০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২

মিতসুইয়ের অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এলএনজি প্রকল্প চালু, উৎপাদন বাড়বে ১০%

পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো নতুন এলএনজি প্রকল্প চালু করছে জাপানের ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েটসিয়া গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন শুরু হলে জাপানের জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ আরও নিশ্চিত হবে।


অস্ট্রেলিয়ায় মিতসুইয়ের নতুন যাত্রা

জাপানি ট্রেডিং হাউস মিতসুই অ্যান্ড কো এ মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েটসিয়া এলএনজি প্রকল্পে উৎপাদন শুরু করছে। এটি তাদের এলএনজি সম্পদ তালিকায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন প্রকল্প। কোম্পানি বছরে প্রায় ৭ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা গ্যাসক্ষেত্রে তাদের ৫০ শতাংশ মালিকানা অনুযায়ী হিসাব করা।

উৎপাদন বাড়ছে, বৈশ্বিক সক্ষমতায় ১০% বৃদ্ধি

ওয়েটসিয়া পুরোপুরি সচল হলে অস্ট্রেলিয়া থেকে মিতসুইয়ের বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে ১৯ লাখ টনে। এতে দেশটির এলএনজি উৎপাদনে মিতসুইয়ের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মতোই শক্তিশালী হবে, যেখানে তারা বছরে ২০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন করে।
নতুন প্রকল্প যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক হিসেবে মিতসুইয়ের এলএনজি উৎপাদন প্রায় ১০% বেড়ে পৌঁছাবে ৬.৭ মিলিয়ন টনে।

কোভিডে বিলম্ব, শেষমেশ আগানো প্রকল্প

২০২০ সালে মিতসুই ও অস্ট্রেলিয়ার বিচ এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে (৫০-৫০) ওয়েটসিয়া প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও কোভিড–১৯ মহামারি নির্মাণে বিলম্ব ঘটায়।

জাপানের জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ

অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি পরিবহন সহজ হওয়ায় জাপান দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সরবরাহ পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এলএনজির মতো হরমুজ প্রণালী পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেই। মাত্র ১০ দিনে পণ্য পৌঁছানো যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের গালফ অব মেক্সিকো থেকে আসার সময়ের অর্ধেক।
২০২৪ অর্থবছরে জাপানের মোট এলএনজি আমদানির ৪০ শতাংশই এসেছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সময়ে অস্ট্রেলিয়ান এলএনজির গুরুত্ব আরও বাড়ছে।

অপারেটর হিসেবে মিতসুইয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা

ওয়েটসিয়া প্রকল্পে মিতসুই প্রথমবার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে—উন্নয়ন পরিকল্পনা করা, নির্মাণ তদারকি এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনাও তাদের নেতৃত্বে হবে। এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে কোম্পানি ভবিষ্যতের এলএনজি বিনিয়োগে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে চায়।

উত্তর–পশ্চিম উপকূলে সংযোগ

অস্ট্রেলিয়ার নর্থ ওয়েস্ট শেলফে (এনডব্লিউএস) মিতসুইয়ের ১২ লাখ টনের এলএনজি স্বার্থ রয়েছে। ওয়েটসিয়ার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে এনডব্লিউএস সুবিধায় গিয়ে প্রক্রিয়াজাত হবে এবং সেখান থেকেই রপ্তানি হবে। এনডব্লিউএসে গ্যাস মজুদ কমে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সক্ষমতা ওয়েটসিয়াকে সহায়তা দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত

মিতসুইয়ের অস্ট্রেলিয়ায় নতুন এলএনজি প্রকল্প চালু, উৎপাদন বাড়বে ১০%

০৭:৫৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো নতুন এলএনজি প্রকল্প চালু করছে জাপানের ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েটসিয়া গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন শুরু হলে জাপানের জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ আরও নিশ্চিত হবে।


অস্ট্রেলিয়ায় মিতসুইয়ের নতুন যাত্রা

জাপানি ট্রেডিং হাউস মিতসুই অ্যান্ড কো এ মাসেই অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েটসিয়া এলএনজি প্রকল্পে উৎপাদন শুরু করছে। এটি তাদের এলএনজি সম্পদ তালিকায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন প্রকল্প। কোম্পানি বছরে প্রায় ৭ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা গ্যাসক্ষেত্রে তাদের ৫০ শতাংশ মালিকানা অনুযায়ী হিসাব করা।

উৎপাদন বাড়ছে, বৈশ্বিক সক্ষমতায় ১০% বৃদ্ধি

ওয়েটসিয়া পুরোপুরি সচল হলে অস্ট্রেলিয়া থেকে মিতসুইয়ের বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে ১৯ লাখ টনে। এতে দেশটির এলএনজি উৎপাদনে মিতসুইয়ের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের মতোই শক্তিশালী হবে, যেখানে তারা বছরে ২০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন করে।
নতুন প্রকল্প যুক্ত হওয়ায় বৈশ্বিক হিসেবে মিতসুইয়ের এলএনজি উৎপাদন প্রায় ১০% বেড়ে পৌঁছাবে ৬.৭ মিলিয়ন টনে।

কোভিডে বিলম্ব, শেষমেশ আগানো প্রকল্প

২০২০ সালে মিতসুই ও অস্ট্রেলিয়ার বিচ এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে (৫০-৫০) ওয়েটসিয়া প্রকল্প ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও কোভিড–১৯ মহামারি নির্মাণে বিলম্ব ঘটায়।

জাপানের জন্য স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ

অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি পরিবহন সহজ হওয়ায় জাপান দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সরবরাহ পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের এলএনজির মতো হরমুজ প্রণালী পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেই। মাত্র ১০ দিনে পণ্য পৌঁছানো যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের গালফ অব মেক্সিকো থেকে আসার সময়ের অর্ধেক।
২০২৪ অর্থবছরে জাপানের মোট এলএনজি আমদানির ৪০ শতাংশই এসেছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সময়ে অস্ট্রেলিয়ান এলএনজির গুরুত্ব আরও বাড়ছে।

অপারেটর হিসেবে মিতসুইয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা

ওয়েটসিয়া প্রকল্পে মিতসুই প্রথমবার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে—উন্নয়ন পরিকল্পনা করা, নির্মাণ তদারকি এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনাও তাদের নেতৃত্বে হবে। এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে কোম্পানি ভবিষ্যতের এলএনজি বিনিয়োগে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে চায়।

উত্তর–পশ্চিম উপকূলে সংযোগ

অস্ট্রেলিয়ার নর্থ ওয়েস্ট শেলফে (এনডব্লিউএস) মিতসুইয়ের ১২ লাখ টনের এলএনজি স্বার্থ রয়েছে। ওয়েটসিয়ার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে এনডব্লিউএস সুবিধায় গিয়ে প্রক্রিয়াজাত হবে এবং সেখান থেকেই রপ্তানি হবে। এনডব্লিউএসে গ্যাস মজুদ কমে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত সক্ষমতা ওয়েটসিয়াকে সহায়তা দেবে।