০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
ভিয়েতনামের সামনে শেষ সুযোগ, অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখতে বড় সিদ্ধান্তের পথে কমিউনিস্ট পার্টি নতুন বছর নতুন শুরু, নতুন চিত্রনাট্যের ইঙ্গিতে মৃণাল ঠাকুর চাকরি দারিদ্র্য দূর করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ, সমৃদ্ধির চাবিকাঠি ভ্যালেন্তিনো গারাভানি: রাজকীয় গ্ল্যামারের শেষ সম্রাটের বিদায় আসাদের শাসনে অপরাধ আড়াল: গণকবর, নির্যাতন আর নথি জালিয়াতির ভয়ংকর নকশা আল ধাফরা বই উৎসবে বইয়ের মহাযজ্ঞ, পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতির মিলনমেলা এ আর রহমানকে ঘিরে বিতর্কে পাশে দাঁড়ালেন নাইলা আল খাজা, ‘শব্দ নয়, প্রাপ্য সম্মান দিন’ জাতিসংঘে পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত হলে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি আল জাজিরার প্রতিবেদন:বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কী এবার ক্ষমতায় যাবে?

অস্থির সপ্তাহের পরও নতুন ধাক্কার শঙ্কায় বৈশ্বিক বাজার

সুদের হারের আশা বনাম মুদ্রাস্ফীতির অনিশ্চয়তা

কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত বাজারের পর হঠাৎই দোলাচলে পড়েছে বৈশ্বিক আর্থিক অঙ্গন। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শেষদিকে শক্ত উত্থান দেখেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা আবারও ধরে নিচ্ছেন, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসগুলোতে সুদের হার কমানো শুরু করবে। একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতির জেদি প্রবণতা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দেওয়ায় যে বন্ডের ফলন বেড়ে গিয়েছিল, দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর সেগুলো কিছুটা নেমে এসেছে। কিন্তু শিরোনামে সবুজ সূচক দেখা গেলেও মুদ্রা বাজার, প্রযুক্তি শেয়ার এবং ছোট আঞ্চলিক ব্যাংকের ওঠা-নামা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে বহু বছরের কড়া সুদনীতি, ব্যাংক সংকট ও ভূরাজনৈতিক ঝড়ের পর আস্থা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় আছে।

অর্থনীতির পরিসংখ্যানও একই সঙ্গে আশাবাদ ও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয় মহামারী পরবর্তী উল্লম্ফন থেকে স্পষ্টই কমে এসেছে, কিন্তু বেকারত্ব এখনো কম এবং মজুরি বৃদ্ধিও প্রত্যাশিত হারে নেমে আসেনি। এই সমীকরণ মুদ্রাস্ফীতির পথকে অস্পষ্ট করে রেখেছে, ফলে সুদের হারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফেডের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার এখন একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে হিসাব করছে—একদিকে মৃদু ধীরগতির অর্থনীতি যেখানে সীমিত সুদ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে এমন দৃশ্য যেখানে দামের চাপ কমতে না চাইলে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদ ধরে রাখতে হবে এবং তাতে হঠাৎ মন্দার ঝুঁকি বাড়বে। এই দুই বর্ণনার মধ্যে দোলাচলই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সুদে সংবেদনশীল খাতে, বিশেষ করে বড় ভোক্তা পণ্য বিক্রেতা ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি নির্ভর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ কৌশল

Market Rout Intensifies, Sweeping Up Everything From Tech to Crypto to Gold  - WSJ

