১১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা এখনো হয়নি: ফখরুল

বিএনপি (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসকরা মনে করছেন যে ভবিষ্যতে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া লাগতে পারে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে ভ্রমণের মতো উপযোগী নয়।

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন

মির্জা ফখরুল জানান, দেশের ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়া কয়েকদিন ধরে এভারকেয়ার (এভারকেয়ার) হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন যে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স (জন্‌স হপকিন্স) এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের (লন্ডন ক্লিনিক) বিশেষজ্ঞরাও তার চিকিৎসায় সম্পৃক্ত আছেন।

মেডিকেল বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক

ফখরুল জানান, গত রাতেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে।
তারা খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নে উঠে এসেছে—তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্থিতিশীল হলে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যখন স্থিতিশীল হবে, তখন তাকে বিদেশে নেওয়া যাবে কি না—সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইতোমধ্যে বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের উদ্বেগ থেকে হাসপাতালের সামনে প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিব্রত করছে।
তিনি বলেন, এত মানুষের ভিড় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং অন্য রোগীদেরও সমস্যায় ফেলছে।

তিনি আবারও অনুরোধ করেন—
“বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং দেশজুড়ে সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আবেদন করছি—দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা নিয়মিত বুলেটিনের (বুলেটিন) মাধ্যমে আপনাদের খোঁজখবর জানাব।”

ভিড়ে যানজট ও সাংবাদিকদের অসুবিধা

দলের অনুরোধ অমান্য করে অনেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন।
এর ফলে হাসপাতালের আশেপাশে যানজট তৈরি হয়েছে এবং সংবাদকর্মীরাও কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে, কিন্তু ভিড় কমছে না।

দলের নেতাদের উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজ নিতে এসেছেন, যিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।
এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সবাইকে অনুরোধ করেন হাসপাতালে ভিড় না করতে এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।

বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি

নভেম্বরের ২৩ তারিখ রাতে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি নিউমোনিয়া (নিউমোনিয়া) তেও ভুগছেন এবং বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (করোনারি কেয়ার ইউনিট– সিসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তবে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা এখনো হয়নি: ফখরুল

০৭:১৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপি (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসকরা মনে করছেন যে ভবিষ্যতে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া লাগতে পারে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বিদেশে ভ্রমণের মতো উপযোগী নয়।

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন

মির্জা ফখরুল জানান, দেশের ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়া কয়েকদিন ধরে এভারকেয়ার (এভারকেয়ার) হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন যে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স (জন্‌স হপকিন্স) এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের (লন্ডন ক্লিনিক) বিশেষজ্ঞরাও তার চিকিৎসায় সম্পৃক্ত আছেন।

মেডিকেল বোর্ডের দীর্ঘ বৈঠক

ফখরুল জানান, গত রাতেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সম্পূর্ণ মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে।
তারা খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নে উঠে এসেছে—তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।

স্থিতিশীল হলে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যখন স্থিতিশীল হবে, তখন তাকে বিদেশে নেওয়া যাবে কি না—সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ইতোমধ্যে বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের উদ্বেগ থেকে হাসপাতালের সামনে প্রচুর লোকজন জড়ো হচ্ছেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিব্রত করছে।
তিনি বলেন, এত মানুষের ভিড় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে এবং অন্য রোগীদেরও সমস্যায় ফেলছে।

তিনি আবারও অনুরোধ করেন—
“বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং দেশজুড়ে সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আবেদন করছি—দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা নিয়মিত বুলেটিনের (বুলেটিন) মাধ্যমে আপনাদের খোঁজখবর জানাব।”

ভিড়ে যানজট ও সাংবাদিকদের অসুবিধা

দলের অনুরোধ অমান্য করে অনেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন।
এর ফলে হাসপাতালের আশেপাশে যানজট তৈরি হয়েছে এবং সংবাদকর্মীরাও কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে, কিন্তু ভিড় কমছে না।

দলের নেতাদের উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজ নিতে এসেছেন, যিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন।
এর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সবাইকে অনুরোধ করেন হাসপাতালে ভিড় না করতে এবং খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।

বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি

নভেম্বরের ২৩ তারিখ রাতে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি নিউমোনিয়া (নিউমোনিয়া) তেও ভুগছেন এবং বর্তমানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (করোনারি কেয়ার ইউনিট– সিসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।