১০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
স্বর্ণের নতুন দৌড়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত অলিম্পিকের আলোয় কর্টিনা: পাহাড়ি শহরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই তাইওয়ান রক্ষায় ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না মেটাবলিক স্বাস্থ্য কেন নীরব বিপদ, শরীরের ভেতরে কীভাবে ধীরে ধীরে ভাঙন ধরায় নতুন উচ্চ রেজোলিউশন ছবিতে নোভার বিস্ফোরণ নিয়ে পুরোনো ধারণা নড়ল বক্স অফিসে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এগিয়ে, ‘বোন টেম্পল’ পিছিয়ে ভূমিকম্পের পরও টিকে থাকার লড়াই ওয়াজিমার ল্যাকার শিল্প ২০২৬ সালে ঘরই হবে নিরাপদ আশ্রয়, ব্যক্তিত্বের ছাপে সাজাবে বাড়ি ড্রাগনের যুদ্ধ ছেড়ে মানুষের ভেতরের লড়াই, ওয়েস্টেরসের নীরব যুগে নতুন যাত্রা সংযুক্তিতে শক্তি, পরিবারে ভবিষ্যৎ

 ‘৬-৭’ কি আপনাকে বিভ্রান্ত করে? এটাই চায় জেনারেশন জেড

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে এখন শিশু ও টিনএজারদের মুখে বারবার শোনা যাচ্ছে একটি অদ্ভুত শব্দ—‘৬-৭’। এই শব্দের কোনো অর্থ নেই, আর সেটাই তরুণদের কাছে সবচেয়ে মজার বিষয়। তারা ইচ্ছে করে এমন শব্দ ব্যবহার করে যাতে বড়রা বিভ্রান্ত হয়।

ইন্ডিয়ানার ১০ বছরের অ্যাশলিন বলল, “৬-৭-এর কোনো মানে নেই। ইচ্ছে করলে বলে দিই।” জর্জিয়ার কার্টারও একই কথা বলল। পেনসিলভানিয়ার ১৬ বছরের ডিলান মনে করে, বড়রা যখন অর্থ খুঁজে পায় না, তখন শব্দটি আরও বেশি মজার লাগে।

ইন্টারনেটে শব্দটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বাবা-মা ও শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। Dictionary.com তো “৬-৭”-কে বছরের শব্দও ঘোষণা করেছে, কারণ এর কোনো সংজ্ঞাই নেই।

তরুণরা সব সময়ই এমন শব্দ ব্যবহার করে যা বড়দের বোঝা কঠিন। আগে মুখে মুখে এই শব্দ ছড়াত, এখন টিকটক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে আরও দ্রুত।

 ইচ্ছা করেই অদ্ভুত, অর্থহীন মজা তৈরি

সম্প্রতি “স্কিবিডি” শব্দ বা এআই দিয়ে তৈরি অদ্ভুত চরিত্র—যেমন ব্যালে জুতোপরা কফির কাপ বা মানুষের পা-ওয়ালা হাঙর—এসবই তরুণদের ইচ্ছাকৃতভাবে রহস্য তৈরি করার উদাহরণ। তারা বোঝাতে চায়—সবকিছু কেনই বা বড়দের বুঝতে হবে!

What Does '6-7' Mean? Don't Expect Gen Alpha to Explain It. - The New York  Times

ইউরোপে আবার কিছু তরুণ পার্কে জড়ো হয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে পুডিং খাওয়ার মজায় মেতে আছে। এসব কাজের কোনো উদ্দেশ্য নেই—কিন্তু তাদের কাছে এগুলোই মজা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তরুণদের জীবন ইন্টারনেটে সবার সামনে থাকায় তারা এখন ইচ্ছা করেই নিজেদেরকে কিছুটা ‘অদেখা’ বা ‘অজানা’ রাখতে চাইছে।

 স্ল্যাং ভেদ করতে চাওয়া বড়দের কৌতূহল

বড়রা সব সময়ই টিনএজ স্ল্যাং বোঝার চেষ্টা করেন। ১৯৯০–এর দশকে এক তরুণী তো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ইচ্ছে করেই কয়েকটি ভুয়া স্ল্যাং বলেছিলেন, কারণ তিনি চাইছিলেন বড়রা একটু বিভ্রান্ত হোক।

ইন্টারনেট যুগে মিলেনিয়ালরাও তাদের বাবা-মাকে বিভ্রান্ত করেছেন। এখন তারাই আবার নিজেদের সন্তানদের স্ল্যাং বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন—কেন cooked মানে বিভ্রান্ত বা rizz মানে আকর্ষণ—এসব বের করতে গোয়েন্দাগিরি করতে হচ্ছে।

What It Means if Your Child Suddenly Starts Saying '67' - Newsweek

কারণ এখন স্ল্যাং তৈরি হয় ভিডিও, মিম, গেম, টিকটক—সব মিলিয়ে। তাই উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন।

