০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা দাবি, দুই ভাই গ্রেপ্তার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাকি কাঁটাতার দ্রুত শেষ করতে ৪৫ দিনের আল্টিমেটাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক বিজিবি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়, ট্রাম্প-বৈঠকের আগে ‘প্রস্তুত’ বেইজিং বিদেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় স্বস্তি, ভিসা বন্ড পাঠানোর অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: সীমান্ত ইস্যুতে কড়া বার্তা হুমায়ুন কবিরের রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র-পদ্মা সেতু-কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ঋণের বোঝা এখন ২০ কোটি মানুষের কাঁধে: প্রধানমন্ত্রী ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে অভিশংসনের পক্ষে বিপুল ভোট, ২০২৮ নির্বাচনে বড় প্রভাবের আশঙ্কা লাইফ সাপোর্টে বরেণ্য নাট্যজন আতাউর রহমান, সুস্থতার জন্য দোয়া চাইলেন পরিবার জাপানে বসবাসের স্বপ্নে মার্কিনিদের আগ্রহ বাড়ছে, তবে বাধা ভাষা ও কর্মসংস্কৃতি

ভারতের স্পষ্ট বার্তা: যেখানেই হোক, সন্ত্রাস দমনে অভিযান চালানোর পূর্ণ অধিকার আছে

মস্কোয় এসসিও প্রধানমন্ত্রিদের কাউন্সিল সভায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কঠোর বার্তায় বলেছেন—ভারতের জনগণকে সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করা দেশের সার্বভৌম অধিকার, এবং প্রয়োজন হলে ভারত যেকোনো জায়গায়, যেকোনো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর মতো অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান: ভারতের জিরো-টলারেন্স নীতি

মস্কোর বৈঠকে জয়শঙ্কর স্পষ্ট বলেন, এসসিও’র মূল লক্ষ্যই হলো সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই। তাঁর ভাষায়—

“সন্ত্রাসবাদ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কোনও যুক্তি নেই, ব্যাখ্যা নেই। বিশ্বকে সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো-টলারেন্স’ দেখাতে হবে।”

অপারেশন সিন্দূর: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যুত্তর

  • • ২২ এপ্রিল পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিন্দূর’ শুরু করে।
  • • পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে (পিওকে) থাকা সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় টার্গেটেড হামলা চালায় ভারত।
  • • ১০ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগেই অভিযান শেষ হয়।

জুনে এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল শুধু এই কারণে যে, বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবং ভারত সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।

Operation Sindoor: India's Precision Strike on Terror Camps in Pakistan - Political Science Solution

বৈশ্বিক অর্থনীতি: ঝুঁকি বাড়ছে, সংযোগ প্রয়োজন

জয়শঙ্কর বলেন—বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি, চাহিদার অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিষয়টিকে আরও জটিল করছে।

তিনি জোর দেন—

  • • অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো,
  • • স্বচ্ছ ও ন্যায্য বাণিজ্য প্রথা নিশ্চিত করা,
  • • এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর।

মার্কিন চাপ, রাশিয়া ইস্যু ও ভারতের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রফতানির ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যার ২৫% দণ্ডমূলক—রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে।

এর মধ্যেই ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও মানবিক সহায়তা

জয়শঙ্কর জানান—মানুষে-মানুষে সংযোগই যেকোনো সম্পর্ককে গভীর করে। শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, ক্রীড়াবিদদের আদান-প্রদান বাড়লে এসসিও সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া উন্নত হয়।

ভারত ইতোমধ্যে—

  • • SCO দেশগুলোকে ক্যানসার চিকিৎসা যন্ত্র দিয়েছে,
  • • মহামারিতে ওষুধ-ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে,
  • • আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া, ভারতের প্রস্তাবিত ‘Coalition for Disaster Resilient Infrastructure’ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসসিও সংস্কার: আধুনিকায়ন জরুরি

তিনি বলেন—

পুতিনের ভারতের সফর সামনে রেখে ভারত–রাশিয়ার চুক্তি চূড়ান্তের প্রস্তুতি

  • • সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে SCO কেন্দ্রগুলোর কাজকে ভারত সমর্থন করে।
  • • সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে SCO-কে আরও নমনীয় ও আধুনিক হতে হবে।
  • • ইংরেজিকে SCO-এর সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ভারত-রাশিয়া: শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি

