ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন নৌ-মাইন স্থাপন করেছে বলে দুটি সূত্র
রয়টার্সকে জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই
সামুদ্রিক পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত
ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে
প্রণালিটি দিয়ে তেল ও এলএনজি রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক
জ্বালানি মূল্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
মাইন স্থাপনের বিস্তারিত এবং মার্কিন প্রতিক্রিয়া
একটি সূত্র জানায়, মাইনগুলো ‘গত কয়েক দিনে’ স্থাপন করা হয়েছে এবং
বেশিরভাগের অবস্থান জানা গেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সেগুলো
নিষ্ক্রিয় করবে তা বলতে রাজি হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে মাইন অপসারণের নির্দেশ দেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে
অন্যথায় পরিণতি হবে ‘এমন স্তরের, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ মার্কিন
সেন্ট্রাল কমান্ড পরে জানায়, তারা ১৬টি ইরানি মাইন-স্থাপনকারী জাহাজসহ
একাধিক নৌযান ধ্বংস করেছে। সিএনএন আগে মঙ্গলবার প্রথম এই মাইন স্থাপনের
খবর দিয়েছিল।

কৌশলগত ঝুঁকি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধেও ইরান হরমুজে মাইন ছড়িয়েছিল এবং একটি
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে ইরানের কাছে অনুমানিক
৬,০০০ নৌ-মাইন রয়েছে এবং এখনো তাদের ৮০-৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও
মাইন-স্থাপনকারী যান অক্ষত রয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন নৌবাহিনী
সম্প্রতি বাহরাইনে মোতায়েন তার চারটি মাইনসুইপার জাহাজ অবসরে
পাঠিয়েছিল, যা এখন মাইন পরিষ্কারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রণালিটি পরিষ্কার করতে যুদ্ধ শেষ হলেও কয়েক সপ্তাহ
লাগতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