তরুণদের স্ল্যাং ব্যাখ্যা করা—একটি ব্যবসা

আজকের অনলাইন দুনিয়ায় তরুণদের শব্দ বিশ্লেষণ করে প্রকাশনা তৈরি করা এক বড় ব্যবসা। সংবাদমাধ্যম, ইউটিউবার, শিক্ষক—অনেকে এসব ব্যাখ্যা করার কাজ থেকে আয় করছেন।

Gen Z ও Gen Alpha–এর অভ্যাস টিকটকে সবসময় দেখা যায়, তাই বড়দের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কিন্তু তরুণরা মনে করে, এই কৌতূহলই মজার—তারা বড়দের বিভ্রান্ত করতে আরও নতুন শব্দ উদ্ভাবন করে।

 ব্যক্তিগত জগত রক্ষার চেষ্টা

১৯ বছরের ভায়োলেট মনে করে, বড়রা যখন তরুণদের স্টাইল বা রসিকতা ব্যাখ্যা করতে চায়, তখন সেটা অপ্রিয় লাগে। তার মতে, জেনারেশন জেড এমন মিম তৈরি করে যা এতটাই অর্থহীন যে বুঝতে না পারলেই ভালো।

যেমন—গ্রিঞ্চের নীল রঙের ছবির ওপর লেখা: “আগামীকাল হাঁটু অপারেশন”—এমন কিছু যা শুনলে কোনো মানে হয় না। অথচ তাদের কাছে এগুলোই মজার।

২২ বছরের ক্রিস্টেন বলেন, এসব অদ্ভুত চরিত্র বা মিম তরুণদের এক ধরনের মানসিক আরাম দেয়—যাকে তারা মজা করে বলে “কোপিয়াম”—মানে কৌতুকের মাধ্যমে চাপ সামলানো।

 Gen Alpha—আরও বেশি রহস্যময় স্ল্যাংয়ের পথে

Gen Alpha—যারা Gen Z-এর পরের প্রজন্ম—তারা আরও দ্রুতগতিতে নতুন, অদ্ভুত, বিচিত্র শব্দ তৈরি করছে। বড়রা যখন “৬-৭” বুঝে ফেলতে শিখল, তখনই শিশুরা নতুন একটি স্ল্যাং তৈরি করেছে, যা আবারও বড়দের বোঝার বাইরে।

ওরিগনের এক শিক্ষক বলেন, “এটা থামবে না। তারা নতুন কিছু বানাবেই।”

 

#তরুণরা #ভাষা #স্ল্যাং #জেনজেড #জেনআলফা #ট্রেন্ড #স্কুল #টিকটক #মিম #ইন্টারনেট #সংস্কৃতি #সমাজ #শব্দ #নতুনশব্দ #অদ্ভুত #হাস্যরস #অনলাইন #প্রজন্ম #৬৭ #youthculture #trend2025

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বর্ণের নতুন দৌড়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

 ‘৬-৭’ কি আপনাকে বিভ্রান্ত করে? এটাই চায় জেনারেশন জেড

০৫:০০:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে এখন শিশু ও টিনএজারদের মুখে বারবার শোনা যাচ্ছে একটি অদ্ভুত শব্দ—‘৬-৭’। এই শব্দের কোনো অর্থ নেই, আর সেটাই তরুণদের কাছে সবচেয়ে মজার বিষয়। তারা ইচ্ছে করে এমন শব্দ ব্যবহার করে যাতে বড়রা বিভ্রান্ত হয়।

ইন্ডিয়ানার ১০ বছরের অ্যাশলিন বলল, “৬-৭-এর কোনো মানে নেই। ইচ্ছে করলে বলে দিই।” জর্জিয়ার কার্টারও একই কথা বলল। পেনসিলভানিয়ার ১৬ বছরের ডিলান মনে করে, বড়রা যখন অর্থ খুঁজে পায় না, তখন শব্দটি আরও বেশি মজার লাগে।

ইন্টারনেটে শব্দটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বাবা-মা ও শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। Dictionary.com তো “৬-৭”-কে বছরের শব্দও ঘোষণা করেছে, কারণ এর কোনো সংজ্ঞাই নেই।

তরুণরা সব সময়ই এমন শব্দ ব্যবহার করে যা বড়দের বোঝা কঠিন। আগে মুখে মুখে এই শব্দ ছড়াত, এখন টিকটক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে আরও দ্রুত।

 ইচ্ছা করেই অদ্ভুত, অর্থহীন মজা তৈরি

সম্প্রতি “স্কিবিডি” শব্দ বা এআই দিয়ে তৈরি অদ্ভুত চরিত্র—যেমন ব্যালে জুতোপরা কফির কাপ বা মানুষের পা-ওয়ালা হাঙর—এসবই তরুণদের ইচ্ছাকৃতভাবে রহস্য তৈরি করার উদাহরণ। তারা বোঝাতে চায়—সবকিছু কেনই বা বড়দের বুঝতে হবে!

