০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ফিলাডেলফিয়ার রকি মূর্তি সরানো নয়, শহরের জনপরিসর রক্ষার প্রশ্ন ভ্যালেন্তিনোর বিদায়: ফ্যাশনের ঊর্ধ্বে উঠে যিনি গড়েছিলেন চিরন্তন সৌন্দর্যের সাম্রাজ্য দ্রুত ডেলিভারির আড়ালে মানবিক মূল্য রূপচর্চার উত্থান বদলে দিচ্ছে বিশ্ববাজারের মুখ শিক্ষা জীবনে অর্থ যোগ করুক ডেরা ইসমাইল খানে বিয়ের আসরে আত্মঘাতী হামলা, প্রাণ গেল সাতজনের বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান চরম তাপের নাটক পেরিয়ে সিনারের প্রত্যাবর্তন, জোকোভিচের চারশো জয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড, আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ আফ্রিদি ও গিলেস্পির গণভোটে ‘না’ বললেই স্বৈরাচারের দোসর, আর ‘হ্যাঁ’ প্রচার মানেই নাৎসিবাদের সঙ্গী: জিএম কাদের

বর্তমানের সব জাতীয় সংকটই সরকারের সাজানো নাটক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বর্তমানের সব জাতীয় সংকটই সরকার কর্তৃক সাজানো নাটক বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এসব নাটকের উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে চলমান প্রতিটি জাতীয় সংকট আসলে একটি ‘সাজানো নাটক’, যার উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা—যারা কেবল নিজেদের ভোটাধিকার নিয়েই চিন্তিত।

ভোট ও গণতন্ত্র নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য

রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন তিনি। স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এই কর্মসূচিটি ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের প্রচারণার অংশ।

ফখরুল বলেন, “মানুষ বোঝে না গণভোট বা সনদের মানে কী। নির্বাচনই হবে গণভোটের দিন। জনগণের স্বার্থে যে কোনো সংস্কার আমরা মেনে নেব, আর যেগুলোতে দ্বিমত থাকবে, সেগুলো সংসদে সমাধান করা হবে।”

সরকারের সমর্থনহীনতা ও কৃষকদের দুরবস্থা

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে, তাই তাদের কষ্ট বুঝতে পারছে না। তিনি বলেন, “এ কারণেই কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

“আপনারা দয়া করে ধানের শীষে ভোট দিন। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন,” অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন ফখরুল।

১৯৭১ এবং ২০২৪দুই গণহত্যার পার্থক্য

ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে গণহত্যা হয়েছিল পাকিস্তানিদের হাতে, আর ২০২৪ সালে তা হয়েছে আমাদের নিজেদের দেশের ফ্যাসিবাদী শাসকদের হাতে, যারা আমাদের সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।”

জামায়াত প্রসঙ্গে বক্তব্য

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যেন জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কর্মকাণ্ড তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেয়—ধানের শীষে ভোট দেবে নাকি পাল্লায়।

হঠাৎ অসুস্থতা ও বক্তব্য অব্যাহত

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ফখরুল হঠাৎ দুর্বল ও মাথা ঘোরা অনুভব করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং তিনি কিছুটা কাঁপছিলেন।

পরে স্থানীয় নেতারা তাঁকে বসতে সাহায্য করেন। কিছুক্ষণ পর ফখরুল নিজেই সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “কিছু হয়নি, আমি ভালো আছি।” এরপর তিনি আবার বক্তৃতা চালিয়ে যান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন

সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গম আলী, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলাডেলফিয়ার রকি মূর্তি সরানো নয়, শহরের জনপরিসর রক্ষার প্রশ্ন

বর্তমানের সব জাতীয় সংকটই সরকারের সাজানো নাটক: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

০৮:০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বর্তমানের সব জাতীয় সংকটই সরকার কর্তৃক সাজানো নাটক বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এসব নাটকের উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, দেশে চলমান প্রতিটি জাতীয় সংকট আসলে একটি ‘সাজানো নাটক’, যার উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা—যারা কেবল নিজেদের ভোটাধিকার নিয়েই চিন্তিত।

ভোট ও গণতন্ত্র নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য

রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন তিনি। স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এই কর্মসূচিটি ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের প্রচারণার অংশ।

ফখরুল বলেন, “মানুষ বোঝে না গণভোট বা সনদের মানে কী। নির্বাচনই হবে গণভোটের দিন। জনগণের স্বার্থে যে কোনো সংস্কার আমরা মেনে নেব, আর যেগুলোতে দ্বিমত থাকবে, সেগুলো সংসদে সমাধান করা হবে।”

সরকারের সমর্থনহীনতা ও কৃষকদের দুরবস্থা

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়েছে, তাই তাদের কষ্ট বুঝতে পারছে না। তিনি বলেন, “এ কারণেই কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।

“আপনারা দয়া করে ধানের শীষে ভোট দিন। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন,” অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন ফখরুল।

১৯৭১ এবং ২০২৪দুই গণহত্যার পার্থক্য

ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালে গণহত্যা হয়েছিল পাকিস্তানিদের হাতে, আর ২০২৪ সালে তা হয়েছে আমাদের নিজেদের দেশের ফ্যাসিবাদী শাসকদের হাতে, যারা আমাদের সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।”

জামায়াত প্রসঙ্গে বক্তব্য

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যেন জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কর্মকাণ্ড তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেয়—ধানের শীষে ভোট দেবে নাকি পাল্লায়।

হঠাৎ অসুস্থতা ও বক্তব্য অব্যাহত

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ফখরুল হঠাৎ দুর্বল ও মাথা ঘোরা অনুভব করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁর কণ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং তিনি কিছুটা কাঁপছিলেন।

পরে স্থানীয় নেতারা তাঁকে বসতে সাহায্য করেন। কিছুক্ষণ পর ফখরুল নিজেই সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, “কিছু হয়নি, আমি ভালো আছি।” এরপর তিনি আবার বক্তৃতা চালিয়ে যান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন

সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গম আলী, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন।