১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক

বাগরাম নিয়ে তালেবানের বড় স্বপ্ন, বাস্তবে ফাঁকা ঘাঁটি

দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের স্নায়ুকেন্দ্র ছিল বাগরাম বিমানঘাঁটি। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এই ঘাঁটি ঘিরে বড় পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবে সেটি পড়ে আছে প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাগরামে সামরিক তৎপরতা সীমিত, অর্থনৈতিক ব্যবহারের পরিকল্পনা কার্যত বাতিল।

বাগরাম: শক্তির প্রতীক থেকে নীরব ঘাঁটি
২০০১ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে বাগরাম ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগান সেনাবাহিনীর ভাঙন ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একের পর এক সামরিক ঘাঁটি তালেবানের হাতে আসে।

ট্রাম্পের দাবি, তালেবানের জবাব
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাওয়ার দাবি তোলেন। তিনি এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় বিমানঘাঁটি বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থানের কথাও বলেন। তালেবান দ্রুত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এর আগেই ঘাঁটির নিরাপত্তায় সৈন্য ও গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রচার বনাম বাস্তবতা
তালেবান শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিল, সাবেক মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিজেদের সেনাদের জন্য কেন্দ্র এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে কুচকাওয়াজ, সামরিক মহড়া ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণের দৃশ্য। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবি, উন্মুক্ত তথ্য ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবহার খুবই সীমিত।

Trump wants Bagram back. Satellite images show how the Taliban are using  it. - Washington Post

স্যাটেলাইটে ধরা পড়া চিত্র
২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তোলা বহু স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, বাগরামের রানওয়েতে আর যুদ্ধবিমান নেই। কিছু জায়গায় কেবল রঙ দিয়ে আঁকা বিমানের অবয়ব দেখা যায়, যা আকাশ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। বাস্তব ও উচ্চমূল্যের বিমান ও অস্ত্রের সংখ্যা খুবই কম। বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান যে সরঞ্জাম পেয়েছে, তার বড় অংশই অচল।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কেন ভেস্তে গেল
বাগরামকে বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা তালেবান সরকার নিজেই বাতিল করেছে। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামরিক স্থাপনাকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বদলাতে গেলে ব্যাপক ভাঙচুর ও পুনর্গঠন প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল এবং সামরিক সক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর। এটি আফগানিস্তানের সাহায্যনির্ভর অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করার সংগ্রামেরই প্রতিফলন।

পরিত্যক্ত অস্ত্র ও কালোবাজার
মার্কিন বাহিনী আফগান সেনাবাহিনীর জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রেখে যায়। এসবের একটি অংশ এখন প্রতিবেশী পাকিস্তানে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সেগুলো বিদ্রোহীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তালেবান বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বিমান, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান জড়ো করে যন্ত্রাংশ খুলে ব্যবহারযোগ্য অংশ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কাবুল-কান্দাহার বিভাজন
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ও কট্টরপন্থীরা থাকেন কান্দাহারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আকাশসম্পদ মূলত কাবুলেই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে কান্দাহারে বিমান তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে। বিপরীতে কাবুল বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নতুন পাহারা টাওয়ার নির্মাণও হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনবল ঘাটতির কারণেই তালেবান সব ঘাঁটি সক্রিয় রাখতে পারছে না।

মূল বার্তা
বাগরাম আজ আর বৈশ্বিক শক্তির প্রতীক নয়। তালেবানের উচ্চাশা থাকলেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কারিগরি ঘাটতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিশাল ঘাঁটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ

বাগরাম নিয়ে তালেবানের বড় স্বপ্ন, বাস্তবে ফাঁকা ঘাঁটি

০৬:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের স্নায়ুকেন্দ্র ছিল বাগরাম বিমানঘাঁটি। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এই ঘাঁটি ঘিরে বড় পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবে সেটি পড়ে আছে প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাগরামে সামরিক তৎপরতা সীমিত, অর্থনৈতিক ব্যবহারের পরিকল্পনা কার্যত বাতিল।

বাগরাম: শক্তির প্রতীক থেকে নীরব ঘাঁটি
২০০১ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে বাগরাম ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগান সেনাবাহিনীর ভাঙন ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তালেবান দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একের পর এক সামরিক ঘাঁটি তালেবানের হাতে আসে।

ট্রাম্পের দাবি, তালেবানের জবাব
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাওয়ার দাবি তোলেন। তিনি এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় বিমানঘাঁটি বলে উল্লেখ করেন এবং চীনের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থানের কথাও বলেন। তালেবান দ্রুত সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এর আগেই ঘাঁটির নিরাপত্তায় সৈন্য ও গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রচার বনাম বাস্তবতা
তালেবান শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিল, সাবেক মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিজেদের সেনাদের জন্য কেন্দ্র এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তর করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা গেছে কুচকাওয়াজ, সামরিক মহড়া ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণের দৃশ্য। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবি, উন্মুক্ত তথ্য ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবহার খুবই সীমিত।

Trump wants Bagram back. Satellite images show how the Taliban are using  it. - Washington Post

স্যাটেলাইটে ধরা পড়া চিত্র
২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তোলা বহু স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, বাগরামের রানওয়েতে আর যুদ্ধবিমান নেই। কিছু জায়গায় কেবল রঙ দিয়ে আঁকা বিমানের অবয়ব দেখা যায়, যা আকাশ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। বাস্তব ও উচ্চমূল্যের বিমান ও অস্ত্রের সংখ্যা খুবই কম। বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান যে সরঞ্জাম পেয়েছে, তার বড় অংশই অচল।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কেন ভেস্তে গেল
বাগরামকে বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা তালেবান সরকার নিজেই বাতিল করেছে। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামরিক স্থাপনাকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বদলাতে গেলে ব্যাপক ভাঙচুর ও পুনর্গঠন প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল এবং সামরিক সক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর। এটি আফগানিস্তানের সাহায্যনির্ভর অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করার সংগ্রামেরই প্রতিফলন।

পরিত্যক্ত অস্ত্র ও কালোবাজার
মার্কিন বাহিনী আফগান সেনাবাহিনীর জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রেখে যায়। এসবের একটি অংশ এখন প্রতিবেশী পাকিস্তানে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সেগুলো বিদ্রোহীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তালেবান বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বিমান, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান জড়ো করে যন্ত্রাংশ খুলে ব্যবহারযোগ্য অংশ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কাবুল-কান্দাহার বিভাজন
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ও কট্টরপন্থীরা থাকেন কান্দাহারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আকাশসম্পদ মূলত কাবুলেই রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে কান্দাহারে বিমান তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে। বিপরীতে কাবুল বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নতুন পাহারা টাওয়ার নির্মাণও হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনবল ঘাটতির কারণেই তালেবান সব ঘাঁটি সক্রিয় রাখতে পারছে না।

মূল বার্তা
বাগরাম আজ আর বৈশ্বিক শক্তির প্রতীক নয়। তালেবানের উচ্চাশা থাকলেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কারিগরি ঘাটতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিশাল ঘাঁটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।