০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সৃজনশীলতার সংকটে শিক্ষা: ভবিষ্যতের জন্য কি এখনও উপযোগী আমাদের স্কুল? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি: ‘বিনামূল্যের’ প্রযুক্তির আড়ালে কী লুকিয়ে আছে? মোদির পদত্যাগের ভাইরাল চিঠি সঠিক নয়, স্পষ্ট করল ভারতের সরকার দিল্লিতে নীট আন্দোলনের মামলায় বড় সিদ্ধান্ত: অপরাধমূলক অতীত না থাকলে আইনি পদক্ষেপ নয় গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত: তিতাসের গ্রাহকদের নিম্নচাপ অব্যাহত, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে সরবরাহ কমেছে ৫৫০ এমএমসিএফডি হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে প্রাণহানি বেড়ে ৮৩৫ পাবনায় সেপটিক ট্যাংকে স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ এনসিপির বহরে আবারও হামলার অভিযোগ, এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে ইট নিক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ি হাঙ্গুতে জঙ্গি হামলা: ডিএসপিসহ ১১ পুলিশ নিহত, পাল্টা অভিযানে ১৫ হামলাকারী নিহত সিলেটে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে ৫ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন

বাংলাদেশে জননিরাপত্তা জোরদারে ডিজিটাল ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের তাগিদ

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কৌশলের আহ্বান
ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে জননিরাপত্তা জোরদার করতে প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পাশাপাশি কমিউনিটি-ভিত্তিক ও পরিবেশভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ কৌশলকে একসঙ্গে প্রয়োগ করা জরুরি। তারা মনে করেন, নজরদারি বাড়ানো, জনপরিসর পুনর্গঠন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


অপরাধ প্রতিরোধ শুরু হওয়া উচিত পরিবেশ-নির্ভর উদ্যোগ দিয়ে
স্পিকারদের মতে, জনপরিসর এমনভাবে ডিজাইন করা প্রয়োজন যাতে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কমে যায়। তারা বলেন:

  • নজরদারি বাড়ানো
  • এলাকা ভাগ করে দায়িত্ব নিশ্চিত করা
  • জনপরিসর খোলা, দৃশ্যমান ও নিরাপদ রাখা

এগুলো নিশ্চিত করলে অপরাধের সুযোগ কমে এবং মানুষ নিরাপদ অনুভব করে।


ডিজিটাল সরঞ্জাম ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিরাপদ পাড়া গঠনে নিয়মিত তদারকি, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল টুলের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
সেমিনারে বলা হয়, প্রযুক্তির সহায়তা জননিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে পারে।


সেমিনারের আয়োজন ও বক্তারা
সেমিনারের শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশে স্থিতিস্থাপক কমিউনিটি গঠন ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ উন্নয়ন”। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১–এ এটি অনুষ্ঠিত হয়।

মূল বক্তব্য প্রদান করেন:

  • ড. তোমোও ওকুবো
  • ড. শিহো তানাকা (কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়)
  • ড. নাওনরি কুসাকাবে (রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়)

যেখানে তারা বাংলাদেশে আইসিটি-ভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ শিক্ষা ও কমিউনিটি সাপোর্ট মডেল নিয়ে আলোচনা করেন।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন:
ড. বি এম সাজ্জাদ হোসেন (এআইইউবি), রুহি দাস (বাস্তব), মিফতা নাঈম হুদা (সিডিপি), মো. সোহারাব আলী খান (টিএমএসএস) এবং তারিক সাঈদ হারুন (আরডিআরএস-বাংলাদেশ)।


অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব: পরিবেশই বেশি প্রভাব ফেলে
প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, অনেক সময় অপরাধীর ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের চেয়ে পরিবেশগত পরিস্থিতি অপরাধের সুযোগ তৈরি করে। তাই:

  • জনপরিসর বেশি ব্যবহৃত হয় এমনভাবে সাজানো
  • অদৃশ্য বা আড়াল থাকা জায়গা কমিয়ে আনা
  • খোলা, নিরাপদ ও দৃশ্যমান এলাকা নিশ্চিত করা

এসব নিশ্চিত করলে সুযোগসন্ধানী অপরাধ কমে যায়।


কমিউনিটির শক্তি ও সামাজিক যোগসূত্রের ভূমিকা
সেমিনারে জোর দেওয়া হয় কমিউনিটি শক্তিশালী করার ওপর। বলা হয়:

  • যৌথ দায়িত্ববোধ
  • সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি
  • স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ

এগুলো জননিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ততা, বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের টহল দল, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ, স্কুল রুট নিরাপদ করা এবং ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়—কারণ স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা কমে আসছে।


অপরাধ কারণ তত্ত্ব বনাম অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন:

  • অপরাধ কারণ তত্ত্ব অপরাধীর মানসিকতা বা উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে
  • অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব পরিবেশগত দুর্বলতার দিকে নজর দেয়

তাদের মতে, অনেক পার্ক, পথ, অব্যবহৃত স্থান, অযত্নে থাকা এলাকা সহজে প্রবেশযোগ্য এবং দৃষ্টির বাইরে থাকলে সেগুলো অপরাধের ‘হটস্পট’-এ পরিণত হয়।


আইসিটি-ভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ: সেমিনারের প্রধান আকর্ষণ
সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ।
এতে প্রদর্শন করা হয় মিইমাই অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও অনিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। অ্যাপটির সুবিধা:

  • রিয়েল-টাইম রিপোর্ট করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করা
  • হাঁটার সময় চারপাশ নজরদারিতে উৎসাহ দেওয়া

এই অ্যাপ কমিউনিটি সেফটি ম্যাপের একটি ডিজিটাল রূপ হিসেবেও কাজ করে।


সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবেশভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ একত্রে দেশের জননিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৃজনশীলতার সংকটে শিক্ষা: ভবিষ্যতের জন্য কি এখনও উপযোগী আমাদের স্কুল?

