১০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা শি–চেং বৈঠকে নতুন সমীকরণ, তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত

বিশ্বে মিথেন নিঃসরণ রেকর্ড উচ্চতায়—জলবায়ু লক্ষ্য নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

জ্বালানি ও কৃষিই প্রধান উৎস
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী মিথেন নিঃসরণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত মিথেন কমানো অত্যন্ত জরুরি। মিথেন স্বল্পমেয়াদে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি তাপ আটকে রাখে, ফলে এর নিঃসরণ কমালে দ্রুত জলবায়ু সুফল পাওয়া সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি খাত, কৃষি, ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকেই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে। তেল ও গ্যাস অবকাঠামো থেকে লিক হওয়া মিথেন বড় অবদান রাখছে, বিশেষ করে যেখানে নজরদারি দুর্বল। একই সঙ্গে খাদ্য চাহিদা বাড়ায় পশুপালন-নির্ভর কৃষি থেকেও নিঃসরণ বাড়ছে।
গবেষকদের মতে, মিথেন কমানো জলবায়ু পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়-সাশ্রয়ী, কিন্তু দেশভেদে অগ্রগতি অসম।
এখন কেন মিথেন গুরুত্বপূর্ণ
২০ বছরের হিসাবে মিথেন CO₂-এর তুলনায় অনেক বেশি তাপ ধরে রাখে। তাই এটি নিকট ভবিষ্যতের উষ্ণতা, চরম আবহাওয়া, ও বরফ গলার বড় চালক। বিজ্ঞানীদের যুক্তি—দীর্ঘমেয়াদি কার্বন হ্রাসের পাশাপাশি মিথেন কমালে দ্রুত গতি পাওয়া যাবে।
নতুন তথ্য বলছে, বর্তমান নীতিগুলো যথেষ্ট নয়। স্বেচ্ছামূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে সমান হারে কার্যকর হয়নি, আর প্রয়োগ দুর্বল। উন্নত পরিমাপ ও স্যাটেলাইট নজরদারি আগের অদৃশ্য লিকগুলো সামনে আনছে, যা চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
কিছু অগ্রগতি আছে। আধুনিক প্রযুক্তি নিঃসরণ শনাক্ত সহজ করেছে। তবে শনাক্ত হলেই সমাধান হয় না—সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব প্রয়োগে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্ত নিয়ম, মূল্য নির্ধারণ, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। এর মধ্যে আছে লিক মেরামত, কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন, আর ল্যান্ডফিল গ্যাস সংগ্রহ। অনেক সমাধান প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং তুলনামূলক কম খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মূল বাধা রাজনৈতিক সদিচ্ছা। মিথেন কমাতে গেলে শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠী ও পুরোনো চর্চার মুখোমুখি হতে হয়। গবেষণাটি সতর্ক করেছে—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্বল্পমেয়াদি উষ্ণতা আরও বাড়বে, এমনকি কার্বন লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকলেও।
জলবায়ু আলোচনায় মিথেন এখন এক ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্র—দ্রুত বাস্তব অগ্রগতি দেখানোর সুযোগ, নাকি আরেকটি হাতছাড়া সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

বিশ্বে মিথেন নিঃসরণ রেকর্ড উচ্চতায়—জলবায়ু লক্ষ্য নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

০৬:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জ্বালানি ও কৃষিই প্রধান উৎস
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী মিথেন নিঃসরণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দ্রুত মিথেন কমানো অত্যন্ত জরুরি। মিথেন স্বল্পমেয়াদে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে অনেক বেশি তাপ আটকে রাখে, ফলে এর নিঃসরণ কমালে দ্রুত জলবায়ু সুফল পাওয়া সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি খাত, কৃষি, ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকেই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে। তেল ও গ্যাস অবকাঠামো থেকে লিক হওয়া মিথেন বড় অবদান রাখছে, বিশেষ করে যেখানে নজরদারি দুর্বল। একই সঙ্গে খাদ্য চাহিদা বাড়ায় পশুপালন-নির্ভর কৃষি থেকেও নিঃসরণ বাড়ছে।
গবেষকদের মতে, মিথেন কমানো জলবায়ু পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়-সাশ্রয়ী, কিন্তু দেশভেদে অগ্রগতি অসম।
এখন কেন মিথেন গুরুত্বপূর্ণ
২০ বছরের হিসাবে মিথেন CO₂-এর তুলনায় অনেক বেশি তাপ ধরে রাখে। তাই এটি নিকট ভবিষ্যতের উষ্ণতা, চরম আবহাওয়া, ও বরফ গলার বড় চালক। বিজ্ঞানীদের যুক্তি—দীর্ঘমেয়াদি কার্বন হ্রাসের পাশাপাশি মিথেন কমালে দ্রুত গতি পাওয়া যাবে।
নতুন তথ্য বলছে, বর্তমান নীতিগুলো যথেষ্ট নয়। স্বেচ্ছামূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে সমান হারে কার্যকর হয়নি, আর প্রয়োগ দুর্বল। উন্নত পরিমাপ ও স্যাটেলাইট নজরদারি আগের অদৃশ্য লিকগুলো সামনে আনছে, যা চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
কিছু অগ্রগতি আছে। আধুনিক প্রযুক্তি নিঃসরণ শনাক্ত সহজ করেছে। তবে শনাক্ত হলেই সমাধান হয় না—সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব প্রয়োগে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্ত নিয়ম, মূল্য নির্ধারণ, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। এর মধ্যে আছে লিক মেরামত, কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন, আর ল্যান্ডফিল গ্যাস সংগ্রহ। অনেক সমাধান প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং তুলনামূলক কম খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মূল বাধা রাজনৈতিক সদিচ্ছা। মিথেন কমাতে গেলে শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠী ও পুরোনো চর্চার মুখোমুখি হতে হয়। গবেষণাটি সতর্ক করেছে—দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্বল্পমেয়াদি উষ্ণতা আরও বাড়বে, এমনকি কার্বন লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকলেও।
জলবায়ু আলোচনায় মিথেন এখন এক ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্র—দ্রুত বাস্তব অগ্রগতি দেখানোর সুযোগ, নাকি আরেকটি হাতছাড়া সুযোগ।