০২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
এআই চাহিদায় তেজি টিএসএমসি, প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ ক্যাটসআই: পর্দার বাইরে গড়া এক উন্মাদনা, নতুন যুগের মেয়েদের দলে ভক্তির নতুন ভাষা হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম

বন্ডাই সৈকতে রক্তাক্ত হনুকা: শান্তির খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় এসে সহিংসতার মুখে ইসরায়েলি পরিবার

ইসরায়েল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার সময় পরিবারটি ভেবেছিল যুদ্ধের শব্দ পেছনে ফেলে শান্ত জীবনে ঢুকছে তারা। ছোট মেয়ের মুখে তখন একটাই প্রশ্ন ছিল, আর কোনো সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ কি শুনতে হবে না। বাবার আশ্বাস ছিল, নতুন দেশে আর ভয় থাকবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় বন্ডাই সৈকতে।

শান্তির খোঁজে নতুন জীবন
ইসরায়েল ছেড়ে সিডনিতে আসার পেছনে ছিল একটাই আশা, সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের শৈশবকে যেন গ্রাস না করে। নতুন চাকরি, নতুন সমাজ আর দূরে যুদ্ধ—এই ছিল পরিকল্পনা।

উৎসবের দিনে নেমে আসে আতঙ্ক
হনুকা উৎসব উদ্‌যাপন করতে পরিবারের সঙ্গে বন্ডাই সৈকতে জড়ো হয়েছিলেন তারা। আলো জ্বালানোর মুহূর্তে খাবার আনতে কিছুটা দূরে যেতেই চারদিক কাঁপিয়ে গুলির শব্দ। মুহূর্তেই উৎসব বদলে যায় মৃত্যুভয়ে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াই
পরিবারের কাছে ফিরতে দৌড়ানোর সময় মাথায় গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রীকে শেষ বিদায়ের মতো ভালোবাসার বার্তা পাঠাতে হয়, বাঁচবেন কি না তখন অনিশ্চিত। পাশে পড়ে থাকে আহত ও নিথর দেহ, চারদিকে আতঙ্ক আর চিৎকার।

পরিবারের বেঁচে ফেরা
প্রায় পনেরো মিনিট পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। স্ত্রী ও সন্তানরা অক্ষত অবস্থায় কাছের এক ক্লাবে আশ্রয় নিয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানান, কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধানে জীবন রক্ষা পেয়েছে, একে তারা অলৌকিক বলেই দেখছেন।

বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা
এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি পরিবারের নয়, অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা ইহুদি বিদ্বেষের ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘৃণার ভাষা, হুমকি আর হামলার ঘটনা বাড়ছিল। বারবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। বন্ডাইয়ের ঘটনা সেই অবহেলারই রক্তাক্ত ফল।

আইন প্রয়োগের আহ্বান
এই পরিস্থিতিতে নতুন তদন্ত বা কাগুজে আশ্বাস নয়, কঠোর আইন প্রয়োগ আর সহিংস উসকানির বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘৃণাকে উপেক্ষা করলে তা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়—এই বার্তাই আবার সামনে এসেছে।

অন্ধকারে মানবতার আলো
সব ভয়াবহতার মাঝেও আশা দেখিয়েছেন সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানরা। কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই তারা আহতদের সাহায্যে ছুটে গেছে, রক্তপাত থামিয়েছে, নিজের শরীর দিয়ে অপরিচিত মানুষকে আড়াল করেছে। এই মানবতাই দেশটির আসল পরিচয় বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

আলো রক্ষার প্রতিজ্ঞা
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে হনুকার আলো জ্বালানোর সময় এক বাবা আবার নিজের মেয়েদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করেন। আলো আপনাআপনি টিকে থাকে না, তাকে রক্ষা করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হলে এই মুহূর্তই পরিবর্তনের ডাক।

#বন্ডাইসৈকতহামলা #হনুকাউৎসব #অস্ট্রেলিয়াসংবাদ #বিদ্বেষবিরোধীবার্তা #মানবতারআলো #শান্তিরখোঁজ