What Does '6-7' Mean? Don't Expect Gen Alpha to Explain It. - The New York  Times

ইউরোপে আবার কিছু তরুণ পার্কে জড়ো হয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে পুডিং খাওয়ার মজায় মেতে আছে। এসব কাজের কোনো উদ্দেশ্য নেই—কিন্তু তাদের কাছে এগুলোই মজা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তরুণদের জীবন ইন্টারনেটে সবার সামনে থাকায় তারা এখন ইচ্ছা করেই নিজেদেরকে কিছুটা ‘অদেখা’ বা ‘অজানা’ রাখতে চাইছে।

 স্ল্যাং ভেদ করতে চাওয়া বড়দের কৌতূহল

বড়রা সব সময়ই টিনএজ স্ল্যাং বোঝার চেষ্টা করেন। ১৯৯০–এর দশকে এক তরুণী তো নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ইচ্ছে করেই কয়েকটি ভুয়া স্ল্যাং বলেছিলেন, কারণ তিনি চাইছিলেন বড়রা একটু বিভ্রান্ত হোক।

ইন্টারনেট যুগে মিলেনিয়ালরাও তাদের বাবা-মাকে বিভ্রান্ত করেছেন। এখন তারাই আবার নিজেদের সন্তানদের স্ল্যাং বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন—কেন cooked মানে বিভ্রান্ত বা rizz মানে আকর্ষণ—এসব বের করতে গোয়েন্দাগিরি করতে হচ্ছে।

What It Means if Your Child Suddenly Starts Saying '67' - Newsweek

কারণ এখন স্ল্যাং তৈরি হয় ভিডিও, মিম, গেম, টিকটক—সব মিলিয়ে। তাই উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন।

তরুণদের স্ল্যাং ব্যাখ্যা করা—একটি ব্যবসা

আজকের অনলাইন দুনিয়ায় তরুণদের শব্দ বিশ্লেষণ করে প্রকাশনা তৈরি করা এক বড় ব্যবসা। সংবাদমাধ্যম, ইউটিউবার, শিক্ষক—অনেকে এসব ব্যাখ্যা করার কাজ থেকে আয় করছেন।

Gen Z ও Gen Alpha–এর অভ্যাস টিকটকে সবসময় দেখা যায়, তাই বড়দের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কিন্তু তরুণরা মনে করে, এই কৌতূহলই মজার—তারা বড়দের বিভ্রান্ত করতে আরও নতুন শব্দ উদ্ভাবন করে।

 ব্যক্তিগত জগত রক্ষার চেষ্টা

১৯ বছরের ভায়োলেট মনে করে, বড়রা যখন তরুণদের স্টাইল বা রসিকতা ব্যাখ্যা করতে চায়, তখন সেটা অপ্রিয় লাগে। তার মতে, জেনারেশন জেড এমন মিম তৈরি করে যা এতটাই অর্থহীন যে বুঝতে না পারলেই ভালো।

যেমন—গ্রিঞ্চের নীল রঙের ছবির ওপর লেখা: “আগামীকাল হাঁটু অপারেশন”—এমন কিছু যা শুনলে কোনো মানে হয় না। অথচ তাদের কাছে এগুলোই মজার।

২২ বছরের ক্রিস্টেন বলেন, এসব অদ্ভুত চরিত্র বা মিম তরুণদের এক ধরনের মানসিক আরাম দেয়—যাকে তারা মজা করে বলে “কোপিয়াম”—মানে কৌতুকের মাধ্যমে চাপ সামলানো।

 Gen Alpha—আরও বেশি রহস্যময় স্ল্যাংয়ের পথে

Gen Alpha—যারা Gen Z-এর পরের প্রজন্ম—তারা আরও দ্রুতগতিতে নতুন, অদ্ভুত, বিচিত্র শব্দ তৈরি করছে। বড়রা যখন “৬-৭” বুঝে ফেলতে শিখল, তখনই শিশুরা নতুন একটি স্ল্যাং তৈরি করেছে, যা আবারও বড়দের বোঝার বাইরে।

ওরিগনের এক শিক্ষক বলেন, “এটা থামবে না। তারা নতুন কিছু বানাবেই।”

 

#তরুণরা #ভাষা #স্ল্যাং #জেনজেড #জেনআলফা #ট্রেন্ড #স্কুল #টিকটক #মিম #ইন্টারনেট #সংস্কৃতি #সমাজ #শব্দ #নতুনশব্দ #অদ্ভুত #হাস্যরস #অনলাইন #প্রজন্ম #৬৭ #youthculture #trend2025