০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, যুদ্ধাপরাধের সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্যও আফ্রিকার সাহায্য অর্ধেক কমাচ্ছে, ‘টিকে থাকা অসম্ভব’ বলছে সংস্থাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে গিয়ে হাজারো কর্মী ছাঁটাই করল ওরাকল নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণ, দুইজন গ্রেপ্তার উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধে যোগ দিলে বাব-এল-মান্দেব বন্ধের হুমকি হুতিদের ইরানের ১২০টি ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা: ‘আমাদের পরিচয় মুছে দেওয়ার যুদ্ধ’ মানবতাবিরোধী মামলায় জামিনের জন্য কোটি টাকা দাবি: আইসিটি প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ইরান যুদ্ধের এক মাসে আরব বিশ্বের অর্থনীতিতে ১৯৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি: জাতিসংঘ কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বন্দর আব্বাসে যাত্রীঘাটে বিমান হামলা, কেশম দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির প্লান্ট ধ্বংস

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা এখনো হয়নি: ফখরুল

বিএনপি (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসকরা মনে করছেন যে ভবিষ্যতে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া লাগতে পারে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে ভ্রমণের মতো উপযোগী নয়।

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন

মির্জা ফখরুল জানান, দেশের ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়া কয়েকদিন ধরে এভারকেয়ার (এভারকেয়ার) হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন যে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স (জন্‌স হপকিন্স) এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের (লন্ডন ক্লিনিক) বিশেষজ্ঞরাও তার চিকিৎসায় সম্পৃক্ত আছেন।

মেডিকেল বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক

ফখরুল জানান, গত রাতেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে।
তারা খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নে উঠে এসেছে—তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্থিতিশীল হলে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যখন স্থিতিশীল হবে, তখন তাকে বিদেশে নেওয়া যাবে কি না—সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইতোমধ্যে বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের উদ্বেগ থেকে হাসপাতালের সামনে প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিব্রত করছে।
তিনি বলেন, এত মানুষের ভিড় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং অন্য রোগীদেরও সমস্যায় ফেলছে।

তিনি আবারও অনুরোধ করেন—
“বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং দেশজুড়ে সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আবেদন করছি—দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা নিয়মিত বুলেটিনের (বুলেটিন) মাধ্যমে আপনাদের খোঁজখবর জানাব।”

ভিড়ে যানজট ও সাংবাদিকদের অসুবিধা

দলের অনুরোধ অমান্য করে অনেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন।
এর ফলে হাসপাতালের আশেপাশে যানজট তৈরি হয়েছে এবং সংবাদকর্মীরাও কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে, কিন্তু ভিড় কমছে না।

দলের নেতাদের উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজ নিতে এসেছেন, যিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।
এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সবাইকে অনুরোধ করেন হাসপাতালে ভিড় না করতে এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।

বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি

নভেম্বরের ২৩ তারিখ রাতে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি নিউমোনিয়া (নিউমোনিয়া) তেও ভুগছেন এবং বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (করোনারি কেয়ার ইউনিট– সিসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, যুদ্ধাপরাধের সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা এখনো হয়নি: ফখরুল

০৭:১৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপি (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসকরা মনে করছেন যে ভবিষ্যতে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া লাগতে পারে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে ভ্রমণের মতো উপযোগী নয়।

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন

মির্জা ফখরুল জানান, দেশের ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়া কয়েকদিন ধরে এভারকেয়ার (এভারকেয়ার) হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন যে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স (জন্‌স হপকিন্স) এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের (লন্ডন ক্লিনিক) বিশেষজ্ঞরাও তার চিকিৎসায় সম্পৃক্ত আছেন।

মেডিকেল বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক

ফখরুল জানান, গত রাতেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে।
তারা খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নে উঠে এসেছে—তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্থিতিশীল হলে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যখন স্থিতিশীল হবে, তখন তাকে বিদেশে নেওয়া যাবে কি না—সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইতোমধ্যে বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের উদ্বেগ থেকে হাসপাতালের সামনে প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিব্রত করছে।
তিনি বলেন, এত মানুষের ভিড় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং অন্য রোগীদেরও সমস্যায় ফেলছে।

তিনি আবারও অনুরোধ করেন—
“বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং দেশজুড়ে সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আবেদন করছি—দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা নিয়মিত বুলেটিনের (বুলেটিন) মাধ্যমে আপনাদের খোঁজখবর জানাব।”

ভিড়ে যানজট ও সাংবাদিকদের অসুবিধা

দলের অনুরোধ অমান্য করে অনেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন।
এর ফলে হাসপাতালের আশেপাশে যানজট তৈরি হয়েছে এবং সংবাদকর্মীরাও কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে, কিন্তু ভিড় কমছে না।

দলের নেতাদের উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজ নিতে এসেছেন, যিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।
এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সবাইকে অনুরোধ করেন হাসপাতালে ভিড় না করতে এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।

বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি

নভেম্বরের ২৩ তারিখ রাতে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি নিউমোনিয়া (নিউমোনিয়া) তেও ভুগছেন এবং বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (করোনারি কেয়ার ইউনিট– সিসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।