বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চূড়ান্ত নিলাম তালিকা থেকে নয়জন দেশি ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক তদন্তে উঠে এসেছে, গত আসরে তাঁদের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং–সম্পর্কিত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে বিসিবির স্বাধীন তদন্ত কমিটির বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর।
তদন্তের পটভূমি
বিসিবির গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন আপিল বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার।
তাঁরা গত বিপিএলের অনিয়ম, সন্দেহ ও অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা করে মোট নয়জন বাংলাদেশি এবং একজন বিদেশি খেলোয়াড়কে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পরবর্তী ধাপে এসব নাম পাঠানো হয় বিসিবির দুর্নীতি দমন পরামর্শক ও আইসিসির সাবেক অ্যান্টি–করাপশন প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে।
অ্যান্টি–করাপশন বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত
মার্শালের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চূড়ান্ত নিলাম তালিকা থেকে নয়জন দেশি খেলোয়াড়কে বাদ দেয়।
এদের বেশিরভাগই প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন, কিন্তু নিলাম শুরুর আগের দিন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের রাখা হয়নি।
সন্দেহভাজন খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার এবং নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটার– দু’ধরনেরই নাম।
‘রেড-ফ্ল্যাগড’ খেলোয়াড়দের ওপর কড়াকড়ি
আইসিসির অ্যান্টি–করাপশন ইউনিট যাঁদের ‘রেড-ফ্ল্যাগড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাঁদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
যদিও সবাইকে সরাসরি ফিক্সিংয়ের অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে তাঁদের কিছু কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং অবস্থানগত প্রবেশাধিকার নিয়ে তদন্ত কমিটির তীব্র সংশয় রয়েছে।
গভর্নিং কাউন্সিল জানিয়েছে, কোনো দলই এই ‘রেড-ফ্ল্যাগড’ ব্যক্তিদের এবারের বিপিএলে কোনো অপারেশন কিংবা দলে সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে রাখতে পারবে না।
তাঁদের দলীয় ড্রেসিং রুম বা কোনো নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশেও বাধা থাকবে।
অন্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ
নিষিদ্ধ খেলোয়াড়রা বিসিবির অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন। তবে বিপিএলের এবারের আসরে তাঁরা কেউ অংশ নিতে পারবেন না।
১২তম বিপিএলের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে রবিবার (৩০ নভেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে।
#Sports | BPL | Bangladesh Cricket | Fixing Allegations
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















