০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কমলাপুরে ট্রেনের বগিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র বন্যবিড়াল, দেখতেই বলিভিয়ায় ছুটছেন পর্যটকরা চীনের তরুণীদের পোশাকে জাপানি ‘লোলিটা’ ফ্যাশনের নতুন ঢেউ ইউয়ান শক্তিশালী করার চাপ বাড়ছে, কিন্তু কেন ধীরে এগোচ্ছে চীন? জাকার্তায় ভিনফাস্টের বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ট্যাক্সি, এশিয়ায় নতুন করে ছড়াচ্ছে গ্রিন এসএম উপসাগরীয় দেশ থেকে পাকিস্তানে টাকা পাঠানো হবে আরও সস্তা ও দ্রুত, কমতে পারে ‘হাওলা’ হিউম্যানয়েড রোবটের উন্মাদনায় লাগাম চীনের, আইপিওতে এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস কারখানা ঠান্ডা রাখার বিনিয়োগ, ৪ বছরেই উঠতে পারে খরচ গণহত্যা থেকে বেঁচে ওঠা রোহিঙ্গা তরুণের লড়াই, রাষ্ট্রহীনতা পেরিয়ে নতুন স্বপ্ন হুথি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫১)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 204

এমন এই মুহূর্তে কয়েকজনের একটি দল অফিসারদেরকে ধাওয়া করতে শুরু করলে

ফ্রিপোর্টে নোঙরের পর পরই মার্কিন সেনারা জাহাজে বিদ্রোহ করে বসে। জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে সামরিক অফিসার ও রেডক্রসের কয়েকজন কর্মচারি ছিলেন, তারা সবাই মহিলা, জাহাজে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। যেমন: তারা জাহাজের ডেকে থাকতের, তাদের খাদ্যও ছিল উন্নতমানের। তারা ডেকের নিচেয় “জিআই”-য়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন না।

একদিন, সন্ধ্যার পরে, উপরের ডেকের অতিথিরা আনন্দ ফুর্তিতে মেতে ওঠেন, চলে পানাহার, নাচ। সাধারণ সেনাদেরকে এই পার্টিতে ডাকা হয়নি। ফলে ডেকের নিচের হতাশাগ্রস্ত সেনারা পার্টিকে উদ্দেশ্য করে চীৎকার, তীক্ষ্মস্বরে চেঁচিয়ে ওঠা, উচ্চস্বরে মুণ্ডুপাত ইত্যাদি শুরু করে দেয়। বিশেষ করে সেইদিন তাদের মানসিক অবস্থা আরো বেশি বিপর্যন্ত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল যে উপরের ডেকের ‘যাত্রীরা’ নিয়মিতভাবে আইসক্রীম খায়, কিন্তু সাধারণ সেনাদের ভাগ্যে কালেভদ্রেও আইসক্রীম খাওয়ার সৌভাগ্য হয় না।

ইতো আত্মাজীবনীতে এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে লেখেন যে। “একজন সামরিক অফিসার সামনের উচ্চতর ডেকে উঠে দাঁড়ান এবং চীৎকার করে আমাদেরকে চীৎকার চেঁচামেচি বন্ধ করে শান্তশিষ্ট হতে বলেন; আর যদি মা মান্য কবি তো আমাদেরকে কোর্ট মার্শালের সামনে হাজির করা হবে।

অসামরিক সেনারা, তারা তো এই ধরনের আদেশনির্দেশ পালনে অভ্যস্ত নয়, অফিসারের ‘দাবি’ শুনে তারা বরং পাল্টা আরো চীৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। এবারে, আমাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য ঘটনাস্থলে জাহাজের ক্যাপ্টেন আসেন।

কিন্তু তিনি তো “মার্চেন্ট মেরিন”, নৌবাহিনী বা সেনাবাহিনীর কেউ মন। কাজেই কেউ তাঁকে পাত্তা দেয় না। সেনাদলের এক অফিসার, তাঁর ব্যাঙ্ক। মেজর, তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন, বললেন যে আমরা বিদ্রোহ করেছি এবং তাই তিনি তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর বিধিব্যবস্থা মতো আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। প্রায় একই সময়ে তিনজন কি চারজন অফিসার জাহাজের পেছন দিক থেকে আমাদের ডেকে চলে এলেন এবং আমাদের নাম জিজ্ঞেস করতে লাগলেন।

