১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

রাশিয়ার পুতিন ভারত সফরে মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করবেন: মোমের সাথে আলোচনা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠক করবেন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়া এবং ভারতের বাণিজ্য বাড়ানো, বিশেষ করে রাশিয়ার অস্ত্র এবং তেল আমদানির ক্ষেত্রে। এই বৈঠকটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

পুতিনের ভারত সফর: বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য

পুতিন ৪ বছর পর ভারত সফরে আসছেন। এই সফরের সময়, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষত ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা কমানোর জন্য।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ এবং বর্তমানে এটি ভারত থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে, ভারতীয় তেলের আমদানির কারণে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যটি রাশিয়ার পক্ষেই বেশি ছিল।

যেহেতু ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ান শক্তির ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমিয়েছে, ভারত তেলের জন্য রাশিয়া থেকে বেশি কাঁচামাল কেনার দিকে আগ্রহী হয়েছে।

ভারতের দ্বিধা: রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্র?

ভারত বর্তমানে একটি দ্বিধাবোধের মধ্যে রয়েছে। একদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, আবার অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে গেলে রাশিয়া থেকে সম্পর্ক কমানো সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন ভিত্তিক অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “ভারতকে একদিকে রাশিয়া এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।”

পুতিন-মোদির আলোচনা: নিরাপত্তা, তেল, পরমাণু শক্তি

এই বৈঠকে রাশিয়া এবং ভারত নিরাপত্তা, তেল, এবং পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনা করবে। উভয় পক্ষ নতুন চুক্তির ঘোষণা দিতে পারে, যা তাদের সম্পর্কের স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করবে।

গাঁথুনির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা

পুতিনের দিল্লি আগমনের পর, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বিমানবন্দরে রেড কার্পেটে পুতিনকে আলিঙ্গন ও করমর্দন করেন, এবং পরে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেন।

এই সফরের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক এবং সরকারি প্রতিনিধিদলও ছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলাউসভও ছিলেন, যিনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বেলাউসভ জানান, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা শিল্প ভারতকে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

পুতিন ভারতের সফরে আসার আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে ইউক্রেনে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন, তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।

ভারত রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য নিন্দা করতে অস্বীকার করেছে এবং শান্তি কায়েমের জন্য আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছে।


জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার পুতিন ভারত সফরে মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করবেন: মোমের সাথে আলোচনা

০৩:১৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠক করবেন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়া এবং ভারতের বাণিজ্য বাড়ানো, বিশেষ করে রাশিয়ার অস্ত্র এবং তেল আমদানির ক্ষেত্রে। এই বৈঠকটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

পুতিনের ভারত সফর: বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য

পুতিন ৪ বছর পর ভারত সফরে আসছেন। এই সফরের সময়, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষত ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা কমানোর জন্য।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ এবং বর্তমানে এটি ভারত থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে, ভারতীয় তেলের আমদানির কারণে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যটি রাশিয়ার পক্ষেই বেশি ছিল।

যেহেতু ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ান শক্তির ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমিয়েছে, ভারত তেলের জন্য রাশিয়া থেকে বেশি কাঁচামাল কেনার দিকে আগ্রহী হয়েছে।

ভারতের দ্বিধা: রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্র?

ভারত বর্তমানে একটি দ্বিধাবোধের মধ্যে রয়েছে। একদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, আবার অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে গেলে রাশিয়া থেকে সম্পর্ক কমানো সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন ভিত্তিক অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “ভারতকে একদিকে রাশিয়া এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।”

পুতিন-মোদির আলোচনা: নিরাপত্তা, তেল, পরমাণু শক্তি

এই বৈঠকে রাশিয়া এবং ভারত নিরাপত্তা, তেল, এবং পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনা করবে। উভয় পক্ষ নতুন চুক্তির ঘোষণা দিতে পারে, যা তাদের সম্পর্কের স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করবে।

গাঁথুনির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা

পুতিনের দিল্লি আগমনের পর, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বিমানবন্দরে রেড কার্পেটে পুতিনকে আলিঙ্গন ও করমর্দন করেন, এবং পরে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করেন।

এই সফরের সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক এবং সরকারি প্রতিনিধিদলও ছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলাউসভও ছিলেন, যিনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বেলাউসভ জানান, রাশিয়ান প্রতিরক্ষা শিল্প ভারতকে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

পুতিন ভারতের সফরে আসার আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূতদের সঙ্গে ইউক্রেনে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য একটি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন, তবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি।

ভারত রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য নিন্দা করতে অস্বীকার করেছে এবং শান্তি কায়েমের জন্য আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছে।