১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন: আতঙ্কে বিনিয়োগকারী ও আমানতকারী সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা নিয়ে টানাপোড়েন, শিল্পখাতে উদ্বেগ সরকারি প্রশাসনে নিয়মিত পদোন্নতি বিলম্বে অসন্তোষ, ক্ষুব্ধ তিন স্তরের শত শত কর্মকর্তা নির্বাচনী মাঠে বিএনপির ২৮৮ ও জামায়াতের ২২৪ প্রার্থী, ভোটের লড়াইয়ে রেকর্ড সংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বী শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা তারেক রহমানের আমির হোসেনের গলাকাটা মরদেহ মেঘনা নদীর পাড়ে উদ্ধার, রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তদন্ত মেঘনা নদী থেকে নিখোঁজ যুবক জয় চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার মেমরি চিপের দামে আগুন, চাপে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার বাজার ডলার চাঙা, স্বর্ণে ভাটা, ট্রাম্পের সুর নরম হতেই ঘুরে দাঁড়াল বৈশ্বিক শেয়ারবাজার সিরিয়া থেকে আইএস বন্দি সরানো শুরু, ইরাকে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন উন্নতির পেছনে ভারতীয় প্রতিভার ভূমিকা: এলন মাস্কের খোলামেলা মত

এলন মাস্ক বললেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি পুরোপুরি H-1B ভিসা বন্ধ করে দেয়, সেটি হবে “খুবই খারাপ” সিদ্ধান্ত। নিকিল কামাথের পডকাস্টে তিনি খোলামেলাভাবে ব্যাখ্যা করলেন, আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি উত্থানের পেছনে ভারতীয় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান কতটাই গভীর।

ভারতীয় প্রতিভা ও আমেরিকার উত্থান

নিকিল কামাথ আলোচনার শুরুতেই বলেছিলেন—দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে “সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের” টেনে নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনমত বদলে গেছে। কেন এতটা ‘অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন’ ভাব তৈরি হলো?

জবাবে এলন মাস্ক পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেন—যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় প্রতিভা থেকে বিশালভাবে উপকৃত হয়েছে।

তার ভাষায়, “আমেরিকা অসাধারণভাবে লাভবান হয়েছে ভারত থেকে আসা প্রতিভাবান মানুষদের কারণে।”

তৃতীয় বিশ্ব' থেকে অভিবাসন চিরতরে বন্ধ করছেন ট্রাম্প

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং H-1B ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। গত অক্টোবরেই নতুন আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়—যা স্থানীয় নাগরিক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে চাপ তৈরি করছে, আবার একই সঙ্গে ব্যবসায়িক মহলে তীব্র সমালোচনাও তুলেছে।

H-1B নিয়ে বিতর্ক: বাতিল নয়, অপব্যবহার বন্ধ করতে চান মাস্ক

মাস্ক মানেন—H-1B ব্যবস্থায় অপব্যবহার হয়েছে। কিছু আউটসোর্সিং কোম্পানি নিয়মকে ‘গেম’ করেছে।

কিন্তু সমাধান বাতিল নয়—সংশোধন।

তার কথায়, “সিস্টেমকে যারা অপব্যবহার করছে তাদের থামাতে হবে। পুরো ভিসা প্রোগ্রাম বন্ধ করা ঠিক পথ নয়।”

কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠীর দাবি—H-1B পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত। মাস্ক স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন—“এমনটি হলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে।”

ইলন মাস্কের সফলতার গল্প । Daily Star Bangla | undefined

সীমান্তনীতি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দক্ষ জনবল সংকট

মাস্ক পূর্বের বাইডেন প্রশাসনের সীমান্তনীতিকে “নিয়ন্ত্রণহীন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রণ না থাকলে “আপনি কার্যত কোনো দেশই থাকেন না।”

তিনি বলেন—যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসন একটি জটিল বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

বামপন্থীরা প্রায় ‘ওপেন বর্ডার’-এর মতো অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।

ডানপন্থীদের মধ্যে আবার এমন ধারণা আছে—বিদেশ থেকে আসা মেধাবীরা তাদের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

