স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন তাদের ৬ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে। সংগঠনের মূল দাবি ছিল তাদের পদমর্যাদায় ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন।
মূল দাবি ও আন্দোলনের পটভূমি
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে তারা এ আন্দোলনে নেমেছে। তাদের অভিযোগ, একই ধরনের ডিপ্লোমাধারী অন্যান্য কর্মীরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও স্বাস্থ্য সহকারীরা এখনও বৈষম্যের মুখে।
কুষ্টিয়ায় টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি
ইউএনবি কুষ্টিয়া প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা রোববার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন।
• কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
• ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল
• জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র
কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসা সেবায় গুরুতর বিঘ্ন ঘটে এবং রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। কর্মসূচির সময় হাসপাতালের চত্বরে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষম্যের অভিযোগ ও কর্মীদের ক্ষোভ
স্পিকাররা বলেন, সারাদেশে ডিপ্লোমাধারী অন্যান্য কর্মকর্তারা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা সেই মর্যাদা পাননি। তাদের আন্দোলন সত্ত্বেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
• মোহাম্মদ রফিকুল রহমান, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল:
তিনি বলেন, অন্য সব ডিপ্লোমাধারী কর্মকর্তা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেলেও তারা এখনও ‘কর্মচারী’ হিসেবে বিবেচিত—এটি স্পষ্ট বৈষম্য। সরকারকে দ্রুত তাদের দাবি মানার আহ্বান জানান তিনি। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
• মো. শেখ তারেক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল:
তিনি বলেন, ১০ম গ্রেড তাদের ‘দাবি নয়, অধিকার’। দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তিনি। সতর্ক করে বলেন, আজ দুই ঘণ্টার কর্মসূচি হলেও পরবর্তীতে তারা সম্পূর্ণ কর্মবিরতিতে যেতে পারেন।
রোগীদের ভোগান্তি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রেসক্রিপশন হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন, ওষুধ নিতে পারেননি।
ডা. হোসেন ইমাম, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), বলেন:
সকালে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন যে তারা ওষুধ পাচ্ছেন না। পরে দেখা যায়, স্টাফরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মসূচির ব্যানার টাঙিয়েছেন। প্রতিদিন বিপুল রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন—টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা হাসপাতাল সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দাবি দ্রুত বিবেচনা করা জরুরি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি তারা পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করেন, সাধারণ মানুষ অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
#tags স্বাস্থ্যসহকারী আন্দোলন ১০ম_গ্রেড কর্মবিরতি কুষ্টিয়া স্বাস্থ্যসেবা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















