০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩ সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটন পোস্ট: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ২ বছরের মেয়ের কলারবোন ভাঙার রহস্য অমীমাংসিত ভারত থেকে রপ্তানি বাড়াবে জাপানের কুবোটা, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দামে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কালিমান্তানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টি না এলে বাড়তে পারে আগুন-ধোঁয়ার সংকট ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা আসাম–মেঘালয় উত্তেজনা: হামলায় জড়িত ৫ মুখোশধারী শনাক্ত, গঠিত বিশেষ তদন্ত দল

হিন্দু বিধবার সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করল বোম্বে হাইকোর্ট

বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে—কোনো হিন্দু নারী যদি পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজনের মাধ্যমে বা ভরণপোষণের বিনিময়ে কোনো সম্পত্তি পান, তবে সেটি তাঁর পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের সম্পত্তি কোনো সীমিত অধিকারের আওতায় পড়বে না, বরং নারী সেই সম্পত্তির সম্পূর্ণ অধিকারী হবেন।


বিধবার সম্পত্তির অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়

বিচারপতি রোহিত ডব্লিউ জোশি ৬ অক্টোবর এই রায় দেন, যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন — হিন্দু নারীর ভরণপোষণের অধিকার কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সম্পত্তির ওপর তাঁর বাস্তব ও আইনি অধিকার।


মামলার প্রেক্ষাপট

রায়টি নাগপুরের ভামভুরকর পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি সম্পত্তি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯২৮ সালে বলাজি ভামভুরকর কয়েকটি সম্পত্তি কেনেন এবং ১৯৩১ সালে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ২৬ অক্টোবর ১৯৫৩ তারিখে তৈরি এক দলিলে তাঁর তিন ছেলে — হরিহর, কেশাও এবং কৃষ্ণা — এবং স্ত্রী লক্ষ্মীবাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করা হয়। ওই দলিল অনুযায়ী, বিতর্কিত বাড়িটি দেওয়া হয় লক্ষ্মীবাইকে।


সম্পত্তি হস্তান্তর ও পরবর্তী বিরোধ

লক্ষ্মীবাই ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি তাঁর নাতি বিনয় হরিহর ভামভুরকরকে উপহার দেন। তবে ১৯৮৮ সালে পরিবারের অন্য সদস্য — ভাবনা, প্রশান্ত এবং প্রজ্ঞা ভামভুরকর — একটি দেওয়ানি মামলা করেন। তাঁদের দাবি ছিল, লক্ষ্মীবাই ওই বাড়ির কেবল “আজীবন ব্যবহারযোগ্য অধিকার” (life interest) পেয়েছিলেন, তাই তিনি সেটি উপহার দিতে পারেননি।


আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায় — কোনো হিন্দু নারীর অধিকারে থাকা সম্পত্তি তাঁর পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে, সীমিত অধিকার নয়।
রায়ে আরও বলা হয়, স্বামীর জীবিত অবস্থায় যেমন স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকার রাখেন, তেমনি স্বামীর মৃত্যুর পরও সেই অধিকার তাঁর স্বামীর ব্যক্তিগত ও পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য থাকে।


সুপ্রিম কোর্টের নজির ও ব্যাখ্যা

বিচারপতি জোশি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন — যে কোনো সম্পত্তি যদি কোনো হিন্দু নারীকে ভরণপোষণ বাবদ দেওয়া হয়, অথবা পারিবারিক বিভাজনের সময় তাঁর নামে বরাদ্দ হয়, তা তাঁর পূর্ণ মালিকানার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি দলিলে যদি কোনো সীমাবদ্ধতা বা শর্ত আরোপ করা থাকে, তাতেও নারীর মালিকানার পরিধি সীমিত করা যাবে না।


রায়ের তাৎপর্য

এই রায়টি হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। আদালতের মতে, নারীর ভরণপোষণের অধিকার “সহানুভূতি বা দয়ার বিষয় নয়”, বরং এটি তাঁর আইনি ও ন্যায্য অধিকার, যা তাঁকে তাঁর মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে।