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই চাহিদায় তেজি টিএসএমসি, প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ

বন্ডাই সৈকতে রক্তাক্ত হনুকা: শান্তির খোঁজে অস্ট্রেলিয়ায় এসে সহিংসতার মুখে ইসরায়েলি পরিবার

১২:২০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ইসরায়েল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার সময় পরিবারটি ভেবেছিল যুদ্ধের শব্দ পেছনে ফেলে শান্ত জীবনে ঢুকছে তারা। ছোট মেয়ের মুখে তখন একটাই প্রশ্ন ছিল, আর কোনো সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ কি শুনতে হবে না। বাবার আশ্বাস ছিল, নতুন দেশে আর ভয় থাকবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় বন্ডাই সৈকতে।

শান্তির খোঁজে নতুন জীবন
ইসরায়েল ছেড়ে সিডনিতে আসার পেছনে ছিল একটাই আশা, সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের শৈশবকে যেন গ্রাস না করে। নতুন চাকরি, নতুন সমাজ আর দূরে যুদ্ধ—এই ছিল পরিকল্পনা।

উৎসবের দিনে নেমে আসে আতঙ্ক
হনুকা উৎসব উদ্‌যাপন করতে পরিবারের সঙ্গে বন্ডাই সৈকতে জড়ো হয়েছিলেন তারা। আলো জ্বালানোর মুহূর্তে খাবার আনতে কিছুটা দূরে যেতেই চারদিক কাঁপিয়ে গুলির শব্দ। মুহূর্তেই উৎসব বদলে যায় মৃত্যুভয়ে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াই
পরিবারের কাছে ফিরতে দৌড়ানোর সময় মাথায় গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রীকে শেষ বিদায়ের মতো ভালোবাসার বার্তা পাঠাতে হয়, বাঁচবেন কি না তখন অনিশ্চিত। পাশে পড়ে থাকে আহত ও নিথর দেহ, চারদিকে আতঙ্ক আর চিৎকার।

পরিবারের বেঁচে ফেরা
প্রায় পনেরো মিনিট পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। স্ত্রী ও সন্তানরা অক্ষত অবস্থায় কাছের এক ক্লাবে আশ্রয় নিয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানান, কয়েক মিলিমিটারের ব্যবধানে জীবন রক্ষা পেয়েছে, একে তারা অলৌকিক বলেই দেখছেন।

বিদ্বেষ থেকে সহিংসতা
এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি পরিবারের নয়, অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা ইহুদি বিদ্বেষের ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘৃণার ভাষা, হুমকি আর হামলার ঘটনা বাড়ছিল। বারবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। বন্ডাইয়ের ঘটনা সেই অবহেলারই রক্তাক্ত ফল।

আইন প্রয়োগের আহ্বান
এই পরিস্থিতিতে নতুন তদন্ত বা কাগুজে আশ্বাস নয়, কঠোর আইন প্রয়োগ আর সহিংস উসকানির বিরুদ্ধে বাস্তব ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘৃণাকে উপেক্ষা করলে তা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়—এই বার্তাই আবার সামনে এসেছে।

অন্ধকারে মানবতার আলো
সব ভয়াবহতার মাঝেও আশা দেখিয়েছেন সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানরা। কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই তারা আহতদের সাহায্যে ছুটে গেছে, রক্তপাত থামিয়েছে, নিজের শরীর দিয়ে অপরিচিত মানুষকে আড়াল করেছে। এই মানবতাই দেশটির আসল পরিচয় বলে মনে করেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

আলো রক্ষার প্রতিজ্ঞা
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে হনুকার আলো জ্বালানোর সময় এক বাবা আবার নিজের মেয়েদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করেন। আলো আপনাআপনি টিকে থাকে না, তাকে রক্ষা করতে হয়। অস্ট্রেলিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হলে এই মুহূর্তই পরিবর্তনের ডাক।

#বন্ডাইসৈকতহামলা #হনুকাউৎসব #অস্ট্রেলিয়াসংবাদ #বিদ্বেষবিরোধীবার্তা #মানবতারআলো #শান্তিরখোঁজ