বাকি পৃথিবীর পরিস্থিতিও সামগ্রিক অনিশ্চয়তাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেলের দাম বড় উৎপাদকদের বক্তব্য ও আবহাওয়া-নির্ভর চাহিদার খবরে ওঠানামা করছে, যা জ্বালানি আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি পরিকল্পনাকে জটিল করছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ দামের দ্বৈত চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী ডলার তাদের নীতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য মাত্র এক সপ্তাহের ডলার শক্তি বা মার্কিন বন্ড ফলনের উত্থানই যথেষ্ট—বিদেশি বিনিয়োগ ফিরে যেতে শুরু করে, স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ পড়ে, আর বৈদেশিক ঋণের কিস্তি শোধ করাও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা এখন শুধু অর্থনৈতিক সূচকই নয়, ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস বা বেইজিংয়ের রাজনীতিও নজরে রাখছেন, কারণ নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্য দ্বন্দ্বের নতুন যেকোনো পদক্ষেপ সরবরাহ চেইন ও পণ্যমূল্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রেক্ষাপট বিভ্রান্তিকর। বড় সূচকগুলোর শক্তিশালী পুনরুদ্ধার অনেককে ভাবাচ্ছে যে কড়া সুদের সবচেয়ে কঠিন সময়টা হয়তো পেরিয়ে গেছে এবং সামান্য ধীরগতির মধ্যেও কোম্পানিগুলো ভাল আয় করতে পারবে। আবার অন্যরা আগের ধসের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নগদ সমমানের বিনিয়োগ ও উচ্চ গুণমানের বন্ডে ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। আর্থিক উপদেষ্টারা তাই গ্রাহকদের সতর্ক করছেন যেন সপ্তাহে সপ্তাহে শিরোনাম দেখে বড় কৌশল বদলে না ফেলেন; তাদের মতে, বহুমুখী বিনিয়োগই এখনো অপ্রত্যাশিত ধাক্কা থেকে সেরা সুরক্ষা। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যও এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি; আন্তর্জাতিক বাজারে সুদ হার ও ডলারের দামের হঠাৎ পরিবর্তন বৈদেশিক ঋণ, আমদানি ব্যয় ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলে।

আগামী মাসগুলো সহজ কোনো উত্তরও দেয় না। গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি সূচক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক ও কর্পোরেট আয়ের প্রতিবেদন একদিকে ধীরে ধীরে মূল্যচাপ কমার ধারণা জোরদার করতে পারে, আবার অন্যদিকে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কাও উসকে দিতে পারে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগ ঢেউ, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের দ্রুত ওঠানামা—এই সব মিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কম অস্থিরতার যুগ এখন অতীত বলেই ধরে নেওয়া যুক্তিযুক্ত। অন্তত আরও কিছু সময়, বড় কোনো ধস না হলেও, হঠাৎ হঠাৎ দামের তীব্র নড়াচড়াকেই বাজারের নতুন স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামের সামনে শেষ সুযোগ, অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখতে বড় সিদ্ধান্তের পথে কমিউনিস্ট পার্টি

অস্থির সপ্তাহের পরও নতুন ধাক্কার শঙ্কায় বৈশ্বিক বাজার

০২:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

সুদের হারের আশা বনাম মুদ্রাস্ফীতির অনিশ্চয়তা

কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত বাজারের পর হঠাৎই দোলাচলে পড়েছে বৈশ্বিক আর্থিক অঙ্গন। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শেষদিকে শক্ত উত্থান দেখেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা আবারও ধরে নিচ্ছেন, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসগুলোতে সুদের হার কমানো শুরু করবে। একই সময়ে মুদ্রাস্ফীতির জেদি প্রবণতা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দেওয়ায় যে বন্ডের ফলন বেড়ে গিয়েছিল, দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর সেগুলো কিছুটা নেমে এসেছে। কিন্তু শিরোনামে সবুজ সূচক দেখা গেলেও মুদ্রা বাজার, প্রযুক্তি শেয়ার এবং ছোট আঞ্চলিক ব্যাংকের ওঠা-নামা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে বহু বছরের কড়া সুদনীতি, ব্যাংক সংকট ও ভূরাজনৈতিক ঝড়ের পর আস্থা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় আছে।

