গেস্ট হাউস বানাতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ
আরিজোনার টিম ও মেরি বেথ রুকম্যান যখন বেলিজের অপ্রচ্ছন্ন জঙ্গলের অর্ধ একর জমিতে একটি গেস্ট হাউস তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব গাছ অক্ষত রাখা। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তাদের সামনে নিয়ে আসে প্রতিদিনের নারকেল ব্যবস্থাপনার মতো অদ্ভুত এবং বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকৃতি রক্ষার সিদ্ধান্ত
৩.৬৫ মিলিয়ন ডলারের সমুদ্রতীরবর্তী সম্পত্তিটি এখনো তার বেশির ভাগ গাছপালা ধরে রেখেছে—একটি সিগ্রেপ গাছ এবং প্রায় দুই ডজন নারকেল গাছসহ।
প্রতি বছর এসব গাছ থেকে পড়ে প্রায় দুই হাজার নারকেল—ওজনে তিন টনের বেশি। সময়মতো সংগ্রহ না করলে সেগুলো সোজা নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
বেলিজে প্রথম আগ্রহ
২০১৯ সালে মেরি বেথ তাঁর স্বামী টিমকে জন্মদিনে বেলিজ ভ্রমণের চমক দেন। দ্বীপের শান্ত পরিবেশ তাদের অভিভূত করে।
টিম বলেন, “এটা ঠিক আজকের ক্যানকুনের আগের যুগের ক্যানকুনের মতো।”
এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেন বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এখানে কাটাবেন।

জমি কেনা ও গেস্ট হাউস নির্মাণ পরিকল্পনা
২০২০ সালে একটি কন্ডো কেনার ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে এসে তারা ১.১ মিলিয়ন ডলার অ্যাম্বারগ্রিস কে দ্বীপে দুটি অনাবাদি প্লট কেনেন—যেখানে সাদা প্রবাল বালি ও ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে।
ফিনিক্সের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান র্যাঞ্চ মাইনের ক্যাভিন কস্টেলো তাদের জন্য ডিজাইন করে একটি এক বেডরুমের প্রধান বাড়ি এবং অতিথিদের জন্য দুটি গেস্ট হাউস বা কাসিটা।
স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে কংক্রিট ভবনগুলোকে বাইরে ও ভেতরে খড়ের ছাউনি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
নতুন নির্মাণ উপকরণে আগ্রহ
মেক্সিকোর বিশেষ প্রাকৃতিক প্লাস্টার ‘চুকুম’ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন মেরি বেথ—যার খরচ পড়ে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার।
ঘরের ভেতরের দেয়াল ও মেঝেতে এটি ব্যবহার করে তারা তৈরি করেছেন স্পা-সদৃশ প্রশান্ত পরিবেশ।
৩,৩২০ বর্গফুটের মূল বাড়িতে রয়েছে ইনডোর-আউটডোর শাওয়ার সহ মাস্টার স্যুট এবং একটি আউটডোর বাথটাব।
সাথে রয়েছে নোনাজলের পুল, ডক, বোট হাউস এবং তাদের ৩৪ ফুট নৌকার জন্য সুবিধা।

নারকেল গাছ রাখার সিদ্ধান্ত ও অপ্রত্যাশিত বিপত্তি
নির্মাণ শুরুর আগে স্থানীয়রা নারকেল গাছগুলো কাটার পরামর্শ দিলেন রুকমান দম্পতি এগুলো রাখেন।
কিন্তু নির্মাণের মধ্যেই তারা দেখেন—দ্বীপে একজন মানুষের মাথায় নারকেল পড়ে আহত হয়েছে। তখনই তারা সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
তাদের লাইভ-ইন কেয়ারটেকার প্রতিদিন গাছের অবস্থা দেখেন, পড়ে থাকা নারকেল কুড়ান এবং যেগুলো পড়তে পারে সেগুলো ছাঁটাই করেন।
ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে এই কাজ আরও গুরুত্বপূর্ণ—কারণ ঢিলা নারকেল ঝড়ে উড়ে গিয়ে বিপজ্জনক প্রজেক্টাইল হতে পারে।
ঝামেলার মাঝেও সুবিধা—টাটকা নারকেল পানি
নারকেল ব্যবস্থাপনার বড় পুরস্কার হলো—সারা বছর টাটকা নারকেল পানি।
তারা গ্যালন ভরে সংরক্ষণ করেন, আর টিম বলেন—“হ্যাংওভার কমাতে চমৎকার কাজ করে।”
নারকেলের মোটা খোসা তারা স্থানীয় এক ডেভেলপারের কাছে দেন, যিনি তা দ্বীপের সম্প্রসারণ কাজে ল্যান্ডফিল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেন।
গাছের প্রতি ভালোবাসা অটুট
টিম বলেন, “নারকেল গাছগুলো আমাদের গেস্ট হাউসের পুরো পরিবেশকে আলাদা করে তোলে।”

তাই যত ঝামেলা হোক—তারা এর জন্য অনুতপ্ত নন।
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান
অ্যাম্বারগ্রিস কে–তে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে তারা প্রায় ৪০ হাজার ডলার খরচ করে একটি জেনারেটর স্থাপন করেছেন।
নতুন সম্পর্ক ও নতুন অভিজ্ঞতা
গেস্ট হাউস নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা সামলাতে গিয়ে স্থানীয় কর্মী ও ঠিকাদারেরা তাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
তাদের নৌকার জন্য এমনকি দুজন স্থায়ী ক্যাপ্টেন রয়েছে।
তারা আরেকটি গাছ—সিগ্রেপ—রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও স্থানীয়রা বাদুড় আকর্ষণের কারণে এটি কাটতে বলেছিলেন।
এখনো গাছে ফল ধরে না, তাই বাদুড় আসেনি। ভবিষ্যতে ফল ধরলে তারা শ্রমসাধ্য ফল-পাতলা করার কাজ করবেন, কারণ বাদুড়ের বিষ্ঠা দাগ ফেলে।
বাদুড় এলে কি গাছ কাটবেন?
টিম বলেন, “না। রাতের বেলা বাদুড় দেখা মজার অভিজ্ঞতা। আর সিগ্রেপ দিয়ে জ্যামও বানানো যায়।”
বেলিজে গেস্ট হাউস তৈরির স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে রুকমান দম্পতি যেমন অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তেমনই অর্জন করেছেন প্রকৃতির মাঝে থাকা, নতুন বন্ধু পাওয়া এবং ভিন্নরকম অভিজ্ঞতার স্বাদ।





সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















