠেছে।


ব্যাখ্যা চাওয়া হলো তিন বিচারপতির কাছে

মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন নিশ্চিত করেন যে প্রধান বিচারপতি তিন বিচারপতির কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এই বিচারপতিরা হলেন—বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমান, বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি জাকির হোসেন।


একদিনে ৮০০ মামলায় জামিন—উঠল প্রশ্ন

গত ২৩ অক্টোবর আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, দেশের উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ একদিনে প্রায় ৮০০ মামলায় জামিন দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—একটি বেঞ্চে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় এতগুলো মামলার শুনানি কীভাবে সম্ভব?
তার মতে, “জামিন দেওয়া বিচারকের এখতিয়ার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় ৮০০ মামলা শুনে সিদ্ধান্ত দেওয়া কি বিচারিক বিবেচনার মধ্যে পড়ে?”


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও আলোচনা

এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের উপস্থিতিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও আলোচনা হয়।
আসিফ নজরুল বলেন, “আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আমরা কেউই বিষয়টি তদন্ত করিনি, কিন্তু করা উচিত। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা তদন্ত করুন—একটি বেঞ্চ কীভাবে এত অল্প সময়ে এতগুলো মামলায় জামিন মঞ্জুর করতে পারে।”


বিচার ব্যবস্থায় সততার প্রশ্নে গুরুত্ব

আইনজীবী ও আদালত পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের অস্বাভাবিক সংখ্যক জামিন মঞ্জুর বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রধান বিচারপতির এই ব্যাখ্যা চাওয়ার উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


একদিনে ৮০০ মামলায় জামিনের ঘটনা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এখন বিচারপতিদের ব্যাখ্যা ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে—ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং তা প্রশাসনিক সীমারেখার মধ্যে ছিল কি না, নাকি তা বিচারিক শৃঙ্খলার বাইরে চলে গেছে।