০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকায় বিএনপির ‘বিজয় মশাল রোডশো’ স্থগিত সচিবালয়ের ৯ তলায় আগুন, দ্রুত নিভানো হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন অবস্থায়, নির্বাসিত ছেলে বললেন—দেশে ফেরা তার নিয়ন্ত্রণে নয় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে: রিজভী ডিসেম্বর ২০২৫-এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম ঘোষণা, দাম বেড়েছে সব ধরনের প্রতিটির রংপুর-নীলফামারী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা জামায়াতের নায়েবে আমির হলেন এটিএম আজহার লাইনচ্যুতির চার ঘণ্টা পর সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক কেন কিছু ক্রিকেটারকে বিপিএলের নিলাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো

বঞ্চনার অভিযোগে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের বহু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিতে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবির কেন্দ্রবিন্দু—অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, নিয়মিত শূন্যপদে মেধাভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং পূর্বের রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করা।

মানববন্ধনে কর্মকর্তাদের অভিযোগ
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত (সুপারনিউমারি) পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বহু কর্মকর্তা পিছিয়ে পড়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশন (FID) নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে।

পূর্ববর্তী বৈষম্যের সমাধান দাবি
বক্তারা জানান, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতিতে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে নিয়মিত শূন্যপদ ও হালনাগাদ অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সাল থেকে সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের এক থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত পদোন্নতি দিয়ে বৈষম্য নিরসন করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের বঞ্চনার সমাধান এখনও হয়নি।

নতুন নির্দেশনায় পুনরায় বঞ্চনার অভিযোগ
কর্মকর্তারা জানান, গত বছর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রকৃত বঞ্চিতদের দাবি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বরং ২০২৫ সালে সমাধান দেওয়ার পরিবর্তে FID নতুন ‘পোস্ট অ্যাসিমিলেশন’ নির্দেশনা জারি করে আরও অনেক কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে এ বছর পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের একটি কূটচালক গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক নীতি চাপিয়ে দিয়ে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং পূর্ববর্তী সরকারকে তুলনামূলকভাবে ভালো হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

তিন দফা দাবি
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন—
১. পদোন্নতি, ইনসেন্টিভ, ঋণ অনুমোদন, অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ ও পোস্ট অ্যাসিমিলেশনের মতো বিষয়ে FID-এর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের এখতিয়ার, যা ভেন্ডরস এগ্রিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ অনুযায়ী নির্ধারিত।
২. এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সব নির্দেশনা বাতিল করতে হবে।
৩. ২০০৯ থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে নতুন করে আবেদন আহ্বান করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক ধাপ পদোন্নতি দিতে হবে।

স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান
কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মডেল অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পদোন্নতি নীতিমালা চালু করতে হবে।

#মানববন্ধন রাষ্ট্রীয়ব্যাংক পদোন্নতি-বৈষম্য FID BangladeshBank

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকায় বিএনপির ‘বিজয় মশাল রোডশো’ স্থগিত

বঞ্চনার অভিযোগে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

০৫:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের বহু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিতে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবির কেন্দ্রবিন্দু—অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, নিয়মিত শূন্যপদে মেধাভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং পূর্বের রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করা।

মানববন্ধনে কর্মকর্তাদের অভিযোগ
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত (সুপারনিউমারি) পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বহু কর্মকর্তা পিছিয়ে পড়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশন (FID) নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে।

পূর্ববর্তী বৈষম্যের সমাধান দাবি
বক্তারা জানান, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতিতে বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে নিয়মিত শূন্যপদ ও হালনাগাদ অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সাল থেকে সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের এক থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত পদোন্নতি দিয়ে বৈষম্য নিরসন করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের বঞ্চনার সমাধান এখনও হয়নি।

নতুন নির্দেশনায় পুনরায় বঞ্চনার অভিযোগ
কর্মকর্তারা জানান, গত বছর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে হাজার হাজার অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রকৃত বঞ্চিতদের দাবি অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বরং ২০২৫ সালে সমাধান দেওয়ার পরিবর্তে FID নতুন ‘পোস্ট অ্যাসিমিলেশন’ নির্দেশনা জারি করে আরও অনেক কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে এ বছর পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

তাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের একটি কূটচালক গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্যমূলক নীতি চাপিয়ে দিয়ে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং পূর্ববর্তী সরকারকে তুলনামূলকভাবে ভালো হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

তিন দফা দাবি
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন—
১. পদোন্নতি, ইনসেন্টিভ, ঋণ অনুমোদন, অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ ও পোস্ট অ্যাসিমিলেশনের মতো বিষয়ে FID-এর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের এখতিয়ার, যা ভেন্ডরস এগ্রিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ অনুযায়ী নির্ধারিত।
২. এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সব নির্দেশনা বাতিল করতে হবে।
৩. ২০০৯ থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে নতুন করে আবেদন আহ্বান করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক ধাপ পদোন্নতি দিতে হবে।

স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান
কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মডেল অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক পদোন্নতি নীতিমালা চালু করতে হবে।

#মানববন্ধন রাষ্ট্রীয়ব্যাংক পদোন্নতি-বৈষম্য FID BangladeshBank