০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার নতুন সুযোগ—সুযোগ নাকি নতুন ফাঁদ? হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭ মসলাদার গরুর মাংসের টাকো বাটি যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন ব্যবহারের পথ খুলল চীন, বদলাল প্রতিরক্ষা আইন বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় বনে ছেড়ে দেওয়া ৯ ধীরলোরির ৭টিই মারা গেল ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ

ভেনিজুয়েলার তেলে নতুন সমীকরণ, শেভরনের চুক্তিতে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর লাভ

ভেনিজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত বদলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নতুনভাবে। শেভরনের সঙ্গে সংশোধিত চুক্তির ফলে সরাসরি নগদ অর্থ না গেলেও তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ওই ব্যবসায়ীর কোম্পানিই এখন সরকারের প্রাপ্য তেল বিক্রির প্রধান সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে।

নতুন চুক্তির পটভূমি
বাইডেন প্রশাসনের সময় শেভরন ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করত এবং সরকারের অংশের অর্থ নির্দিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবহৃত হতো। এতে সরকারি কোষাগার এড়িয়ে ব্যবসা ও আমদানিতে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে ওই লাইসেন্স বাতিল করেন এবং পরে শর্ত বদলে আবার অনুমতি দেন। নতুন ব্যবস্থায় শেভরন নগদ অর্থের বদলে উৎপাদিত তেলের একটি অংশ সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিকে হস্তান্তর করছে।

কারা পাচ্ছে মূল লাভ
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, শেভরনের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র থেকে সরকারের যে অংশের তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা বিক্রির সব চুক্তিই পাচ্ছে এক ব্যবসায়ী-নিয়ন্ত্রিত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। পানামার নাগরিক রামোন কারেতেরোর সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠান কয়েক মাসেই বিপুল অঙ্কের তেল বিক্রি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাকে মাদুরো পরিবারকে সহায়তার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।

ওয়াশিংটনের দ্বৈত কৌশল
একদিকে মাদুরো সরকারের অর্থ প্রবাহ বন্ধ করতে তেলবাহী জাহাজে অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে শেভরনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিচ্ছে। এতে শেভরনকে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের শর্ত মানতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা
রিপাবলিকানদের একাংশ দাবি করছে, নতুন ব্যবস্থায় মাদুরো সরকার সরাসরি লাভবান হবে না। তবে সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির মাধ্যমে যেকোনো চুক্তিই শেষ পর্যন্ত শাসক গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা ভুক্ত ব্যক্তির কোম্পানি যদি সরকারের তেল বিক্রির একচেটিয়া সুবিধা পায়, তাহলে নীতির মূল উদ্দেশ্য প্রশ্নের মুখে পড়ে।

শেভরনের অবস্থান
শেভরনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা চুক্তির শর্ত নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে প্রভাব
ভেনেজুয়েলায় দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করে শেভরন, যা দেশটির অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে আছে। আগের ব্যবস্থায় এই কার্যক্রম সীমিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছিল। এখন নতুন চুক্তির বাস্তব প্রভাব কতটা জনগণের জীবনে পড়বে, নাকি কেবল ক্ষমতাসীনদের চারপাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

#ভেনেজুয়েলা #তেলরাজনীতি #শেভরন #মাদুরো #যুক্তরাষ্ট্রনীতি #আন্তর্জাতিকসংকট #জ্বালানিবাণিজ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার নতুন সুযোগ—সুযোগ নাকি নতুন ফাঁদ?

ভেনিজুয়েলার তেলে নতুন সমীকরণ, শেভরনের চুক্তিতে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর লাভ

০৪:০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ভেনিজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত বদলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নতুনভাবে। শেভরনের সঙ্গে সংশোধিত চুক্তির ফলে সরাসরি নগদ অর্থ না গেলেও তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ওই ব্যবসায়ীর কোম্পানিই এখন সরকারের প্রাপ্য তেল বিক্রির প্রধান সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছে।

নতুন চুক্তির পটভূমি
বাইডেন প্রশাসনের সময় শেভরন ভেনেজুয়েলায় উৎপাদিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করত এবং সরকারের অংশের অর্থ নির্দিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবহৃত হতো। এতে সরকারি কোষাগার এড়িয়ে ব্যবসা ও আমদানিতে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে ওই লাইসেন্স বাতিল করেন এবং পরে শর্ত বদলে আবার অনুমতি দেন। নতুন ব্যবস্থায় শেভরন নগদ অর্থের বদলে উৎপাদিত তেলের একটি অংশ সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিকে হস্তান্তর করছে।

কারা পাচ্ছে মূল লাভ
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, শেভরনের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র থেকে সরকারের যে অংশের তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা বিক্রির সব চুক্তিই পাচ্ছে এক ব্যবসায়ী-নিয়ন্ত্রিত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। পানামার নাগরিক রামোন কারেতেরোর সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিষ্ঠান কয়েক মাসেই বিপুল অঙ্কের তেল বিক্রি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাকে মাদুরো পরিবারকে সহায়তার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।

ওয়াশিংটনের দ্বৈত কৌশল
একদিকে মাদুরো সরকারের অর্থ প্রবাহ বন্ধ করতে তেলবাহী জাহাজে অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে শেভরনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দিচ্ছে। এতে শেভরনকে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের শর্ত মানতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা
রিপাবলিকানদের একাংশ দাবি করছে, নতুন ব্যবস্থায় মাদুরো সরকার সরাসরি লাভবান হবে না। তবে সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির মাধ্যমে যেকোনো চুক্তিই শেষ পর্যন্ত শাসক গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা ভুক্ত ব্যক্তির কোম্পানি যদি সরকারের তেল বিক্রির একচেটিয়া সুবিধা পায়, তাহলে নীতির মূল উদ্দেশ্য প্রশ্নের মুখে পড়ে।

শেভরনের অবস্থান
শেভরনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা চুক্তির শর্ত নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে প্রভাব
ভেনেজুয়েলায় দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করে শেভরন, যা দেশটির অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে আছে। আগের ব্যবস্থায় এই কার্যক্রম সীমিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছিল। এখন নতুন চুক্তির বাস্তব প্রভাব কতটা জনগণের জীবনে পড়বে, নাকি কেবল ক্ষমতাসীনদের চারপাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

#ভেনেজুয়েলা #তেলরাজনীতি #শেভরন #মাদুরো #যুক্তরাষ্ট্রনীতি #আন্তর্জাতিকসংকট #জ্বালানিবাণিজ্য