১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ঝড়ের ইঙ্গিত, শান্ত ঘোষণার আড়ালে বাড়ছে বড় সংকটের আশঙ্কা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন শ্রেণি বিভাজন: মূলধারার দল ছেড়ে জনতার ঝোঁক নতুন শক্তির দিকে ভারতের ‘পিছিয়ে পড়া’ মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর লড়াই, সাফিনা হুসাইনের আন্দোলনে বদলাচ্ছে লক্ষ জীবন শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণরা—চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে মৃত্যুফাঁদ স্থিতিশীলতাই অগ্রাধিকার: কৌশলগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিলেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের অর্থনীতির নতুন হিসাব: আকার কিছুটা ছোট, কিন্তু প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত যুদ্ধের ছায়ায় দুবাই: নিরাপত্তার ভাবমূর্তি কি টিকিয়ে রাখতে পারবে মরু শহর? আবাসন খাত টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চাইল রিহ্যাব তুরস্কের আদানা কনস্যুলেট থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার

রাজনৈতিক বার্তার ভেতর বন্ধুত্বের গল্প

নতুন ছবিতে অজে ফ্যাসিবাদের উত্থান

“উইকেড: ফর গুড” দেখায় যে অজের দেশে ফ্যাসিবাদ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে, এবং এটিকে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই। ব্রডওয়ে মিউজিক্যালের দ্বিতীয় পর্ব অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে দেখা যায়—এলফাবা (সিন্থিয়া এরিভো) এবং গ্লিন্ডা (অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে) আর শিক্ষার্থী নন; তারা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিপদ-সুযোগে ভরা নতুন জগতে প্রবেশ করেছেন। উড়ন্ত বানরেরা নজরদারির নতুন নিয়ম প্রতিষ্ঠা করছে, আর একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে রাজপুত্রের ঝলমলে উপস্থিতি।


গ্লিন্ডাকে ঘিরে বিস্তৃত দ্বিতীয় পর্ব

এই ছবির বড় অংশই গ্লিন্ডার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। বহু উৎস থেকে অভিযোজিত জটিল কাহিনি হওয়ায় পরিচালক জন এম. চু-কে একদিকে নির্মাণশৈলীর কঠিন দিকগুলো সামলাতে হয়, অন্যদিকে দর্শকের মনোযোগ রক্ষা করতে হয়। বিপুল প্রযুক্তিগত টিমের সহায়তায় এবং দুই প্রধান চরিত্রের সমন্বয়ে তিনি ছবিকে সুসংগঠিত ও আবেগময়তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রথম ছবির মতো “ফর গুড”-ও রঙিন দৃশ্য, ভিড়ের নৃত্য, ক্যামেরার ঘূর্ণন ও জটিল সেট-অলঙ্করণে পূর্ণ—যা আধুনিক ব্লকবাস্টার সিনেমার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।


এলফাবা ও গ্লিন্ডার বিচ্ছিন্ন জীবন

দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সেই জায়গা থেকে, যেখানে প্রথম অংশ শেষ হয়েছিল। এলফাবা এখন শান্ত এক উচ্চভূমিতে নির্জনে থাকেন। অন্যদিকে গ্লিন্ডা এমেরাল্ড সিটিতে চকচকে, বুদ্‌বুদে ভরা অপূর্ব দুনিয়ায় অনুসারীদের পরিবেষ্টনে ঘুরে বেড়ান—যা খুব আশাব্যঞ্জক নয়।

অজের শাসক দুই ভিলেন—ম্যাডাম মরিবল (মিশেল ইয়ো) এবং উইজার্ড (জেফ গোল্ডবলুম)—নিয়মিত নতুন ষড়যন্ত্র আঁটছেন। তাদের শাসনে , হাসি, বাহিনী এবং নিপীড়িত শত্রুও রয়েছে—যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কথা বলা প্রাণীরা। তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও দমনমূলক পদক্ষেপ এর ইঙ্গিত দেয়।


প্রথম অংশের প্রেক্ষাপট ও সংঘাত

প্রথম ছবিতে মূলত এলফাবার অতীত, তার ভিন্ন পরিচয়, গ্লিন্ডার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং অজের চকচকে বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি তুলে ধরা হয়েছিল। এলফাবাই প্রথম জানতে পারে যে উইজার্ড ও মরি বল উড়ন্ত বানরদের আকাশপথে নজরদারি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, এবং অন্যান্য প্রাণীদের নীরব করার পরিকল্পনা করছে। উইজার্ড তাকে বলেছিল—মানুষকে একত্রিত করার সেরা উপায় হলো “একটা ভালো শত্রু তৈরি করা।” সেই শত্রুতে পরিণত করা হয় এলফাবাকেই।


