আন্দোলনবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) গত বছরের ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন’–এ জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ শিক্ষক, ১১ কর্মকর্তা ও ৩৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক নকিব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে তাদের একাডেমিক পাঠক্রম শেষ করেছেন, তাদের ডিগ্রি বাতিল করা হবে। যারা এখনো অধ্যয়নরত, তাদের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবে উপাচার্য নেতৃত্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান
শাস্তির সিদ্ধান্তের আগে অধ্যাপক এম. আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সাক্ষীদের বয়ান, অভিযোগপত্র, ভিডিও ফুটেজ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

এরপর অভিযুক্তদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয় এবং সিন্ডিকেট সভার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের তালিকা
বরখাস্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—
- • বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের এম মাহবুবার রহমান,
- • বাংলা বিভাগের এম বাকি বিল্লাহ বিকুল ও রাবিউল ইসলাম,
- • ইংরেজি বিভাগের আক্তারুল ইসলাম, মিয়া এম রশিদুজ্জামান ও আফরোজা বানু,
- • ব্যবস্থাপনা বিভাগের এম মাহবুবুল আরফিন,
- • হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের কাজী আখতার হোসেন ও শেলিনা নাসরিন,
- • অর্থনীতি বিভাগের দেবাশীষ শর্মা,
- • তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের তপন কুমার জোয়ারদার ও পরেশ চন্দ্র বর্মন,
- • আইন বিভাগের রেবা মণ্ডল ও শাহজাহান মণ্ডল,
- • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জয়শ্রী সেন,
- • আল-ফিকহ ও আইন বিভাগের আমজাদ হোসেন,
- • মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শহিদুল ইসলাম,
- • বিপণন বিভাগের মাজেদুল ইসলাম এবং
- • আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেহেদি হাসান।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা
১১ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন—আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ওয়ালিদ হাসান মুকুত, আব্দুস সালাম সেলিম, ইব্রাহিম হোসেন সোনা, উকিল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম শিমুল, জে. এম. ইলিয়াস, তোফাজ্জল হোসেন, শেখ আবু সিদ্দিক রকন এবং মাসুদুর রহমান।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা
৩৩ জন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়, সহসভাপতি মুনশি কামরুল হাসান অনিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন মজুমদার, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াফাত হোসেন রাকিব, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক কুমার, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল আলিম ও ক্রীড়া সম্পাদক বিজন রায়সহ আরও অনেকে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা কমিটি বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানি শেষে স্থায়ী শাস্তি নির্ধারণ করবে।
এই সিদ্ধান্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