# হিন্দু_আইন, সম্পত্তি_বিতর্ক, হাইকোর্ট, নারীর_অধিকার, ভারতের_বিচারব্যবস্থা, সারাক্ষণ রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩

হিন্দু বিধবার সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করল বোম্বে হাইকোর্ট

১১:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে—কোনো হিন্দু নারী যদি পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজনের মাধ্যমে বা ভরণপোষণের বিনিময়ে কোনো সম্পত্তি পান, তবে সেটি তাঁর পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের সম্পত্তি কোনো সীমিত অধিকারের আওতায় পড়বে না, বরং নারী সেই সম্পত্তির সম্পূর্ণ অধিকারী হবেন।


বিধবার সম্পত্তির অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়

বিচারপতি রোহিত ডব্লিউ জোশি ৬ অক্টোবর এই রায় দেন, যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন — হিন্দু নারীর ভরণপোষণের অধিকার কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি সম্পত্তির ওপর তাঁর বাস্তব ও আইনি অধিকার।


মামলার প্রেক্ষাপট

রায়টি নাগপুরের ভামভুরকর পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি সম্পত্তি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯২৮ সালে বলাজি ভামভুরকর কয়েকটি সম্পত্তি কেনেন এবং ১৯৩১ সালে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ২৬ অক্টোবর ১৯৫৩ তারিখে তৈরি এক দলিলে তাঁর তিন ছেলে — হরিহর, কেশাও এবং কৃষ্ণা — এবং স্ত্রী লক্ষ্মীবাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করা হয়। ওই দলিল অনুযায়ী, বিতর্কিত বাড়িটি দেওয়া হয় লক্ষ্মীবাইকে।


সম্পত্তি হস্তান্তর ও পরবর্তী বিরোধ

লক্ষ্মীবাই ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি তাঁর নাতি বিনয় হরিহর ভামভুরকরকে উপহার দেন। তবে ১৯৮৮ সালে পরিবারের অন্য সদস্য — ভাবনা, প্রশান্ত এবং প্রজ্ঞা ভামভুরকর — একটি দেওয়ানি মামলা করেন। তাঁদের দাবি ছিল, লক্ষ্মীবাই ওই বাড়ির কেবল “আজীবন ব্যবহারযোগ্য অধিকার” (life interest) পেয়েছিলেন, তাই তিনি সেটি উপহার দিতে পারেননি।


আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায় — কোনো হিন্দু নারীর অধিকারে থাকা সম্পত্তি তাঁর পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে, সীমিত অধিকার নয়।
রায়ে আরও বলা হয়, স্বামীর জীবিত অবস্থায় যেমন স্ত্রী ভরণপোষণের অধিকার রাখেন, তেমনি স্বামীর মৃত্যুর পরও সেই অধিকার তাঁর স্বামীর ব্যক্তিগত ও পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য থাকে।


সুপ্রিম কোর্টের নজির ও ব্যাখ্যা

বিচারপতি জোশি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন — যে কোনো সম্পত্তি যদি কোনো হিন্দু নারীকে ভরণপোষণ বাবদ দেওয়া হয়, অথবা পারিবারিক বিভাজনের সময় তাঁর নামে বরাদ্দ হয়, তা তাঁর পূর্ণ মালিকানার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি দলিলে যদি কোনো সীমাবদ্ধতা বা শর্ত আরোপ করা থাকে, তাতেও নারীর মালিকানার পরিধি সীমিত করা যাবে না।


রায়ের তাৎপর্য

এই রায়টি হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকার আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। আদালতের মতে, নারীর ভরণপোষণের অধিকার “সহানুভূতি বা দয়ার বিষয় নয়”, বরং এটি তাঁর আইনি ও ন্যায্য অধিকার, যা তাঁকে তাঁর মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে।


# হিন্দু_আইন, সম্পত্তি_বিতর্ক, হাইকোর্ট, নারীর_অধিকার, ভারতের_বিচারব্যবস্থা, সারাক্ষণ রিপোর্ট