০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
পান্ডার ঘরে ফেরা ফিলাডেলফিয়ার রকি মূর্তি সরানো নয়, শহরের জনপরিসর রক্ষার প্রশ্ন ভ্যালেন্তিনোর বিদায়: ফ্যাশনের ঊর্ধ্বে উঠে যিনি গড়েছিলেন চিরন্তন সৌন্দর্যের সাম্রাজ্য দ্রুত ডেলিভারির আড়ালে মানবিক মূল্য রূপচর্চার উত্থান বদলে দিচ্ছে বিশ্ববাজারের মুখ শিক্ষা জীবনে অর্থ যোগ করুক ডেরা ইসমাইল খানে বিয়ের আসরে আত্মঘাতী হামলা, প্রাণ গেল সাতজনের বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান চরম তাপের নাটক পেরিয়ে সিনারের প্রত্যাবর্তন, জোকোভিচের চারশো জয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড, আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ আফ্রিদি ও গিলেস্পির

রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে ১৬.৫ ডিগ্রিতে: শীতের আগমনী বার্তা

কার্তিকের শেষ প্রান্তে এসে রাজশাহীর সকালবেলায় নেমেছে হালকা কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসের স্পর্শ। তাপমাত্রা নেমে গেছে ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা শীতের আগমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটাই উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রথম বার্তা, আর রাজধানী ঢাকাতেও শীতের ছোঁয়া পেতে বেশি দেরি নেই।


উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রথম আমেজ

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমেছে, ফলে গরমের অস্বস্তি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যদিও শীতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি, শেষরাত বা ভোরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সাধারণত দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে শীতের প্রকৃত অনুভূতি পাওয়া যায়।

তিনি উদাহরণ দেন, “যদি দিনের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি আর রাতের তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি বা তার কম হয়, তাহলে সেটিই শীতের আগমন নির্দেশ করে।”

মল্লিক আরও জানান, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল—বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


ঢাকায় এখনো গরমের প্রভাব

দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে শীতের আমেজ দেখা দিলেও রাজধানী ঢাকায় এখনো তেমন ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ রাজধানীতেও শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়বে।
তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনে বাতাসের গতিবেগ বাড়লে বা দিনের দৈর্ঘ্য কমে এলে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।


বর্ষা ও শীতের সম্পর্ক

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষাকাল থাকে আষাঢ় থেকে শ্রাবণ (মধ্য জুন থেকে মধ্য আগস্ট) পর্যন্ত, তবে দেশে বৃষ্টি প্রায়শই অক্টোবর পর্যন্ত গড়ায়।
গত দুই বছর তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও, এ বছর ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও গভীর নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টি দেখা গেছে।

বাংলাদেশে প্রচলিত একটি প্রবাদ—“উনো বর্ষা, দুনো শীত”—অর্থাৎ বর্ষায় বৃষ্টি কম হলে শীতে ঠাণ্ডা বেশি পড়ে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মল্লিক বলেন, কম বৃষ্টি হলে রাতের বেলা দ্রুত ঠাণ্ডা নেমে আসে, ফলে শীত বেশি তীব্র হয়। বিপরীতে, বেশি বৃষ্টির বছরে মাটির আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ঠাণ্ডা কম অনুভূত হয়।

তিনি যোগ করেন, “এই প্রবাদটি নিছক লোকজ কথা নয়—বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।”


শীতের আগমন কবে

আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত মধ্য নভেম্বরের পর থেকেই দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীত পুরোপুরি নেমে আসে।
রাজশাহীসহ ওইসব এলাকায় ইতোমধ্যেই শীতের ইঙ্গিত স্পষ্ট, তবে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ঠাণ্ডা পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

#রাজশাহী #শীতের_শুরু #তাপমাত্রা #আবহাওয়া_অধিদপ্তর #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

পান্ডার ঘরে ফেরা

রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমে ১৬.৫ ডিগ্রিতে: শীতের আগমনী বার্তা

০২:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

কার্তিকের শেষ প্রান্তে এসে রাজশাহীর সকালবেলায় নেমেছে হালকা কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসের স্পর্শ। তাপমাত্রা নেমে গেছে ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা শীতের আগমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটাই উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রথম বার্তা, আর রাজধানী ঢাকাতেও শীতের ছোঁয়া পেতে বেশি দেরি নেই।


উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রথম আমেজ

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমেছে, ফলে গরমের অস্বস্তি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যদিও শীতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি, শেষরাত বা ভোরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সাধারণত দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে শীতের প্রকৃত অনুভূতি পাওয়া যায়।

তিনি উদাহরণ দেন, “যদি দিনের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি আর রাতের তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি বা তার কম হয়, তাহলে সেটিই শীতের আগমন নির্দেশ করে।”

মল্লিক আরও জানান, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল—বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই শীতের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


ঢাকায় এখনো গরমের প্রভাব

দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে শীতের আমেজ দেখা দিলেও রাজধানী ঢাকায় এখনো তেমন ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ রাজধানীতেও শীতের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়বে।
তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনে বাতাসের গতিবেগ বাড়লে বা দিনের দৈর্ঘ্য কমে এলে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।


বর্ষা ও শীতের সম্পর্ক

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষাকাল থাকে আষাঢ় থেকে শ্রাবণ (মধ্য জুন থেকে মধ্য আগস্ট) পর্যন্ত, তবে দেশে বৃষ্টি প্রায়শই অক্টোবর পর্যন্ত গড়ায়।
গত দুই বছর তুলনামূলক কম বৃষ্টি হলেও, এ বছর ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও গভীর নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টি দেখা গেছে।

বাংলাদেশে প্রচলিত একটি প্রবাদ—“উনো বর্ষা, দুনো শীত”—অর্থাৎ বর্ষায় বৃষ্টি কম হলে শীতে ঠাণ্ডা বেশি পড়ে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মল্লিক বলেন, কম বৃষ্টি হলে রাতের বেলা দ্রুত ঠাণ্ডা নেমে আসে, ফলে শীত বেশি তীব্র হয়। বিপরীতে, বেশি বৃষ্টির বছরে মাটির আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ঠাণ্ডা কম অনুভূত হয়।

তিনি যোগ করেন, “এই প্রবাদটি নিছক লোকজ কথা নয়—বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।”


শীতের আগমন কবে

আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত মধ্য নভেম্বরের পর থেকেই দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীত পুরোপুরি নেমে আসে।
রাজশাহীসহ ওইসব এলাকায় ইতোমধ্যেই শীতের ইঙ্গিত স্পষ্ট, তবে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ঠাণ্ডা পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

#রাজশাহী #শীতের_শুরু #তাপমাত্রা #আবহাওয়া_অধিদপ্তর #সারাক্ষণ_রিপোর্ট