নির্বাচন কমিশনে সাত দফা দাবি পেশ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে সাত দফা দাবি পেশ করেছেন। সংগঠনটি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সম্পাদক পলাশ কান্তি দে বলেন, “আমরা আমাদের সাতটি দাবি উত্থাপন করেছি, যার মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস
নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সিইসি আমাদের উদ্বেগগুলো আন্তরিকভাবে শুনেছেন এবং বলেছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আমাদের বলেছেন, সবাই যেন ভোটকেন্দ্রে যান। আমরাও জানিয়েছি, আমরা নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই।”
পলাশ কান্তি দে আরও জানান, নির্বাচনের সময় মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ঘরে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। “আমরা তাকে বলেছি, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। সিইসি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এবার কেউ আপনাদের ওপর নির্যাতন চালাতে পারবে না। এমন চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ
পলাশ কান্তি দে বলেন, “আমাদের উদ্বেগ অমূলক নয়। আমরা সাধারণত দুইটি সময়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকি—দুর্গাপূজা এবং নির্বাচন। নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের জন্য কখনোই আরামদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রায়ই ঘটে এসেছে, যা সব সরকার আমলেই হয়েছে। তবে কমিশন জানিয়েছে, এবার দোষীরা ছাড় পাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সিইসি আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, সংখ্যালঘুরা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে এবং বাড়ি ফিরতে পারবেন। যদি কোনো বিচ্যুতি ঘটে, নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে, যদি কেউ সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখানোর বা তাদের স্থাপনায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে।”
সাত দফা দাবির মূল বিষয়
হিন্দু মহাজোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনে যে সাতটি দাবি উত্থাপন করেছেন, সেগুলো হলো—
এক. নির্বাচন শুরুর দশ দিন আগে থেকে এবং শেষের দশ দিন পর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বাসস্থান, মন্দির ও মঠে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দুই. ধর্মীয় স্থাপনায় রাজনৈতিক প্রচারণা বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা।
তিন. নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।
চার. সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেল গঠন।
পাঁচ. যেসব এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ঘটবে, সেখানে ভোট স্থগিত রেখে তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
ছয়. নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করা।
সাত. ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
হিন্দু মহাজোটের এই দাবি ও উদ্বেগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের পরও সংগঠনটি চাইছে—প্রতিশ্রুতি যেন কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয় এবং কোনো নাগরিকই যেন ভোটের মৌলিক অধিকার প্রয়োগে ভয় না পায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