বাংলাদেশে জননিরাপত্তা জোরদারে ডিজিটাল ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগের তাগিদ

০৮:৪১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত কৌশলের আহ্বান
ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে জননিরাপত্তা জোরদার করতে প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পাশাপাশি কমিউনিটি-ভিত্তিক ও পরিবেশভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ কৌশলকে একসঙ্গে প্রয়োগ করা জরুরি। তারা মনে করেন, নজরদারি বাড়ানো, জনপরিসর পুনর্গঠন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


অপরাধ প্রতিরোধ শুরু হওয়া উচিত পরিবেশ-নির্ভর উদ্যোগ দিয়ে
স্পিকারদের মতে, জনপরিসর এমনভাবে ডিজাইন করা প্রয়োজন যাতে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কমে যায়। তারা বলেন:

  • নজরদারি বাড়ানো
  • এলাকা ভাগ করে দায়িত্ব নিশ্চিত করা
  • জনপরিসর খোলা, দৃশ্যমান ও নিরাপদ রাখা

এগুলো নিশ্চিত করলে অপরাধের সুযোগ কমে এবং মানুষ নিরাপদ অনুভব করে।


ডিজিটাল সরঞ্জাম ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিরাপদ পাড়া গঠনে নিয়মিত তদারকি, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল টুলের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
সেমিনারে বলা হয়, প্রযুক্তির সহায়তা জননিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে পারে।


সেমিনারের আয়োজন ও বক্তারা
সেমিনারের শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশে স্থিতিস্থাপক কমিউনিটি গঠন ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ উন্নয়ন”। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১–এ এটি অনুষ্ঠিত হয়।

মূল বক্তব্য প্রদান করেন:

  • ড. তোমোও ওকুবো
  • ড. শিহো তানাকা (কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়)
  • ড. নাওনরি কুসাকাবে (রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়)

যেখানে তারা বাংলাদেশে আইসিটি-ভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ শিক্ষা ও কমিউনিটি সাপোর্ট মডেল নিয়ে আলোচনা করেন।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন:
ড. বি এম সাজ্জাদ হোসেন (এআইইউবি), রুহি দাস (বাস্তব), মিফতা নাঈম হুদা (সিডিপি), মো. সোহারাব আলী খান (টিএমএসএস) এবং তারিক সাঈদ হারুন (আরডিআরএস-বাংলাদেশ)।


অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব: পরিবেশই বেশি প্রভাব ফেলে
প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, অনেক সময় অপরাধীর ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের চেয়ে পরিবেশগত পরিস্থিতি অপরাধের সুযোগ তৈরি করে। তাই:

  • জনপরিসর বেশি ব্যবহৃত হয় এমনভাবে সাজানো
  • অদৃশ্য বা আড়াল থাকা জায়গা কমিয়ে আনা
  • খোলা, নিরাপদ ও দৃশ্যমান এলাকা নিশ্চিত করা

এসব নিশ্চিত করলে সুযোগসন্ধানী অপরাধ কমে যায়।


কমিউনিটির শক্তি ও সামাজিক যোগসূত্রের ভূমিকা
সেমিনারে জোর দেওয়া হয় কমিউনিটি শক্তিশালী করার ওপর। বলা হয়:

  • যৌথ দায়িত্ববোধ
  • সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি
  • স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ

এগুলো জননিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ততা, বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের টহল দল, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ, স্কুল রুট নিরাপদ করা এবং ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়—কারণ স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা কমে আসছে।


অপরাধ কারণ তত্ত্ব বনাম অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন:

  • অপরাধ কারণ তত্ত্ব অপরাধীর মানসিকতা বা উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে
  • অপরাধের সুযোগ তত্ত্ব পরিবেশগত দুর্বলতার দিকে নজর দেয়

তাদের মতে, অনেক পার্ক, পথ, অব্যবহৃত স্থান, অযত্নে থাকা এলাকা সহজে প্রবেশযোগ্য এবং দৃষ্টির বাইরে থাকলে সেগুলো অপরাধের ‘হটস্পট’-এ পরিণত হয়।


আইসিটি-ভিত্তিক অপরাধ প্রতিরোধ: সেমিনারের প্রধান আকর্ষণ
সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ।
এতে প্রদর্শন করা হয় মিইমাই অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ও অনিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। অ্যাপটির সুবিধা:

  • রিয়েল-টাইম রিপোর্ট করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করা
  • হাঁটার সময় চারপাশ নজরদারিতে উৎসাহ দেওয়া

এই অ্যাপ কমিউনিটি সেফটি ম্যাপের একটি ডিজিটাল রূপ হিসেবেও কাজ করে।


সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরিবেশভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ একত্রে দেশের জননিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পারে।