১১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬
গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা ইউটিউবে নতুন সুবিধা: ফ্রি ব্যবহারকারীরাও এবার ভিডিও দেখবেন ছোট ভাসমান পর্দায়

নাইজেরিয়ায় মুক্তি পেয়েছে অপহৃত ১০০ স্কুলশিক্ষার্থী

নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ গত মাসে ক্যাথলিক একটি স্কুল থেকে অপহৃত ১০০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে। জাতিসংঘের এক সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এখনও প্রায় ১৬৫ শিক্ষার্থী ও কর্মীর ভাগ্য অজানা।

অপহরণের পটভূমি
নভেম্বরের শেষ দিকে নাইজার অঙ্গরাজ্যে সেন্ট মেরিস কো-এডুকেশনাল বোর্ডিং স্কুল থেকে মোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীকে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র অপহরণকারীরা। এই ঘটনা দেশটিতে ২০১৪ সালের কুখ্যাত চিবক অপহরণের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।
ঘটনার পর প্রায় ৫০ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ফলে ধরে নেওয়া হয় ২৬৫ জন অপহরণকারীদের হাতে রয়ে গেছে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থা
জাতিসংঘের সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১০০ শিশুকে রাজধানী আবুজায় আনা হয়েছে। সোমবার তাদের নাইজার অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও তারা বলেনি উদ্ধার প্রক্রিয়া আলোচনার মাধ্যমে নাকি সামরিক অভিযানে হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য নেই।
কন্টাগোরা ডায়োসিসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি জানান, “আমরা তাদের ফেরার জন্য প্রার্থনা করছিলাম। যদি খবরটি সত্য হয়, তবে এটি অবশ্যই আনন্দের। তবে এখনো সরকার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংকট
নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অপহরণ আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে। পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র ‘দস্যু’ গোষ্ঠীগুলো হামলা, অপহরণ ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।

নভেম্বরজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় দুই ডজন মুসলিম স্কুলছাত্রী, ৩৮ জন গির্জার উপাসক, নববধূ ও তার সহচরী, কৃষক, নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অপহরণ করা হয়। সেন্ট মেরিসে কারা হামলা করেছে তা এখনো অজানা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন।
নাইজেরিয়ার সরকার ও বিশ্লেষকেরা এ বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ২৩ কোটির এই বহু ধর্মাবলম্বী দেশে কৃষক-গোত্র সংঘাত, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতাসহ নানা সংকট মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করছে।

অপহরণ—একটি লাভজনক শিল্পে রূপ
২০১৪ সালে চিবকের স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ মেয়ে অপহরণের পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নজর পড়ে। এক দশক পর অপহরণ এখন একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মুক্তিপণ বাবদ প্রায় ১.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আদায় হয়েছে।

সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরো বেপরোয়া করে তুলতে পারে। আবার অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নাইজেরিয়ায় অপহরণ ঢেউ আকারে বহুবার দেখা গেছে।
বর্নো অঙ্গরাজ্যের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ হামলার হুমকি দিলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো মানবঢাল হিসেবে অপহৃতদের ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন পর্যবেক্ষণ বিমানকে উত্তরাঞ্চলের জঙ্গি ঘাঁটির ওপর উড়তে দেখা গেছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।


জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

নাইজেরিয়ায় মুক্তি পেয়েছে অপহৃত ১০০ স্কুলশিক্ষার্থী

০১:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ গত মাসে ক্যাথলিক একটি স্কুল থেকে অপহৃত ১০০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে। জাতিসংঘের এক সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এখনও প্রায় ১৬৫ শিক্ষার্থী ও কর্মীর ভাগ্য অজানা।

অপহরণের পটভূমি
নভেম্বরের শেষ দিকে নাইজার অঙ্গরাজ্যে সেন্ট মেরিস কো-এডুকেশনাল বোর্ডিং স্কুল থেকে মোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ও কর্মীকে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র অপহরণকারীরা। এই ঘটনা দেশটিতে ২০১৪ সালের কুখ্যাত চিবক অপহরণের দুঃসহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।
ঘটনার পর প্রায় ৫০ জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। ফলে ধরে নেওয়া হয় ২৬৫ জন অপহরণকারীদের হাতে রয়ে গেছে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থা
জাতিসংঘের সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১০০ শিশুকে রাজধানী আবুজায় আনা হয়েছে। সোমবার তাদের নাইজার অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও তারা বলেনি উদ্ধার প্রক্রিয়া আলোচনার মাধ্যমে নাকি সামরিক অভিযানে হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য নেই।
কন্টাগোরা ডায়োসিসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি জানান, “আমরা তাদের ফেরার জন্য প্রার্থনা করছিলাম। যদি খবরটি সত্য হয়, তবে এটি অবশ্যই আনন্দের। তবে এখনো সরকার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা সংকট
নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অপহরণ আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে। পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র ‘দস্যু’ গোষ্ঠীগুলো হামলা, অপহরণ ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে।

নভেম্বরজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় দুই ডজন মুসলিম স্কুলছাত্রী, ৩৮ জন গির্জার উপাসক, নববধূ ও তার সহচরী, কৃষক, নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অপহরণ করা হয়। সেন্ট মেরিসে কারা হামলা করেছে তা এখনো অজানা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন।
নাইজেরিয়ার সরকার ও বিশ্লেষকেরা এ বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ২৩ কোটির এই বহু ধর্মাবলম্বী দেশে কৃষক-গোত্র সংঘাত, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতাসহ নানা সংকট মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করছে।

অপহরণ—একটি লাভজনক শিল্পে রূপ
২০১৪ সালে চিবকের স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ মেয়ে অপহরণের পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নজর পড়ে। এক দশক পর অপহরণ এখন একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে।
এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মুক্তিপণ বাবদ প্রায় ১.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আদায় হয়েছে।

সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা
কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরো বেপরোয়া করে তুলতে পারে। আবার অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নাইজেরিয়ায় অপহরণ ঢেউ আকারে বহুবার দেখা গেছে।
বর্নো অঙ্গরাজ্যের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ হামলার হুমকি দিলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো মানবঢাল হিসেবে অপহৃতদের ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন পর্যবেক্ষণ বিমানকে উত্তরাঞ্চলের জঙ্গি ঘাঁটির ওপর উড়তে দেখা গেছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।