জয়শঙ্কর জানান—
ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ডিসেম্বর সফরের আগে দু’দেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, প্রকল্প ও সহযোগিতা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডিসেম্বরে পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

 

#IndiaRightToSelfDefense #AntiTerrorOperations #OperationSindoor #Jaishankar #IndianForeignPolicy #IndiaRussiaRelations #SCOSummit

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা দাবি, দুই ভাই গ্রেপ্তার

ভারতের স্পষ্ট বার্তা: যেখানেই হোক, সন্ত্রাস দমনে অভিযান চালানোর পূর্ণ অধিকার আছে

০৩:২৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

মস্কোয় এসসিও প্রধানমন্ত্রিদের কাউন্সিল সভায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কঠোর বার্তায় বলেছেন—ভারতের জনগণকে সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করা দেশের সার্বভৌম অধিকার, এবং প্রয়োজন হলে ভারত যেকোনো জায়গায়, যেকোনো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর মতো অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান: ভারতের জিরো-টলারেন্স নীতি

মস্কোর বৈঠকে জয়শঙ্কর স্পষ্ট বলেন, এসসিও’র মূল লক্ষ্যই হলো সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই। তাঁর ভাষায়—

“সন্ত্রাসবাদ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এর কোনও যুক্তি নেই, ব্যাখ্যা নেই। বিশ্বকে সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো-টলারেন্স’ দেখাতে হবে।”

অপারেশন সিন্দূর: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যুত্তর

  • • ২২ এপ্রিল পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিন্দূর’ শুরু করে।
  • • পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে (পিওকে) থাকা সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় টার্গেটেড হামলা চালায় ভারত।
  • • ১০ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগেই অভিযান শেষ হয়।

জুনে এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক যৌথ বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল শুধু এই কারণে যে, বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবং ভারত সেই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।

Operation Sindoor: India's Precision Strike on Terror Camps in Pakistan - Political Science Solution

বৈশ্বিক অর্থনীতি: ঝুঁকি বাড়ছে, সংযোগ প্রয়োজন

জয়শঙ্কর বলেন—বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি, চাহিদার অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিষয়টিকে আরও জটিল করছে।

তিনি জোর দেন—

  • • অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো,
  • • স্বচ্ছ ও ন্যায্য বাণিজ্য প্রথা নিশ্চিত করা,
  • • এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর।

মার্কিন চাপ, রাশিয়া ইস্যু ও ভারতের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রফতানির ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে, যার ২৫% দণ্ডমূলক—রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে।

এর মধ্যেই ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও মানবিক সহায়তা

জয়শঙ্কর জানান—মানুষে-মানুষে সংযোগই যেকোনো সম্পর্ককে গভীর করে। শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, ক্রীড়াবিদদের আদান-প্রদান বাড়লে এসসিও সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া উন্নত হয়।

ভারত ইতোমধ্যে—

  • • SCO দেশগুলোকে ক্যানসার চিকিৎসা যন্ত্র দিয়েছে,
  • • মহামারিতে ওষুধ-ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে,
  • • আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া, ভারতের প্রস্তাবিত ‘Coalition for Disaster Resilient Infrastructure’ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসসিও সংস্কার: আধুনিকায়ন জরুরি

তিনি বলেন—

পুতিনের ভারতের সফর সামনে রেখে ভারত–রাশিয়ার চুক্তি চূড়ান্তের প্রস্তুতি

  • • সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে SCO কেন্দ্রগুলোর কাজকে ভারত সমর্থন করে।
  • • সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে SCO-কে আরও নমনীয় ও আধুনিক হতে হবে।
  • • ইংরেজিকে SCO-এর সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ভারত-রাশিয়া: শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি

জয়শঙ্কর জানান—
ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ডিসেম্বর সফরের আগে দু’দেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, প্রকল্প ও সহযোগিতা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডিসেম্বরে পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

 

#IndiaRightToSelfDefense #AntiTerrorOperations #OperationSindoor #Jaishankar #IndianForeignPolicy #IndiaRussiaRelations #SCOSummit