০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে কবে কারা জয় পেয়েছিল? তারপর কী হয়েছিল? জ্বালানি রিজার্ভ ছাড়লেও অপিরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে গাদ্দাফি থেকে খামেনি: মিত্রদের পতনে পুতিন কখনও সরব, কখনও নিশ্চুপ ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল নিয়ে হিসাব ভুল করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন  ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন পারমাণবিক কৌশল ঘোষণা ফ্রান্সের, মিত্রদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ ঐতিহাসিক তেল মজুদ নিঃসরণ কার্যত ‘ব্যান্ড-এইড’, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট গভীরতর জেপিমর্গান বেসরকারি ঋণ তহবিলের ঋণমান কমিয়েছে, এআই-আতঙ্কে সফটওয়্যার খাত রেকর্ড মজুদ নিঃসরণের পরেও তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়েছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দূর হয়নি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন, জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়ল সমুদ্র ড্রোনে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নতুন মাত্রায়

রাঁচিতে কোহলির দুর্দান্ত ইনিংসে ভারতের দাপুটে জয়

রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট-বলে দুর্দান্ত সূচনা কাজে লাগিয়ে ৩৪৯ রানের বিশাল টার্গেট রক্ষা করে ভারত ১৭ রানে জয় তুলে নেয়। শেষদিকে লড়াই জমলেও শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের আঘাত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ভারতের ওপেনিং জুটি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি পাওয়ারপ্লেতে ৮০ রান যোগ করেন। অন্যদিকে মাত্র ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। হর্ষিত রানা ও অর্শদীপ সিং শুরুতেই  ব্যাটিং লাইনআপকে নড়বড়ে করে দেন। এই দুই দলীয় শুরুর মধ্যে ৩৩ রানের পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে শিশিরে বল ভিজে যাওয়ায় বোলিং কঠিন হয়ে উঠলেও ভারত শেষ পর্যন্ত লড়াই ধরে রাখে।

জসপ্রিত বুমরাহ বিশ্রামে থাকায় হর্ষিত রানা নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পান এবং তাতে তিনি সফলও হন। প্রথম ওভারের পর টানা তিন বলের বিচিত্র মুভমেন্টে রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি কককে শূন্য রানে ফেরান তিনি। তার প্রথম স্পেল–৪-০-২০-২–ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেয়। অর্শদীপ সিং–এর ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং এডেন মার্করামকে ভুল শট খেলতে বাধ্য করে এবং কেএল রাহুল সহজ ক্যাচ নেন।

ইনিংসের শেষদিকে কেএল রাহুলের ৫৬ বলে ৬০ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে ৩৪৯ রানে পৌঁছে দেয়। বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর রাহুলের ইনোভেটিভ শট—বিশেষ করে মার্কো জানসেনের বিপক্ষে রিভার্স স্কুপে ছক্কা—গ্যালারির উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

রোহিত-কোহলির ব্যাটিং ছিল আরেকটি বড় আকর্ষণ। পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শতরানের জুটি গড়েন। রোহিতের চোখধাঁধানো শট এবং কোহলির ফোকাসড ব্যাটিং স্টেডিয়ামের ৩৭ হাজার দর্শককে মাতিয়ে তোলে। রোহিত ৫৭ রান করে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও ওয়াশিংটন সুন্দর বড় কিছু করতে না পারলেও কোহলির ১৩৫ রানের ইনিংস মধ্য ওভারের মন্থরতা কাটিয়ে দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে মার্কো জানসেন ও ম্যাথিউ ব্রিটজকের ৯৭ রানের জুটি ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। শিশিরে বল ভিজে যাওয়ায় ভারতীয় বোলারদের জন্য কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কুলদীপ যাদব ৩৪তম ওভারে টানা দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচকে আবার ভারতের নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার স্পেল—১০-০-৬৮-৪—ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোলিং।

শেষদিকে করবিন বশ ৬৭ রান করে ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গেলেও শুরুতেই রানার আগুনে স্পেল এবং পরে কুলদীপের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শুরু থেকেই ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেই ভারত ম্যাচে এগিয়ে যায়। কোহলির মহাকাব্যিক ইনিংস, রোহিতের ফর্ম, রাহুলের ফিনিশিং এবং রানার-অর্শদীপ-কুলদীপের বোলিং মিলিয়ে ভারত সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে।


#ক্রিকেট #ভারত #দক্ষিণআফ্রিকা #কোহলি #রোহিত #রাহুল #হর্ষিতরানা #কুলদীপযাদব #ওয়ানডে

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে কবে কারা জয় পেয়েছিল? তারপর কী হয়েছিল?