মাস্ক বলেন, শিথিল নিয়ন্ত্রণ বহু অবৈধ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এবং একটি ‘নেগেটিভ সিলেকশন ইফেক্ট’ তৈরি হয়—যেখানে আর্থিক প্রণোদনা মানুষকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করে।

তবু একদম ভিন্ন দিকটি তিনি জোর দিয়ে বলেন—দক্ষ জনবল সংকট বাস্তব।

“কঠিন চ্যালেঞ্জের কাজগুলো শেষ করতে যথেষ্ট দক্ষ মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। আরও দক্ষ মানুষ আসলে তা অবশ্যই ভালো।”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন: আতঙ্কে বিনিয়োগকারী ও আমানতকারী

মার্কিন উন্নতির পেছনে ভারতীয় প্রতিভার ভূমিকা: এলন মাস্কের খোলামেলা মত

০৭:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

এলন মাস্ক বললেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি পুরোপুরি H-1B ভিসা বন্ধ করে দেয়, সেটি হবে “খুবই খারাপ” সিদ্ধান্ত। নিকিল কামাথের পডকাস্টে তিনি খোলামেলাভাবে ব্যাখ্যা করলেন, আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি উত্থানের পেছনে ভারতীয় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান কতটাই গভীর।

ভারতীয় প্রতিভা ও আমেরিকার উত্থান

নিকিল কামাথ আলোচনার শুরুতেই বলেছিলেন—দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে “সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের” টেনে নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনমত বদলে গেছে। কেন এতটা ‘অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন’ ভাব তৈরি হলো?

জবাবে এলন মাস্ক পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেন—যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় প্রতিভা থেকে বিশালভাবে উপকৃত হয়েছে।

তার ভাষায়, “আমেরিকা অসাধারণভাবে লাভবান হয়েছে ভারত থেকে আসা প্রতিভাবান মানুষদের কারণে।”

তৃতীয় বিশ্ব' থেকে অভিবাসন চিরতরে বন্ধ করছেন ট্রাম্প

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং H-1B ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। গত অক্টোবরেই নতুন আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়—যা স্থানীয় নাগরিক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে চাপ তৈরি করছে, আবার একই সঙ্গে ব্যবসায়িক মহলে তীব্র সমালোচনাও তুলেছে।

H-1B নিয়ে বিতর্ক: বাতিল নয়, অপব্যবহার বন্ধ করতে চান মাস্ক

মাস্ক মানেন—H-1B ব্যবস্থায় অপব্যবহার হয়েছে। কিছু আউটসোর্সিং কোম্পানি নিয়মকে ‘গেম’ করেছে।

কিন্তু সমাধান বাতিল নয়—সংশোধন।

তার কথায়, “সিস্টেমকে যারা অপব্যবহার করছে তাদের থামাতে হবে। পুরো ভিসা প্রোগ্রাম বন্ধ করা ঠিক পথ নয়।”

কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠীর দাবি—H-1B পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত। মাস্ক স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন—“এমনটি হলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে।”

ইলন মাস্কের সফলতার গল্প । Daily Star Bangla | undefined

সীমান্তনীতি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও দক্ষ জনবল সংকট

মাস্ক পূর্বের বাইডেন প্রশাসনের সীমান্তনীতিকে “নিয়ন্ত্রণহীন” হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রণ না থাকলে “আপনি কার্যত কোনো দেশই থাকেন না।”

তিনি বলেন—যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসন একটি জটিল বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

বামপন্থীরা প্রায় ‘ওপেন বর্ডার’-এর মতো অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।

ডানপন্থীদের মধ্যে আবার এমন ধারণা আছে—বিদেশ থেকে আসা মেধাবীরা তাদের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

মাস্ক বলেন, শিথিল নিয়ন্ত্রণ বহু অবৈধ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এবং একটি ‘নেগেটিভ সিলেকশন ইফেক্ট’ তৈরি হয়—যেখানে আর্থিক প্রণোদনা মানুষকে অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করে।

তবু একদম ভিন্ন দিকটি তিনি জোর দিয়ে বলেন—দক্ষ জনবল সংকট বাস্তব।

“কঠিন চ্যালেঞ্জের কাজগুলো শেষ করতে যথেষ্ট দক্ষ মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। আরও দক্ষ মানুষ আসলে তা অবশ্যই ভালো।”