০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে এক দশকের অপহরণ আকাশপথে সন্ত্রাস থেকে আদর্শিক সহিংসতার উত্তরাধিকার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টালমাটাল মুহূর্ত পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে মাদিসন কিস ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ দিনে মিশ্র চিত্র; ডিএসইতে পতন, সিএসইতে উত্থান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯ ব্যাংকিং খাত সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়: সালেহউদ্দিন

সম্ভাব্য আলোচনায় ট্রাম্পকে কী দিতে পারেন মাদুরো? প্রধান হাতিয়ার তেল

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সামনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় দর কষাকষির বড় অস্ত্র হলো তেল। বর্তমানে দেশটি যে তেলের বড় অংশ চীনে বিক্রি করে, তার কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি আলোচনায় কাজে আসতে পারে।


মার্কিন চাপ ও আলোচনার ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি মাদুরোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা মাদুরোর ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে।


ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রফতানি
ভেনেজুয়েলা এখন দিনে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা আগের সোনালি সময়ের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি চীনে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তেলেরই একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি—এবং মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স পুনরায় চালুর প্রস্তাব—মাদুরোর প্রধান দরকষাকষির শক্তি।


তেল সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বেশি তেল পাঠানো বা মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ রক্ষা করার মতো প্রস্তাব মাদুরোর পক্ষে দেওয়া সহজ। তবে বর্তমানে বিশ্ববাজার স্থিতিশীল ও দাম কম থাকায় এ প্রস্তাব কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ভেনিজুয়েলার তেল মন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল–গ্যাস মজুত বিনা দামে দখল করতে চায়। তিনি আরও জানান, মার্কিন গালফ অঞ্চলের রিফাইনারি গুলোর ভারী তেলের প্রয়োজন রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা সরবরাহ করে থাকে।


চীনে যাওয়া তেল অন্যত্র পাঠানো যেতে পারে
২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর পিডিভিএসএ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা খোলা বাজারে বড় ছাড়ে তেল বিক্রি করে।
এ কারণে চাইলে চীনে পাঠানোর তেলের কিছু অংশ থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে পাঠানো সম্ভব—যদি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা হয়।


নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিকল্প পথ
যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল কোম্পানির নগদ লেনদেন বন্ধ করে রেখেছে। তবুও ভেনিজুয়েলার তেল–বিনিময় (oil swap) ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালে চীনে রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, ফলে এখন রফতানির গন্তব্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


মার্কিন লাইসেন্স পুনর্বহালের প্রশ্ন
ভেনেজুয়েলা চাইলে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানির পুরোনো লাইসেন্স পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় তুলতে পারে। এতে দেশের তেল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বেশি পাঠানো যাবে।
তবে বিশাল তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে আগ্রহী নয়—চাভেজ আমলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে। তাছাড়া পুরোনো অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।


ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে তেলখাত পুনর্গঠনে বড় কাজ সামনে আসবে। অন্তত দুই দশক আগের উৎপাদন স্তরে ফিরতে গেলেও ব্যাপক সংস্কার দরকার।


ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি
ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কিছু কোম্পানিকে সাময়িক লাইসেন্স দেয়, আবার কখনো তা বাতিল করে। এই অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তোলে।


#ভেনেজুয়েলা #যুক্তরাষ্ট্র #তেল #মাদুরো #ট্রাম্প #জ্বালানিরাজনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ

সম্ভাব্য আলোচনায় ট্রাম্পকে কী দিতে পারেন মাদুরো? প্রধান হাতিয়ার তেল

০৩:১৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সামনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় দর কষাকষির বড় অস্ত্র হলো তেল। বর্তমানে দেশটি যে তেলের বড় অংশ চীনে বিক্রি করে, তার কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি আলোচনায় কাজে আসতে পারে।


মার্কিন চাপ ও আলোচনার ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি মাদুরোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা মাদুরোর ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে।


ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও রফতানি
ভেনেজুয়েলা এখন দিনে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা আগের সোনালি সময়ের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি চীনে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তেলেরই একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি—এবং মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স পুনরায় চালুর প্রস্তাব—মাদুরোর প্রধান দরকষাকষির শক্তি।


তেল সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বেশি তেল পাঠানো বা মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ রক্ষা করার মতো প্রস্তাব মাদুরোর পক্ষে দেওয়া সহজ। তবে বর্তমানে বিশ্ববাজার স্থিতিশীল ও দাম কম থাকায় এ প্রস্তাব কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা স্পষ্ট নয়।
ভেনিজুয়েলার তেল মন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল–গ্যাস মজুত বিনা দামে দখল করতে চায়। তিনি আরও জানান, মার্কিন গালফ অঞ্চলের রিফাইনারি গুলোর ভারী তেলের প্রয়োজন রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা সরবরাহ করে থাকে।


চীনে যাওয়া তেল অন্যত্র পাঠানো যেতে পারে
২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর পিডিভিএসএ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা খোলা বাজারে বড় ছাড়ে তেল বিক্রি করে।
এ কারণে চাইলে চীনে পাঠানোর তেলের কিছু অংশ থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে পাঠানো সম্ভব—যদি নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা হয়।


নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিকল্প পথ
যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল কোম্পানির নগদ লেনদেন বন্ধ করে রেখেছে। তবুও ভেনিজুয়েলার তেল–বিনিময় (oil swap) ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৫ সালে চীনে রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, ফলে এখন রফতানির গন্তব্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


মার্কিন লাইসেন্স পুনর্বহালের প্রশ্ন
ভেনেজুয়েলা চাইলে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানির পুরোনো লাইসেন্স পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় তুলতে পারে। এতে দেশের তেল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বেশি পাঠানো যাবে।
তবে বিশাল তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে আগ্রহী নয়—চাভেজ আমলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে। তাছাড়া পুরোনো অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।


ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে তেলখাত পুনর্গঠনে বড় কাজ সামনে আসবে। অন্তত দুই দশক আগের উৎপাদন স্তরে ফিরতে গেলেও ব্যাপক সংস্কার দরকার।


ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি
ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কিছু কোম্পানিকে সাময়িক লাইসেন্স দেয়, আবার কখনো তা বাতিল করে। এই অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তোলে।


#ভেনেজুয়েলা #যুক্তরাষ্ট্র #তেল #মাদুরো #ট্রাম্প #জ্বালানিরাজনীতি