বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতি যাচাই করতে জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়ন দল ডিসেম্বরের শেষ দিকে আবার ঢাকায় আসছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের ভিত্তিতে দলটি এবার চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।
প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়ন দল ডিসেম্বরের শেষ দিকে আবার ঢাকায় আসছে। তারা সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন শেয়ার করবে।
প্রথম দফা পর্যালোচনার ফলাফল উপস্থাপন
জাতিসংঘের দলটি চলতি মাসের শুরুতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করে অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছে। ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, দলটি ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঢাকায় এসে সেই পর্যালোচনার ফলাফল জানাবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনের আগে দ্বিতীয় দফা পরামর্শ
প্রথম দফার আলোচনায় দলটি দেশের বিভিন্ন পক্ষের মতামত শুনেছে। ডিসেম্বর সফরে তারা এসব মতামত উপস্থাপন করে দ্বিতীয় দফায় আরও পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে।
নির্ধারিত সময়ে উত্তরণের সিদ্ধান্ত
জাতিসংঘের নির্ধারণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ তিনটি সূচক—প্রতি মাথাপিছু মোট আয় (জি-এন-আই), মানবসম্পদ সূচক (এইচ-এ-আই) এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক (ই-ভি-আই)—দুটি ধারাবাহিক পর্যালোচনায় অর্জন করায় ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত মার্চে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভা নির্ধারিত সময়েই উত্তরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বেসরকারি খাতের আপত্তি
বেসরকারি খাত শুরু থেকেই উত্তরণ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, এলডিসি সুবিধা হারালে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে।
শেষ বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি পক্ষের মতামত ছিল মিশ্র। বেসরকারি খাত এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসন চান, নির্বাচিত সরকারই সিদ্ধান্ত নিক।
সুষ্ঠু উত্তরণের জন্য সুপারিশ চাওয়া
সরকারি সংস্থাগুলো জাতিসংঘ দলকে অনুরোধ করেছে যেন তারা এমন কিছু সুপারিশ দেয়, যা উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্য ও ব্যবসায় সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, জুলাইয়ের অস্থিরতা, ট্রাম্প শুল্কসহ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরবর্তী সরকারকে সময় দেওয়া উচিত।
সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ, কিন্তু ঝুঁকিও বেশি
সরকারি আরেক কর্মকর্তা জানান, নেপাল ও মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এলডিসি হিসেবে ডিউটি-ফ্রি-কোটা-ফ্রি (ডি-এফ-কিউ-এফ) সুবিধা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে পেরেছে। ডাব্লিউ-টি-ও–র তথ্য অনুযায়ী—
- বাংলাদেশ ডি-এফ-কিউ-এফ সুবিধার ব্যবহার করেছে ৭১%
- মিয়ানমার ব্যবহার করেছে ২৫%
- নেপাল ব্যবহার করেছে মাত্র ১০%
সুবিধা হারালে বাড়বে চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ অধিক সুবিধা ভোগ করায় উত্তরণের পর বাজারে প্রবেশাধিকারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই এসব সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
#বাংলাদেশ_এলডিসি_উত্তরণ #জাতিসংঘমূল্যায়ন #বাংলাদেশঅর্থনীতি #উন্নয়ন #ডি_এফ_কিউ_এফ #সরকার_বেসরকারি_খাত #সারাক্ষণরিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