রাঁচিতে কোহলির দুর্দান্ত ইনিংসে ভারতের দাপুটে জয়

০১:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট-বলে দুর্দান্ত সূচনা কাজে লাগিয়ে ৩৪৯ রানের বিশাল টার্গেট রক্ষা করে ভারত ১৭ রানে জয় তুলে নেয়। শেষদিকে লড়াই জমলেও শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের আঘাত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ভারতের ওপেনিং জুটি রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি পাওয়ারপ্লেতে ৮০ রান যোগ করেন। অন্যদিকে মাত্র ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। হর্ষিত রানা ও অর্শদীপ সিং শুরুতেই  ব্যাটিং লাইনআপকে নড়বড়ে করে দেন। এই দুই দলীয় শুরুর মধ্যে ৩৩ রানের পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে শিশিরে বল ভিজে যাওয়ায় বোলিং কঠিন হয়ে উঠলেও ভারত শেষ পর্যন্ত লড়াই ধরে রাখে।

জসপ্রিত বুমরাহ বিশ্রামে থাকায় হর্ষিত রানা নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পান এবং তাতে তিনি সফলও হন। প্রথম ওভারের পর টানা তিন বলের বিচিত্র মুভমেন্টে রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি কককে শূন্য রানে ফেরান তিনি। তার প্রথম স্পেল–৪-০-২০-২–ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেয়। অর্শদীপ সিং–এর ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং এডেন মার্করামকে ভুল শট খেলতে বাধ্য করে এবং কেএল রাহুল সহজ ক্যাচ নেন।

ইনিংসের শেষদিকে কেএল রাহুলের ৫৬ বলে ৬০ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে ৩৪৯ রানে পৌঁছে দেয়। বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর রাহুলের ইনোভেটিভ শট—বিশেষ করে মার্কো জানসেনের বিপক্ষে রিভার্স স্কুপে ছক্কা—গ্যালারির উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

রোহিত-কোহলির ব্যাটিং ছিল আরেকটি বড় আকর্ষণ। পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শতরানের জুটি গড়েন। রোহিতের চোখধাঁধানো শট এবং কোহলির ফোকাসড ব্যাটিং স্টেডিয়ামের ৩৭ হাজার দর্শককে মাতিয়ে তোলে। রোহিত ৫৭ রান করে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও ওয়াশিংটন সুন্দর বড় কিছু করতে না পারলেও কোহলির ১৩৫ রানের ইনিংস মধ্য ওভারের মন্থরতা কাটিয়ে দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে মার্কো জানসেন ও ম্যাথিউ ব্রিটজকের ৯৭ রানের জুটি ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। শিশিরে বল ভিজে যাওয়ায় ভারতীয় বোলারদের জন্য কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কুলদীপ যাদব ৩৪তম ওভারে টানা দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচকে আবার ভারতের নিয়ন্ত্রণে আনেন। তার স্পেল—১০-০-৬৮-৪—ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোলিং।

শেষদিকে করবিন বশ ৬৭ রান করে ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে গেলেও শুরুতেই রানার আগুনে স্পেল এবং পরে কুলদীপের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শুরু থেকেই ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেই ভারত ম্যাচে এগিয়ে যায়। কোহলির মহাকাব্যিক ইনিংস, রোহিতের ফর্ম, রাহুলের ফিনিশিং এবং রানার-অর্শদীপ-কুলদীপের বোলিং মিলিয়ে ভারত সিরিজে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে।


#ক্রিকেট #ভারত #দক্ষিণআফ্রিকা #কোহলি #রোহিত #রাহুল #হর্ষিতরানা #কুলদীপযাদব #ওয়ানডে