বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি; বরং অবস্থা এখনও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
শারীরিক অবস্থা: আগের মতোই সংকটাপন্ন
চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়া এখনও নিউমোনিয়ায় ভুগছেন, যা তার হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
একজন চিকিৎসক জানান, তার শরীরে অতিরিক্ত পানি জমেছে, এজন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিস চলছে। শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
তবে গুরুতর অবস্থার মাঝেও তিনি সাড়া দিচ্ছেন—হাত-পা নাড়াতে পারছেন এবং মাঝে মাঝে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণ করতে পারছেন।
বিএনপির বক্তব্য: স্থিতিশীল কিন্তু উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই
বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, অবস্থার উন্নতি বা অবনতি—কোনোটাই স্পষ্ট নয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পেরেছেন, এখনই বলা সম্ভব নয় কবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো হতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, আশা এখনও আছে—অপেক্ষা করতে হবে।
বিদেশে চিকিৎসার সম্ভাবনা: প্রস্তুতি শুরু হলেও ‘এখনই নয়’
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সামান্য উন্নতি হলে তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কিন্তু বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি এখনও বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিকভাবে সক্ষম নন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরাও পরামর্শ দিচ্ছেন। শুক্রবার রাতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
তারা মত দিয়েছে—আন্তর্জাতিক মেডিকেল সাপোর্ট জরুরি হতে পারে, তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় বিমানে ওঠা সম্ভব নয়।
প্রস্তুতি চলমান: ভিসা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ
মির্জা ফখরুল জানান, সম্ভাব্য বিদেশ যাত্রার জন্য ভিসা, বিদেশি হাসপাতালের সাথে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় আগেই গুছিয়ে রাখা হচ্ছে—যাতে তিনি সুস্থ হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মূল্যায়ন: হার্টের ভালভ সমস্যা, মারাত্মক সংক্রমণ ও অগ্ন্যাশয়ের জটিলতা
একজন চিকিৎসক জানান, তার মাইট্রাল ভালভ শক্ত হয়ে গেছে, ফলে হৃদপিণ্ড রক্ত ঠিকমতো পাম্প করতে পারছে না। কিছু রক্ত আবার পিছনের দিকে ফিরে যাচ্ছে, এতে ডান পাশের হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ছে।
তীব্র সংক্রমণ শরীরকে চরম চাপে ফেলেছে, পাশাপাশি তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই করছেন।
লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি: পরিবারের উদ্যোগ
তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন জানিয়েছেন, তার স্বাস্থ্য সামান্যই উন্নতি ঘটলে তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
লন্ডনের হাসপাতাল ও আগের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে। বিশেষ সজ্জিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন।
সাবেক প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান জানান, সিঙ্গাপুর বা চীনে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় আছে।
ভিড় কমানোর অনুরোধ
হাসপাতালে জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় বিএনপি নেতারা জনগণকে অহেতুক ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জনসমাগম বাড়ার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার খোঁজখবর নেওয়া
বিএনপি ছাড়াও খিলাফত মজলিশসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে এসে খোঁজ নিয়েছেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
অভিযোগ: কারাবন্দি অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা মেলেনি
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কারাগারে থাকাকালীন যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হয়েছে।
দেশজুড়ে দোয়া
দেশের নানা প্রান্তে তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রার্থনার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
#tag #khaledazia #bangladeshpolitics #healthupdate #seriouscondition
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















