খালেদা জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা এবং চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন—‘গ্রিন সিগনাল’—অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও দলীয় নেতারা।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ চিকিৎসা এবং শারীরিক জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের অনুমোদন বা ‘গ্রিন সিগনাল’-এর অপেক্ষা চলছে।
লন্ডনে চিকিৎসার পরিকল্পনা
পরিবার ও দলীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লন্ডনের যে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয়েছিল, সেখানে তাঁকে ফের নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং দলের চিকিৎসকরা ইতিমধ্যেই লন্ডনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার পটভূমি
দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিওর, হৃদ্রোগ ও ফুসফুস–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন।
২০২১ সালের শেষ দিকে লিভার সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ওপর চিকিৎসকদের জোর ছিল। ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লিভার সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রক্রিয়া (TIPS) সম্পন্ন করেন।
বিদেশ যাত্রার আগের বাধা
২০২৪ সালে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসক বোর্ড জানায়, সেই সময় বিদেশ যাওয়ার উপযোগী অবস্থা হয়নি। তাই যাত্রা স্থগিত রাখতে হয়।
‘গ্রিন সিগনাল’ পেলেই যাত্রা
পরিবার এবং দলের বড় নেতাদের ভাষ্য, বোর্ডের অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে লন্ডনে নেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কাতার সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে চিকিৎসক ও পরিবার চান, শীতকালীন জটিলতা এবং দেশে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন বিশেষজ্ঞ বোর্ডের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। পরিবার, চিকিৎসক ও দলীয় নেতারা আশাবাদী—‘গ্রিন সিগনাল’ পেলেই দ্রুতই লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