ফ্যাসিবাদী ছায়া, তবু ইতিবাচকতার চেষ্টা

দ্বিতীয় পর্বে ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট। তবে সিনেমাটি চেষ্টা করে আলো-অন্ধকারের মাঝে ইতিবাচকতার বার্তা তুলে ধরতে। গল্প এগোতে থাকে জোট-ভাঙন, সম্পর্কের পরিবর্তন এবং সঠিক মুহূর্তে গাওয়া গানগুলোর মধ্য দিয়ে—যেখানে কখনো থাকে বিশাল দলীয় দৃশ্য, আবার কখনো শান্ত, ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত।


চমক নিয়ে আসে অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে

গ্লিন্ডা চরিত্রে অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে এই ছবিতে নতুন উজ্জ্বলতা এনেছেন। আগে যাকে কার্টুন সুলভ ভাবে দেখা হতো, এখানে তিনি সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা ও ভঙ্গির মাধ্যমে চরিত্রটিকে বাস্তবের দিনযাপনের মতো করে তুলেছেন। এলফাবার নৈতিক দৃঢ়তার প্রভাবে গ্লিন্ডা উপলব্ধি করতে থাকে অজের বাস্তবতা এবং নিজের ভূমিকা।


রোমান্টিক টানাপোড়েন ও পিয়েরো উপস্থিতি

রাজপুত্র ফিয়েরো (জোনাথন বেইলি) চরিত্রটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী। তার উপস্থিতি মূলত এলফাবা ও গ্লিন্ডার সম্পর্কের পরিধি স্পষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পে রোমান্টিক উত্তেজনা থাকলেও, মূল ফোকাস সবসময় দুই ডাইনি—এলফাবা ও গ্লিন্ডার বন্ধুত্ব।


বন্ধুত্ব, বৈচিত্র্য ও মানবতার জয়

এল. ফ্র্যাঙ্ক বাউমের ১৯০০ সালের বই “দ্য ওয়ান্ডারফুল উইজার্ড অব অজ” নানা সময়ে নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পেয়েছে। তবুও আধুনিক এই চলচ্চিত্রটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দূরে থেকে নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সামনে আনে।

“উইকেড: ফর গুড”-এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি যদিও অস্বস্তিকর, শেষ পর্যন্ত এটি সবচেয়ে শক্তিশালী তখনই হয়, যখন এটি এক গভীর, আত্মিক, নারী বন্ধুত্বের গল্প বলে। ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সংহতির পক্ষে দাঁড়ানো—ছবির এই অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আরাম ও আশ্বাসের উৎস।



#WickedForGood #FilmReview #বন্ধুত্বেরগল্প #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ঝড়ের ইঙ্গিত, শান্ত ঘোষণার আড়ালে বাড়ছে বড় সংকটের আশঙ্কা

রাজনৈতিক বার্তার ভেতর বন্ধুত্বের গল্প

০৪:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নতুন ছবিতে অজে ফ্যাসিবাদের উত্থান

“উইকেড: ফর গুড” দেখায় যে অজের দেশে ফ্যাসিবাদ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে, এবং এটিকে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই। ব্রডওয়ে মিউজিক্যালের দ্বিতীয় পর্ব অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে দেখা যায়—এলফাবা (সিন্থিয়া এরিভো) এবং গ্লিন্ডা (অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে) আর শিক্ষার্থী নন; তারা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিপদ-সুযোগে ভরা নতুন জগতে প্রবেশ করেছেন। উড়ন্ত বানরেরা নজরদারির নতুন নিয়ম প্রতিষ্ঠা করছে, আর একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে রাজপুত্রের ঝলমলে উপস্থিতি।


গ্লিন্ডাকে ঘিরে বিস্তৃত দ্বিতীয় পর্ব

এই ছবির বড় অংশই গ্লিন্ডার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। বহু উৎস থেকে অভিযোজিত জটিল কাহিনি হওয়ায় পরিচালক জন এম. চু-কে একদিকে নির্মাণশৈলীর কঠিন দিকগুলো সামলাতে হয়, অন্যদিকে দর্শকের মনোযোগ রক্ষা করতে হয়। বিপুল প্রযুক্তিগত টিমের সহায়তায় এবং দুই প্রধান চরিত্রের সমন্বয়ে তিনি ছবিকে সুসংগঠিত ও আবেগময়তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রথম ছবির মতো “ফর গুড”-ও রঙিন দৃশ্য, ভিড়ের নৃত্য, ক্যামেরার ঘূর্ণন ও জটিল সেট-অলঙ্করণে পূর্ণ—যা আধুনিক ব্লকবাস্টার সিনেমার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।


