পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হলেও, এ কারণে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোনোভাবেই জটিল হবে না। তিনি জানান, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও একইসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি একটি স্বতন্ত্র বিষয়, যা ভারতের সঙ্গে সামগ্রিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করবে না। জাটিয়া প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব টকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “তিনি যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্ত, তার শাস্তি কার্যকরের জন্য আমরা অবশ্যই তাকে দেশে ফেরত চাই। তবে এর কারণে অন্য কোনো ইস্যু আটকে থাকবে বলে আমি মনে করি না।”
তিস্তাসহ অন্যান্য বিষয়ও চলমান থাকবে
তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, তিস্তা পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিসহ অন্যান্য ইস্যু তাদের নিজস্ব গতিতে চলবে। এক বিষয়ের সঙ্গে অন্য বিষয়কে মিলিয়ে দেখা হবে না। তার মতে, আগের সরকারও দীর্ঘ ১৫ বছরে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সমাধান করতে পারেনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে আছেন বলে জানা গেলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কামালের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা
ঢাকার সঙ্গে দিল্লির বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভারতকে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে তিনি আশাবাদী যে দুই দেশের কার্যকর সম্পর্ক শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান একই—পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চাই।”
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, কোনো অতিরিক্ত কিছু নয়। তার মতে, বিকল্প আমদানির উৎস থাকা—যেমন পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ বা তুলা—বাংলাদেশের পক্ষে উপকারী।
ভারতের প্রতিক্রিয়া: অনুরোধ বিবেচনাধীন
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য পাঠানো অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে।
ভারতকে পাঠানো দ্বিতীয় নোট ভার্বাল
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আইসিটি-১-এর সাম্প্রতিক রায়ের পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের নতুন আবেদন পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে। তিনি স্বীকার করেন, গত বছরের প্রথম অনুরোধের কোনো জবাব ভারত দেয়নি।
আইসিটির রায়
গত নভেম্বর ১৭ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
#Bangladesh_Politics | Dhaka_Delhi_Ties | Hasina_Extradition
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















