১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা ইরানের অস্থিরতায় বেইজিংয়ের সামনে কঠিন সমীকরণ চীন সফরের আগমুহূর্তে ধাক্কা, কানাডা থেকে আমদানি কমিয়ে দিল বেইজিং সাকস গ্লোবালের দেউলিয়া আবেদন, ঋণের ভারে নেমে এল মার্কিন বিলাসবহুল ফ্যাশনের বড় ধস জাপানের ইয়েন দেড় বছরের সর্বনিম্নে, নির্বাচনী জল্পনায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সুদের হার কমার ইঙ্গিত, মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশে নামার পথে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীল মুদ্রায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের অংশীদারত্ব নিম্ন কার্বন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ইঙ্গিত বিএপির ইরান ঘিরে সরবরাহ শঙ্কায় টানা পঞ্চম দিনে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম রায় বহাল, কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না মঞ্জুরুল

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যার পর অবৈধ খনি–বন উচ্ছেদে কড়াকড়ি

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সাম্প্রতিক বন্যা–ভূমিধসে ৮১২ জনের মৃত্যু ও ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় সরকার অবৈধ খনি ও বন উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিন প্রদেশ—আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় খনিজ ও বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহু অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

জনরোষের মধ্যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জাকার্তাভিত্তিক বহু খনি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত পুরো দেশে ১,৬১৭টি অবৈধ খননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৮টি ছিল এই তিন প্রদেশে।

একই সঙ্গে বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭.৫ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ২০টি উৎপাদন বন অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। আরও অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়োর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, উজান এলাকার বন ধ্বংস, নদী অববাহিকার কাঠামো বদল ও নিয়ন্ত্রণহীন কাঠ কাটাই বন্যার ভয়াবহতা বাড়িয়েছে।

দালান ভেঙে ফেলা বন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ

পরিবেশবিদেরা বলছেন, উজানে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, ভূমিধস বেড়েছে এবং উপনদীগুলো আটকে যাওয়ায় বিপর্যয় তীব্র হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলোর তীরজুড়ে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাওয়া গেছে, যা ভূমিধস নয়—মানুষের কার্যকলাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে বন ধ্বংসের কারণে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসও বিপন্ন।

তদন্ত, তলব ও জরুরি তহবিল

উত্তর সুমাত্রার ১২টি কোম্পানির পরিবেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রধানদের আগামী সপ্তাহে তলব করা হবে।

সরকার এখনো মোট ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেনি; তবে তিন প্রদেশ মিলে দেশীয় অর্থনীতির ৭.৫% উৎপাদন করে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫.৫%–এর ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। ৫০০ বিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, প্রয়োজন হলে আরও তহবিল ছাড় করা হবে।

টেকসই পরিবেশ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগে সহনশীলতা বাড়াতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলো এখনো স্থলপথে সহায়তা পাচ্ছে না, সেনাবাহিনী আকাশপথে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যার পর অবৈধ খনি–বন উচ্ছেদে কড়াকড়ি

০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সাম্প্রতিক বন্যা–ভূমিধসে ৮১২ জনের মৃত্যু ও ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় সরকার অবৈধ খনি ও বন উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিন প্রদেশ—আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় খনিজ ও বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহু অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

জনরোষের মধ্যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জাকার্তাভিত্তিক বহু খনি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত পুরো দেশে ১,৬১৭টি অবৈধ খননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৮টি ছিল এই তিন প্রদেশে।

একই সঙ্গে বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭.৫ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ২০টি উৎপাদন বন অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। আরও অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়োর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, উজান এলাকার বন ধ্বংস, নদী অববাহিকার কাঠামো বদল ও নিয়ন্ত্রণহীন কাঠ কাটাই বন্যার ভয়াবহতা বাড়িয়েছে।

দালান ভেঙে ফেলা বন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ

পরিবেশবিদেরা বলছেন, উজানে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, ভূমিধস বেড়েছে এবং উপনদীগুলো আটকে যাওয়ায় বিপর্যয় তীব্র হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলোর তীরজুড়ে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাওয়া গেছে, যা ভূমিধস নয়—মানুষের কার্যকলাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে বন ধ্বংসের কারণে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসও বিপন্ন।

তদন্ত, তলব ও জরুরি তহবিল

উত্তর সুমাত্রার ১২টি কোম্পানির পরিবেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রধানদের আগামী সপ্তাহে তলব করা হবে।

সরকার এখনো মোট ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেনি; তবে তিন প্রদেশ মিলে দেশীয় অর্থনীতির ৭.৫% উৎপাদন করে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫.৫%–এর ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। ৫০০ বিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, প্রয়োজন হলে আরও তহবিল ছাড় করা হবে।

টেকসই পরিবেশ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগে সহনশীলতা বাড়াতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলো এখনো স্থলপথে সহায়তা পাচ্ছে না, সেনাবাহিনী আকাশপথে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।