এলফাবা ও গ্লিন্ডার বিচ্ছিন্ন জীবন

দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সেই জায়গা থেকে, যেখানে প্রথম অংশ শেষ হয়েছিল। এলফাবা এখন শান্ত এক উচ্চভূমিতে নির্জনে থাকেন। অন্যদিকে গ্লিন্ডা এমেরাল্ড সিটিতে চকচকে, বুদ্‌বুদে ভরা অপূর্ব দুনিয়ায় অনুসারীদের পরিবেষ্টনে ঘুরে বেড়ান—যা খুব আশাব্যঞ্জক নয়।

অজের শাসক দুই ভিলেন—ম্যাডাম মরিবল (মিশেল ইয়ো) এবং উইজার্ড (জেফ গোল্ডবলুম)—নিয়মিত নতুন ষড়যন্ত্র আঁটছেন। তাদের শাসনে , হাসি, বাহিনী এবং নিপীড়িত শত্রুও রয়েছে—যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কথা বলা প্রাণীরা। তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও দমনমূলক পদক্ষেপ এর ইঙ্গিত দেয়।


প্রথম অংশের প্রেক্ষাপট ও সংঘাত

প্রথম ছবিতে মূলত এলফাবার অতীত, তার ভিন্ন পরিচয়, গ্লিন্ডার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং অজের চকচকে বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি তুলে ধরা হয়েছিল। এলফাবাই প্রথম জানতে পারে যে উইজার্ড ও মরি বল উড়ন্ত বানরদের আকাশপথে নজরদারি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, এবং অন্যান্য প্রাণীদের নীরব করার পরিকল্পনা করছে। উইজার্ড তাকে বলেছিল—মানুষকে একত্রিত করার সেরা উপায় হলো “একটা ভালো শত্রু তৈরি করা।” সেই শত্রুতে পরিণত করা হয় এলফাবাকেই।


ফ্যাসিবাদী ছায়া, তবু ইতিবাচকতার চেষ্টা

দ্বিতীয় পর্বে ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট। তবে সিনেমাটি চেষ্টা করে আলো-অন্ধকারের মাঝে ইতিবাচকতার বার্তা তুলে ধরতে। গল্প এগোতে থাকে জোট-ভাঙন, সম্পর্কের পরিবর্তন এবং সঠিক মুহূর্তে গাওয়া গানগুলোর মধ্য দিয়ে—যেখানে কখনো থাকে বিশাল দলীয় দৃশ্য, আবার কখনো শান্ত, ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত।


চমক নিয়ে আসে অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে

গ্লিন্ডা চরিত্রে অ্যারিয়ানা গ্রান্ডে এই ছবিতে নতুন উজ্জ্বলতা এনেছেন। আগে যাকে কার্টুন সুলভ ভাবে দেখা হতো, এখানে তিনি সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতা ও ভঙ্গির মাধ্যমে চরিত্রটিকে বাস্তবের দিনযাপনের মতো করে তুলেছেন। এলফাবার নৈতিক দৃঢ়তার প্রভাবে গ্লিন্ডা উপলব্ধি করতে থাকে অজের বাস্তবতা এবং নিজের ভূমিকা।


রোমান্টিক টানাপোড়েন ও পিয়েরো উপস্থিতি

রাজপুত্র ফিয়েরো (জোনাথন বেইলি) চরিত্রটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী। তার উপস্থিতি মূলত এলফাবা ও গ্লিন্ডার সম্পর্কের পরিধি স্পষ্ট করতে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পে রোমান্টিক উত্তেজনা থাকলেও, মূল ফোকাস সবসময় দুই ডাইনি—এলফাবা ও গ্লিন্ডার বন্ধুত্ব।


বন্ধুত্ব, বৈচিত্র্য ও মানবতার জয়

এল. ফ্র্যাঙ্ক বাউমের ১৯০০ সালের বই “দ্য ওয়ান্ডারফুল উইজার্ড অব অজ” নানা সময়ে নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা পেয়েছে। তবুও আধুনিক এই চলচ্চিত্রটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে দূরে থেকে নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সামনে আনে।

“উইকেড: ফর গুড”-এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি যদিও অস্বস্তিকর, শেষ পর্যন্ত এটি সবচেয়ে শক্তিশালী তখনই হয়, যখন এটি এক গভীর, আত্মিক, নারী বন্ধুত্বের গল্প বলে। ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সংহতির পক্ষে দাঁড়ানো—ছবির এই অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে আরাম ও আশ্বাসের উৎস।



#WickedForGood #FilmReview #বন্ধুত্বেরগল্প #সারাক্ষণরিপোর্ট