১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে?

পাহাড়ে গড়া স্বপ্ন ভেঙে দিল ঘূর্ণিঝড়, ক্যান্ডিতে এক পরিবারের নীরব শোক

শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডির পাহাড়ি গ্রামে একসময় ছিল চারটি ঘর, মাঝখানে পুরনো আমগাছ আর ছোট পারিবারিক উপাসনালয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেখানে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়েছে একটি পরিবার। গত মাসের শেষ দিকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সেই সবকিছু মুহূর্তে মুছে দেয়। পাহাড় ধসে কাদা আর পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায় গোটা জনপদ।

ঝড়ের রাতে শেষ ফোন
ঝড় আসার সন্ধ্যায় কলম্বো শহরে রাঁধুনির কাজ করা শিবকুমার গোপাল ফোন করেছিলেন বোন দয়াবতী গোপালকে। বাড়িতে তখন চা বানানো হচ্ছিল, সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। এর পর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ি গ্রামটি কাদার নিচে চাপা পড়ে। অক্ষত থাকে শুধু একটি ঘরের অংশ আর সেই পুরোনো আমগাছ।

কাদার নিচে চাপা জীবন
প্রথমে উদ্ধার হয় দয়াবতীর স্বামী মুতাাইয়া নাগারা জাহের মরদেহ। বাকি সদস্যদের খোঁজে দিনের পর দিন চলে খনন। অর্থের অভাবে কাজ থেমে যাওয়ার উপক্রম হলেও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনুদানে আবার শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। সেনাসদস্যদের সহায়তায় ধীরে ধীরে উঠে আসে ঘরের জিনিসপত্র, রান্নার বাসন, ভাঙা টাইলস। প্রতিটি মুহূর্তে শিবকুমার বুঝতে চাইছিলেন, কোনটি তার বোনের শেষ চিহ্ন।

শোকের চূড়ান্ত মুহূর্ত
পাঁচ দিনের মাথায় প্রথমে পাওয়া যায় ছয় বছরের রোশন। কিছুক্ষণ পর কাদা সরাতেই উঠে আসে দয়াবতী গোপাল ও তার কন্যা কৃষান্তির নিথর দেহ। শেষ মুহূর্তে যেন তারা একে অপরের দিকে এগোতে চেয়েছিল। দৃশ্যটি দেখে ভেঙে পড়েন পরিবারের সবাই। বড় মেয়ে সারান্যা কান্নায় চিৎকার করে মাকে ডাকতে থাকেন, আরেকজন বোন জ্ঞান হারান।

আমগাছের ছায়ায় শেষ বিদায়
যে আমগাছ একসময় পরিবারের প্রথম শোকের সাক্ষী ছিল, তার পাশেই খোঁড়া হয় বড় কবর। একে একে মায়ের পাশে মেয়ে, আর মাঝখানে ছোট রোশনকে শায়িত করা হয়। ধূপ জ্বালিয়ে শেষ প্রার্থনা জানিয়ে কবরস্থান ছেড়ে বেরিয়ে আসে পরিবার। সামনে কী অপেক্ষা করছে, কেউ জানে না। পাহাড়ের সেই গ্রাম এখন কেবল স্মৃতি।

#শ্রীলঙ্কা #ঘূর্ণিঝড় #ক্যান্ডি #পাহাড়ধস #মানবিকট্র্যাজেডি #প্রাকৃতিকদুর্যোগ

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক

পাহাড়ে গড়া স্বপ্ন ভেঙে দিল ঘূর্ণিঝড়, ক্যান্ডিতে এক পরিবারের নীরব শোক

০৪:১৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডির পাহাড়ি গ্রামে একসময় ছিল চারটি ঘর, মাঝখানে পুরনো আমগাছ আর ছোট পারিবারিক উপাসনালয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেখানে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়েছে একটি পরিবার। গত মাসের শেষ দিকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সেই সবকিছু মুহূর্তে মুছে দেয়। পাহাড় ধসে কাদা আর পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায় গোটা জনপদ।

ঝড়ের রাতে শেষ ফোন
ঝড় আসার সন্ধ্যায় কলম্বো শহরে রাঁধুনির কাজ করা শিবকুমার গোপাল ফোন করেছিলেন বোন দয়াবতী গোপালকে। বাড়িতে তখন চা বানানো হচ্ছিল, সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। এর পর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ি গ্রামটি কাদার নিচে চাপা পড়ে। অক্ষত থাকে শুধু একটি ঘরের অংশ আর সেই পুরোনো আমগাছ।

কাদার নিচে চাপা জীবন
প্রথমে উদ্ধার হয় দয়াবতীর স্বামী মুতাাইয়া নাগারা জাহের মরদেহ। বাকি সদস্যদের খোঁজে দিনের পর দিন চলে খনন। অর্থের অভাবে কাজ থেমে যাওয়ার উপক্রম হলেও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনুদানে আবার শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। সেনাসদস্যদের সহায়তায় ধীরে ধীরে উঠে আসে ঘরের জিনিসপত্র, রান্নার বাসন, ভাঙা টাইলস। প্রতিটি মুহূর্তে শিবকুমার বুঝতে চাইছিলেন, কোনটি তার বোনের শেষ চিহ্ন।

শোকের চূড়ান্ত মুহূর্ত
পাঁচ দিনের মাথায় প্রথমে পাওয়া যায় ছয় বছরের রোশন। কিছুক্ষণ পর কাদা সরাতেই উঠে আসে দয়াবতী গোপাল ও তার কন্যা কৃষান্তির নিথর দেহ। শেষ মুহূর্তে যেন তারা একে অপরের দিকে এগোতে চেয়েছিল। দৃশ্যটি দেখে ভেঙে পড়েন পরিবারের সবাই। বড় মেয়ে সারান্যা কান্নায় চিৎকার করে মাকে ডাকতে থাকেন, আরেকজন বোন জ্ঞান হারান।

আমগাছের ছায়ায় শেষ বিদায়
যে আমগাছ একসময় পরিবারের প্রথম শোকের সাক্ষী ছিল, তার পাশেই খোঁড়া হয় বড় কবর। একে একে মায়ের পাশে মেয়ে, আর মাঝখানে ছোট রোশনকে শায়িত করা হয়। ধূপ জ্বালিয়ে শেষ প্রার্থনা জানিয়ে কবরস্থান ছেড়ে বেরিয়ে আসে পরিবার। সামনে কী অপেক্ষা করছে, কেউ জানে না। পাহাড়ের সেই গ্রাম এখন কেবল স্মৃতি।

#শ্রীলঙ্কা #ঘূর্ণিঝড় #ক্যান্ডি #পাহাড়ধস #মানবিকট্র্যাজেডি #প্রাকৃতিকদুর্যোগ