গভীর রাতে উত্তর-পূর্ব জাপানে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর উপকূলজুড়ে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত সুনামি আছড়ে পড়ে। আগামী কয়েক দিনে আরও বড় কম্পনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তর-পূর্ব জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প
১১ই ডিসেম্বর রাত ১১টা ১৫ মিনিটে আমোরি প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূল থেকে অল্প দূরে, ৫৪ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। শুরুতে রেকর্ড ৭.৬ মাত্রা বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭.৫ নিশ্চিত করে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। কম্পনের উৎস ছিল হোক্কাইডো ও উত্তর-পূর্ব জাপানের উপকূলীয় ট্রেঞ্চ অঞ্চল, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় টেকটোনিক প্লেট হন্সু দ্বীপের নিচে ঢুকে যাওয়ার ফলে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটতে পারে।
সুনামি সতর্কতা ও উপকূলের পরিস্থিতি
ভূমিকম্পের পর সর্বোচ্চ ৩ মিটার উঁচু সুনামির আশঙ্কা করা হলেও সবচেয়ে বড় ঢেউ ইওয়াতে অঞ্চলে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় আঘাত হানে। আঘাতের সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা কমিয়ে পরামর্শে নামিয়ে আনা হয় এবং মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সতর্কতা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্প আমোরির কিছু অঞ্চলে জাপানের ভূকম্পন তীব্রতার স্কেলে ‘আপার ৬’ মাত্রায় অনুভূত হয়—যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জরুরি সতর্কতা: আরও বড় কম্পনের আশঙ্কা
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ৭.০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে হোক্কাইডো–সানরিকু ট্রেঞ্চ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। এই সতর্কতার আওতায় আগামী সাত দিনের মধ্যে ৮ মাত্রার মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে এক শতাংশ হিসেবে ধরা হয়। তবে এমন সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও সরাসরি গণ উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয় না; বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়।
সরকারের নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। আগামী এক সপ্তাহ আসবাবপত্র নিরাপদে বেঁধে রাখা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বজায় রাখলেও কম্পন অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি।

আহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র
এ পর্যন্ত আমোরি ও হোক্কাইডো অঞ্চলের অন্তত ৩০ জনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়, যেখানে বহু মানুষ রাতযাপন করেন সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত।
#tags: JapanEarthquake, NaturalDisaster, TsunamiAlert, SarakhonReport
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















