০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যার পর অবৈধ খনি–বন উচ্ছেদে কড়াকড়ি

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সাম্প্রতিক বন্যা–ভূমিধসে ৮১২ জনের মৃত্যু ও ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় সরকার অবৈধ খনি ও বন উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিন প্রদেশ—আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় খনিজ ও বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহু অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

জনরোষের মধ্যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জাকার্তাভিত্তিক বহু খনি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত পুরো দেশে ১,৬১৭টি অবৈধ খননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৮টি ছিল এই তিন প্রদেশে।

একই সঙ্গে বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭.৫ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ২০টি উৎপাদন বন অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। আরও অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়োর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, উজান এলাকার বন ধ্বংস, নদী অববাহিকার কাঠামো বদল ও নিয়ন্ত্রণহীন কাঠ কাটাই বন্যার ভয়াবহতা বাড়িয়েছে।

দালান ভেঙে ফেলা বন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ

পরিবেশবিদেরা বলছেন, উজানে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, ভূমিধস বেড়েছে এবং উপনদীগুলো আটকে যাওয়ায় বিপর্যয় তীব্র হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলোর তীরজুড়ে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাওয়া গেছে, যা ভূমিধস নয়—মানুষের কার্যকলাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে বন ধ্বংসের কারণে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসও বিপন্ন।

তদন্ত, তলব ও জরুরি তহবিল

উত্তর সুমাত্রার ১২টি কোম্পানির পরিবেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রধানদের আগামী সপ্তাহে তলব করা হবে।

সরকার এখনো মোট ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেনি; তবে তিন প্রদেশ মিলে দেশীয় অর্থনীতির ৭.৫% উৎপাদন করে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫.৫%–এর ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। ৫০০ বিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, প্রয়োজন হলে আরও তহবিল ছাড় করা হবে।

টেকসই পরিবেশ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগে সহনশীলতা বাড়াতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলো এখনো স্থলপথে সহায়তা পাচ্ছে না, সেনাবাহিনী আকাশপথে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যার পর অবৈধ খনি–বন উচ্ছেদে কড়াকড়ি

০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সাম্প্রতিক বন্যা–ভূমিধসে ৮১২ জনের মৃত্যু ও ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ায় সরকার অবৈধ খনি ও বন উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিন প্রদেশ—আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় খনিজ ও বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহু অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

জনরোষের মধ্যে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জাকার্তাভিত্তিক বহু খনি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত পুরো দেশে ১,৬১৭টি অবৈধ খননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৮টি ছিল এই তিন প্রদেশে।

একই সঙ্গে বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭.৫ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ২০টি উৎপাদন বন অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে। আরও অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়োর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে, উজান এলাকার বন ধ্বংস, নদী অববাহিকার কাঠামো বদল ও নিয়ন্ত্রণহীন কাঠ কাটাই বন্যার ভয়াবহতা বাড়িয়েছে।

দালান ভেঙে ফেলা বন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ

পরিবেশবিদেরা বলছেন, উজানে গাছপালা কেটে ফেলার কারণে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, ভূমিধস বেড়েছে এবং উপনদীগুলো আটকে যাওয়ায় বিপর্যয় তীব্র হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদীগুলোর তীরজুড়ে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাওয়া গেছে, যা ভূমিধস নয়—মানুষের কার্যকলাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রিনপিস জানিয়েছে, উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে বন ধ্বংসের কারণে টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসও বিপন্ন।

তদন্ত, তলব ও জরুরি তহবিল

উত্তর সুমাত্রার ১২টি কোম্পানির পরিবেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি প্রধানদের আগামী সপ্তাহে তলব করা হবে।

সরকার এখনো মোট ক্ষতি নির্ধারণ করতে পারেনি; তবে তিন প্রদেশ মিলে দেশীয় অর্থনীতির ৭.৫% উৎপাদন করে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫.৫%–এর ওপরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। ৫০০ বিলিয়ন রুপিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, প্রয়োজন হলে আরও তহবিল ছাড় করা হবে।

টেকসই পরিবেশ রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা হবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগে সহনশীলতা বাড়াতে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলো এখনো স্থলপথে সহায়তা পাচ্ছে না, সেনাবাহিনী আকাশপথে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।