সেনারা তখন অফিসারদেরকে আচ্ছামতো বিদ্রূপ উপহাস করতে থাকে। অফিসারের দল তখন সেনাদেরকে যার যেখানে স্থান সেখানে ফিরে যেতে বলেন। এমন এই মুহূর্তে কয়েকজনের একটি দল অফিসারদেরকে ধাওয়া করতে শুরু করলে, অফিসাররা তড়িঘড়ি নিজেদের ডেকের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যান। তা যাবেনই তো। কারণ, ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ ধাওয়াকারিরা প্রচুর গালিগালাজ তো করছিলই, কেউ কেউ হাতের কাছে যা পেয়েছে তা-ই ছুড়ে মারতে দ্বিধা করেনি।”

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)

জনপ্রিয় সংবাদ

কমলাপুরে ট্রেনের বগিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫১)

০৯:০০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

এমন এই মুহূর্তে কয়েকজনের একটি দল অফিসারদেরকে ধাওয়া করতে শুরু করলে

ফ্রিপোর্টে নোঙরের পর পরই মার্কিন সেনারা জাহাজে বিদ্রোহ করে বসে। জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে সামরিক অফিসার ও রেডক্রসের কয়েকজন কর্মচারি ছিলেন, তারা সবাই মহিলা, জাহাজে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। যেমন: তারা জাহাজের ডেকে থাকতের, তাদের খাদ্যও ছিল উন্নতমানের। তারা ডেকের নিচেয় “জিআই”-য়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন না।

একদিন, সন্ধ্যার পরে, উপরের ডেকের অতিথিরা আনন্দ ফুর্তিতে মেতে ওঠেন, চলে পানাহার, নাচ। সাধারণ সেনাদেরকে এই পার্টিতে ডাকা হয়নি। ফলে ডেকের নিচের হতাশাগ্রস্ত সেনারা পার্টিকে উদ্দেশ্য করে চীৎকার, তীক্ষ্মস্বরে চেঁচিয়ে ওঠা, উচ্চস্বরে মুণ্ডুপাত ইত্যাদি শুরু করে দেয়। বিশেষ করে সেইদিন তাদের মানসিক অবস্থা আরো বেশি বিপর্যন্ত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল যে উপরের ডেকের ‘যাত্রীরা’ নিয়মিতভাবে আইসক্রীম খায়, কিন্তু সাধারণ সেনাদের ভাগ্যে কালেভদ্রেও আইসক্রীম খাওয়ার সৌভাগ্য হয় না।

ইতো আত্মাজীবনীতে এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে লেখেন যে। “একজন সামরিক অফিসার সামনের উচ্চতর ডেকে উঠে দাঁড়ান এবং চীৎকার করে আমাদেরকে চীৎকার চেঁচামেচি বন্ধ করে শান্তশিষ্ট হতে বলেন; আর যদি মা মান্য কবি তো আমাদেরকে কোর্ট মার্শালের সামনে হাজির করা হবে।

অসামরিক সেনারা, তারা তো এই ধরনের আদেশনির্দেশ পালনে অভ্যস্ত নয়, অফিসারের ‘দাবি’ শুনে তারা বরং পাল্টা আরো চীৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। এবারে, আমাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য ঘটনাস্থলে জাহাজের ক্যাপ্টেন আসেন।

কিন্তু তিনি তো “মার্চেন্ট মেরিন”, নৌবাহিনী বা সেনাবাহিনীর কেউ মন। কাজেই কেউ তাঁকে পাত্তা দেয় না। সেনাদলের এক অফিসার, তাঁর ব্যাঙ্ক। মেজর, তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন, বললেন যে আমরা বিদ্রোহ করেছি এবং তাই তিনি তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর বিধিব্যবস্থা মতো আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। প্রায় একই সময়ে তিনজন কি চারজন অফিসার জাহাজের পেছন দিক থেকে আমাদের ডেকে চলে এলেন এবং আমাদের নাম জিজ্ঞেস করতে লাগলেন।

সেনারা তখন অফিসারদেরকে আচ্ছামতো বিদ্রূপ উপহাস করতে থাকে। অফিসারের দল তখন সেনাদেরকে যার যেখানে স্থান সেখানে ফিরে যেতে বলেন। এমন এই মুহূর্তে কয়েকজনের একটি দল অফিসারদেরকে ধাওয়া করতে শুরু করলে, অফিসাররা তড়িঘড়ি নিজেদের ডেকের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যান। তা যাবেনই তো। কারণ, ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ ধাওয়াকারিরা প্রচুর গালিগালাজ তো করছিলই, কেউ কেউ হাতের কাছে যা পেয়েছে তা-ই ছুড়ে মারতে দ্বিধা করেনি।”

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৫০)