১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২

কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের পরিবারে ফেরানোর উদ্যোগ নিন: সিপিজের আহ্বান কার্যনির্বাহী প্রধান ইউনূসকে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আটক থাকা সাংবাদিকদের মুক্ত করে পরিবারে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে কার্যনির্বাহী প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটি বলছে, অতীতের অপব্যবহার বন্ধ করে প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

সাংবাদিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সিপিজের উদ্বেগ

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা স্বাধীন সংগঠন সিপিজে কার্যনির্বাহী প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তারা বলেছেন, মানবাধিকার দিবসে অর্থবহ পদক্ষেপ নিলে তা বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

চিঠি পাঠান সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক বহ লি ই। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকেও একই চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার দিবসের আগেই সিপিজে এই চিঠি প্রকাশ করে।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের নিশ্চয়তা দাবি

সিপিজে জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের উচিত সাংবাদিকদের নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারকে সম্মান জানানো। তারা জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে আটক সাংবাদিকদের পরিস্থিতির দিকে ইউনূসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে চার সাংবাদিক আটক রয়েছেন। সিপিজের দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং অভিযোগগুলো মূলত তাদের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

কাশিমপুর কারাগারের উদ্বেগজনক অবস্থা

আটক সাংবাদিকদের পরিবার জানিয়েছে, কাশিমপুর কারাগারের পরিস্থিতি মানবাধিকার মানদণ্ডের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা ৩৬ বর্গফুটের ছোট সেলে থাকছেন, লোহার গ্রিলের দরজার কারণে ঠান্ডা ও মশার আক্রমণে ভুগছেন। কারাগারের খাবার অপ্রতুল ও নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে। কংক্রিটের মেঝেতে বিছানা ছাড়া ঘুমাতে হয়। চিকিৎসাসেবা প্রায় নেই বললেই চলে—কারাগারে স্থায়ী চিকিৎসক নেই, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা যায় না, ঔষধও পরিবার সরবরাহ না করলে মেলে না।

যাদের ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তারা মাসের পর মাস চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

নতুন মামলার অভিযোগে উদ্বেগ

চিঠিতে সিপিজে উল্লেখ করে যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস স্বীকার করেছিলেন যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছিল এবং তার সরকার এসব প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে। তবে সিপিজে বলছে, গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরও আটক চার সাংবাদিক—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত—সবার বিরুদ্ধেই নতুন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় তারা বারবার জামিন পাচ্ছেন না, বরং তাদের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত

সিপিজে চিঠিতে মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ—উভয় ক্ষেত্রেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। বিচার বিভাগও বহুবার গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকাকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহির জন্য অপরিহার্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশ্ব সাংবাদিক সমাজের সংহতি

সিপিজে জানায়, বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের দেড় হাজারের বেশি সাংবাদিক মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন—যাতে বিশ্বের সব সরকার সাংবাদিকদের মুক্তি দেয় এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বিচারহীনতা বন্ধ করে।

চিঠির শেষ অংশে সিপিজে জানায়, কার্যনির্বাহী প্রধানের ব্যক্তিগত মনোযোগ বাংলাদেশের মানবিক শাসন, ন্যায়বিচার এবং উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ গঠনের প্রতি একটি শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত

কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের পরিবারে ফেরানোর উদ্যোগ নিন: সিপিজের আহ্বান কার্যনির্বাহী প্রধান ইউনূসকে

১১:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আটক থাকা সাংবাদিকদের মুক্ত করে পরিবারে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে কার্যনির্বাহী প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটি বলছে, অতীতের অপব্যবহার বন্ধ করে প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

সাংবাদিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সিপিজের উদ্বেগ

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা স্বাধীন সংগঠন সিপিজে কার্যনির্বাহী প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তারা বলেছেন, মানবাধিকার দিবসে অর্থবহ পদক্ষেপ নিলে তা বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

চিঠি পাঠান সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক বহ লি ই। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকেও একই চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার দিবসের আগেই সিপিজে এই চিঠি প্রকাশ করে।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের নিশ্চয়তা দাবি

সিপিজে জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের উচিত সাংবাদিকদের নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারকে সম্মান জানানো। তারা জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে আটক সাংবাদিকদের পরিস্থিতির দিকে ইউনূসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে চার সাংবাদিক আটক রয়েছেন। সিপিজের দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং অভিযোগগুলো মূলত তাদের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।

কাশিমপুর কারাগারের উদ্বেগজনক অবস্থা

আটক সাংবাদিকদের পরিবার জানিয়েছে, কাশিমপুর কারাগারের পরিস্থিতি মানবাধিকার মানদণ্ডের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা ৩৬ বর্গফুটের ছোট সেলে থাকছেন, লোহার গ্রিলের দরজার কারণে ঠান্ডা ও মশার আক্রমণে ভুগছেন। কারাগারের খাবার অপ্রতুল ও নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থায় থাকে। কংক্রিটের মেঝেতে বিছানা ছাড়া ঘুমাতে হয়। চিকিৎসাসেবা প্রায় নেই বললেই চলে—কারাগারে স্থায়ী চিকিৎসক নেই, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা যায় না, ঔষধও পরিবার সরবরাহ না করলে মেলে না।

যাদের ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তারা মাসের পর মাস চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

নতুন মামলার অভিযোগে উদ্বেগ

চিঠিতে সিপিজে উল্লেখ করে যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস স্বীকার করেছিলেন যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছিল এবং তার সরকার এসব প্রক্রিয়া বন্ধ করেছে। তবে সিপিজে বলছে, গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরও আটক চার সাংবাদিক—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত—সবার বিরুদ্ধেই নতুন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় তারা বারবার জামিন পাচ্ছেন না, বরং তাদের আইনজীবী জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত

সিপিজে চিঠিতে মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ—উভয় ক্ষেত্রেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। বিচার বিভাগও বহুবার গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকাকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহির জন্য অপরিহার্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশ্ব সাংবাদিক সমাজের সংহতি

সিপিজে জানায়, বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের দেড় হাজারের বেশি সাংবাদিক মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্সে এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন—যাতে বিশ্বের সব সরকার সাংবাদিকদের মুক্তি দেয় এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বিচারহীনতা বন্ধ করে।

চিঠির শেষ অংশে সিপিজে জানায়, কার্যনির্বাহী প্রধানের ব্যক্তিগত মনোযোগ বাংলাদেশের মানবিক শাসন, ন্যায়বিচার এবং উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ গঠনের প্রতি একটি শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হবে।