অর্থনীতির পরিসংখ্যানও একই সঙ্গে আশাবাদ ও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয় মহামারী পরবর্তী উল্লম্ফন থেকে স্পষ্টই কমে এসেছে, কিন্তু বেকারত্ব এখনো কম এবং মজুরি বৃদ্ধিও প্রত্যাশিত হারে নেমে আসেনি। এই সমীকরণ মুদ্রাস্ফীতির পথকে অস্পষ্ট করে রেখেছে, ফলে সুদের হারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফেডের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার এখন একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে হিসাব করছে—একদিকে মৃদু ধীরগতির অর্থনীতি যেখানে সীমিত সুদ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে এমন দৃশ্য যেখানে দামের চাপ কমতে না চাইলে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদ ধরে রাখতে হবে এবং তাতে হঠাৎ মন্দার ঝুঁকি বাড়বে। এই দুই বর্ণনার মধ্যে দোলাচলই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সুদে সংবেদনশীল খাতে, বিশেষ করে বড় ভোক্তা পণ্য বিক্রেতা ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি নির্ভর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ কৌশল

Market Rout Intensifies, Sweeping Up Everything From Tech to Crypto to Gold  - WSJ

বাকি পৃথিবীর পরিস্থিতিও সামগ্রিক অনিশ্চয়তাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেলের দাম বড় উৎপাদকদের বক্তব্য ও আবহাওয়া-নির্ভর চাহিদার খবরে ওঠানামা করছে, যা জ্বালানি আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি পরিকল্পনাকে জটিল করছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধীর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ দামের দ্বৈত চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী ডলার তাদের নীতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য মাত্র এক সপ্তাহের ডলার শক্তি বা মার্কিন বন্ড ফলনের উত্থানই যথেষ্ট—বিদেশি বিনিয়োগ ফিরে যেতে শুরু করে, স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ পড়ে, আর বৈদেশিক ঋণের কিস্তি শোধ করাও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ফলে পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা এখন শুধু অর্থনৈতিক সূচকই নয়, ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস বা বেইজিংয়ের রাজনীতিও নজরে রাখছেন, কারণ নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্য দ্বন্দ্বের নতুন যেকোনো পদক্ষেপ সরবরাহ চেইন ও পণ্যমূল্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রেক্ষাপট বিভ্রান্তিকর। বড় সূচকগুলোর শক্তিশালী পুনরুদ্ধার অনেককে ভাবাচ্ছে যে কড়া সুদের সবচেয়ে কঠিন সময়টা হয়তো পেরিয়ে গেছে এবং সামান্য ধীরগতির মধ্যেও কোম্পানিগুলো ভাল আয় করতে পারবে। আবার অন্যরা আগের ধসের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নগদ সমমানের বিনিয়োগ ও উচ্চ গুণমানের বন্ডে ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। আর্থিক উপদেষ্টারা তাই গ্রাহকদের সতর্ক করছেন যেন সপ্তাহে সপ্তাহে শিরোনাম দেখে বড় কৌশল বদলে না ফেলেন; তাদের মতে, বহুমুখী বিনিয়োগই এখনো অপ্রত্যাশিত ধাক্কা থেকে সেরা সুরক্ষা। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যও এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি; আন্তর্জাতিক বাজারে সুদ হার ও ডলারের দামের হঠাৎ পরিবর্তন বৈদেশিক ঋণ, আমদানি ব্যয় ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলে।

আগামী মাসগুলো সহজ কোনো উত্তরও দেয় না। গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি সূচক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক ও কর্পোরেট আয়ের প্রতিবেদন একদিকে ধীরে ধীরে মূল্যচাপ কমার ধারণা জোরদার করতে পারে, আবার অন্যদিকে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কাও উসকে দিতে পারে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগ ঢেউ, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের দ্রুত ওঠানামা—এই সব মিলিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কম অস্থিরতার যুগ এখন অতীত বলেই ধরে নেওয়া যুক্তিযুক্ত। অন্তত আরও কিছু সময়, বড় কোনো ধস না হলেও, হঠাৎ হঠাৎ দামের তীব্র নড়াচড়াকেই বাজারের নতুন স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।