০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
জুনের মধ্যে সব ব্যাংককে ‘বাংলা QR’ অ্যাপ চালু করতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে স্কুল, রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের পরিকল্পনা করছে সরকার লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন, আটকে থাকা আরও অনেকের মুক্তির অপেক্ষা আশুলিয়ায় দুটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ, ৪,০০০ শ্রমিক কর্মহীন ইরান যুদ্ধে আমিরাতের হিসাব: ১২ নিহত, ১৯০ আহত, আটকানো হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি ড্রোন পোপ ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন, ট্রাম্পকে সরাসরি বার্তা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক: বিএনপি বলছে সংবিধানে নেই, জামায়াত বলছে জনরায় মানতে হবে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১৮০ জনের বেশি আহত ইরান যুদ্ধের আঁচে বিশ্বজুড়ে সার ও জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে, বাংলাদেশও ঝুঁকিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিনিয়োগ:ওপেনএআইয়ের মূল্যায়ন দাঁড়াল ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি নেই

ভূমিকা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রায় একই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা ও চিকিৎসক বোর্ডের সদস্যরা।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ
একজন চিকিৎসক বোর্ডের সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি না হলেও কোনো অবনতিও ঘটেনি। তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং অল্প কিছু কথা বলতেও সক্ষম হচ্ছেন।

তিনি জানান, আলহামদুলিল্লাহ, অবস্থার অবনতি না হওয়াকে তাঁরা সামান্য উন্নতি হিসেবে বিবেচনা করছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে সহযোগিতাও করছেন তিনি। খালেদা জিয়াকে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁর পুত্রবধূ নিজে খাওয়াচ্ছেন।

বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা
চিকিৎসক বোর্ড জানায়, তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে সিঙ্গাপুর বা লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত তাঁকে আরও কয়েকদিন সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বোর্ডের সদস্য জানান, স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের সদস্যরা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। লন্ডন ক্লিনিকসহ যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
রবিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি।

রিজভী বলেন, অবস্থার অবনতি হয়নি ঠিকই, কিন্তু উল্লেখযোগ্য উন্নতির খবরও পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, সময় উপযুক্ত হলে তিনি ফিরবেন। তিনি আরও জানান, তারেক রহমান নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত সব বিষয়ে নিবিড় নজর রাখছেন।

চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা
শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন জানান, তিনি চিকিৎসা গ্রহণে সক্ষম হলেও এখনো বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। চিকিৎসক বোর্ডের পরামর্শ পেলেই দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

২৩ নভেম্বর একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা
দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার বিএনপির ঢাকা দক্ষিণ সিটি ইউনিট নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে, যেখানে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান সোসাইটি মসজিদ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় মসজিদ, পল্লবী-২ কমিউনিটি সেন্টার ও সেগুনবাগিচার বায়তুল আকসা জামে মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনও প্রার্থনা করে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও তাঁর সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যা আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও ঢাকা সিটি সর্বজনীন পূজা কমিটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনের মধ্যে সব ব্যাংককে ‘বাংলা QR’ অ্যাপ চালু করতে হবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি নেই

০১:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভূমিকা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রায় একই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা ও চিকিৎসক বোর্ডের সদস্যরা।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ
একজন চিকিৎসক বোর্ডের সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি না হলেও কোনো অবনতিও ঘটেনি। তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং অল্প কিছু কথা বলতেও সক্ষম হচ্ছেন।

তিনি জানান, আলহামদুলিল্লাহ, অবস্থার অবনতি না হওয়াকে তাঁরা সামান্য উন্নতি হিসেবে বিবেচনা করছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে সহযোগিতাও করছেন তিনি। খালেদা জিয়াকে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁর পুত্রবধূ নিজে খাওয়াচ্ছেন।

বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা
চিকিৎসক বোর্ড জানায়, তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে সিঙ্গাপুর বা লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত তাঁকে আরও কয়েকদিন সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বোর্ডের সদস্য জানান, স্থানীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত চিকিৎসক দলের সদস্যরা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। লন্ডন ক্লিনিকসহ যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
রবিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি।

রিজভী বলেন, অবস্থার অবনতি হয়নি ঠিকই, কিন্তু উল্লেখযোগ্য উন্নতির খবরও পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, সময় উপযুক্ত হলে তিনি ফিরবেন। তিনি আরও জানান, তারেক রহমান নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত সব বিষয়ে নিবিড় নজর রাখছেন।

চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা
শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন জানান, তিনি চিকিৎসা গ্রহণে সক্ষম হলেও এখনো বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। চিকিৎসক বোর্ডের পরামর্শ পেলেই দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

২৩ নভেম্বর একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা
দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার বিএনপির ঢাকা দক্ষিণ সিটি ইউনিট নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে, যেখানে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান সোসাইটি মসজিদ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় মসজিদ, পল্লবী-২ কমিউনিটি সেন্টার ও সেগুনবাগিচার বায়তুল আকসা জামে মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনও প্রার্থনা করে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও তাঁর সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যা আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও ঢাকা সিটি সর্বজনীন পূজা কমিটি।